ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Saturday, September 29, 2018

মানুষ

কাজের জন্য ভবে এসে
করলা শুধু কাম
মানুষ রূপে ভবে এসে
দিলা কি তার দাম?

সৃষ্টির সেরা জীব করিয়া
পাঠাইলো এ ভবে
এমন স্বরূপ হবে জানলে
পাঠাইতো কি তবে?

পাঠাইলা ভবে, মানুষের জন্য
করতে হবে কাজ
হানা-হানি, হিংসা-বিদ্বেষ
করছে কি মানুষ আজ?

মানুষের তরে মানুষ হোক
প্রেম লিলা যত কর্ম
জীবের প্রতি ভালোবাসা হোক
আজ মানুষের ধর্ম।

অধম জুয়েল বলে, হোক
মানুষ মানবতার জন্য
ধন-দৌলত, লোভ লালসা
সব হোক আজ নগণ্য।

Friday, September 28, 2018

ভবনদী

পান করিও সব সময়
এক ঘাটেরই জল
থাকবে সুস্থ্য লাগবে ভালো
পাবে তাহার ফল।
ঘাটে ঘাটে ঘুরে যদি
বদলাও তুমি প্রেমো নদী
পাবে না জীবণ অবধি
প্রেমো সুধা জল।
পার হওয়া সহজ নয়গো
ওটা হলো ভবনদী
পাড়ি দিতে সহজ হবে
দিব্য জ্ঞান থাকে যদি।
এই নদীতে বান আসেরে
রক্ত স্রোত তখনই বয়
শক্ত হাতে ধরলে বৈঠা
তোমার নেইযে কোন ভয়।
সেই নদীটার বয়স হলে
পাড় শুকায়, শুকায় পানি
যৌবনেতেই নৌকা নিয়ে
করে সবে দাড় টানাটানি।
অধম জুয়েল বলে,
ভব নদীর পাড়ে এসো
ভক্তি নিয়ে আজলা ভরে
পান করো পানি, ভালোবাসো।
হলে লোভী কামী, বহুগামী
মানুষ কেউ বলবে না
তোমার সাথে কুকুড়েরও
তুলনা কেউ করবে না।

Tuesday, September 25, 2018

মানুষ হও

মানুষ রুপে জন্ম দিলে 
দেখতে দিব্যি মানুষ
কথা কাজে মিল পাই না
শুধুই কথার ফানুষ।
মুখে সদা ধর্মের কথা
সুন্নত রাখে জিন্দা
কাজে দেখি ভিন্নতা
প্রতারণা চিন্তা।
পরের ধনে লোভ দেখি
দেখি করে ধান্দা
লুটে নেয় সবকিছু
বাছেনা লুলা-আন্ধা।
ভাব দেখায় এমন তিনি
স্রষ্টার সহি বান্দা
কাজের বেলায় দেখি তাকে
ভন্ড, চতুর, নাখান্দা।
অন্যের অনিষ্ট করে
ধণের বোঝা বৃদ্ধি করে
খাচ্ছো মানুষ ধরে ধরে
ভালো মানুষ সাজছো পরে।
জায়গা পাবে নর্দমাতে
হাটবে নিকষ কালো রাতে
থাকবে না কেউ তোমার সাথে
খাটলে শুধুই দিনে রাতে।
বিদায় ঘন্টা বাজবে যেদিন
কথাটা রেখো মনে
তোমায় আগলে রাখবে নাকো
তোমার জমা ধণে।
অধম জুয়েল বলে
থাকতে সময় হাতে
আলোর সঞ্চয় করো তুমি
আলো তোমায় পথ দেখাবে রাতে।

বাণী!!!

নদীর পার ভাঙ্গার সাথে
কারো কপালও ভাঙ্গে
নদীর পার গড়ার সাথে
কারো কপালও গড়ে।

ভাঙ্গা-গড়া সবসময়ই
চলে জীবণ খেলায়
কষ্ট পাবে দেখ তুমি
ভাঙ্গে যদি শেষ বেলায়।

অধম জুয়েল বলে,
থাকতে সময় গুটালি হাত
সূর্য উঠবেই জানিস
পোহাইলে কালো রাত।

পদ্মার ভাঙ্গন নিয়ে ভাঙ্গা পদ্য

১।
নদী খাচ্ছে ভ‚মি
খাচ্ছে দালান বাড়ি
বাপের ভিটা ছেড়ে দিলাম
নিরুদ্দেশে পাড়ি।

২।
নদীর ¯্রােতের সাথে
ভাঙ্গছে কপাল নেতার
কেউ ভাবছে এবারই
সুযোগ ভোটে জেতার।

৩।
ভাঙ্গন দেখতে প্রতিদিন
আসে হাজার লোক
কেউ দেখে রঙ্গ-তামাশা
কেউ জানায় শোক।

৪।
নেতা-মন্ত্রী, আমলা-ফইলা
এসে দেয় বিবৃতি
তাতে কি ভোলা যায়
ফেলে আসা স্মৃতি?

টান

ভাঙ্গছে নড়িয়া-জাজিরা, টান পড়ে নাড়িতে
এখন কেবলই স্মৃতি, থাকতাম ঐ বাড়িতে।
খেলতাম ঐ মাঠে, চড়তাম ঐ গাছে
খেয়েছে পদ্মা, আজ স্মৃতিই শুধু আছে।
পড়তাম ঐ স্কুলে, মাদ্রাসায়, মক্তবে
বাপের ভিটা ছেড়ে যাওয়া শক্ত এই ভবে!
মসজিদে সালাত আদায়, মন্দিরে প্রার্থনা
দুষ্ট ছিলাম, বড়রা তাই ভাবতো যন্ত্রনা!
হাট-বাজার, চাষের জমি, বাগান-ভিটা যত
সব নিয়েছে পদ্মা কেড়ে, রেখে গেছে ক্ষত।
সব গেছে যে পদ্মার পেটে, রইলো না আর কিছু
বার বার নিলো সহায় কেড়ে, ছাড়ছে না যে পিছু।
প্রকৃতির নিয়মে চলে, ভাঙ্গা গড়ার খেলা
প্রতিরোধের কথা বলেই, কাটিয়ে দিলো বেলা!
নিঃস্ব হওয়ার পরে তোমরা, দেখতে আসো লীলা
নেতা নও, অভিনেতা তুমি, দেখছি তোমার খেলা।

Wednesday, September 5, 2018

আজ আমার ছোট্ট মায়ের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মা... প্রিয়ন্তী


আজ আমার ছোট্ট মায়ের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মা... প্রিয়ন্তী

মা। ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু এই শব্দের ক্ষমতা, ব্যাপকতা, মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা, আবেগ, আবেদন অনেক বেশি। আমার কাছে মা শব্দটা একটা পৃথিবীর মত। বাকি সব আরেক পৃথিবী।


অনেকদিন হয়ে গেছে মা হারিয়েছি। সেই ৩০ মার্চ ২০১২ সালের শেষ রাতে। দীর্ঘদিন মা ডাকতে পারিনি। ডাকলেও মা সাড়া দেয়নি। দীর্ঘ দিন পার করে ফেলেছি, কিন্তু মা হারানোর ব্যাথা ভুলতে পারিনি, আর জীবনে পারবো বলেও মনে হয় না তবুও জীবন জীবনের নিয়মে চলতে থাকেআমিও চলছি। থেমে নেই কিছুই। 

এর পর আবার মা পেয়েছি। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখ। আমাদের কোল আলো করে আসে আমাদের মেয়ে যাকে মা বলেই ডাকি সেই রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী। সেদিন মেয়েকে কোলে নিয়ে আমি যেন আবার আমার মাকেই ফিরে পেয়েছিলাম, আমি কেদে ফেলেছিলাম। ছোট্ট ছোট্ট হাত পা। নেড়েচেড়ে খেলা করে, হাসে, কাদে। দেখে গর্বে বুকটা ভরে উঠতো। এর পর দিন যেতে যেতে এখন সেই ছোট্ট মা ডাকলে সাড়া দেয়, আদর দেয়, আদর নেয়।

আমার ছোট্ট মা আমার খেয়াল করে মায়ের মতই, মাঝে মাঝে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়, খাওয়ার সময় শাসন করে বলে, শেষটুকু খেতে হয়, নইলে বড় হবা না। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি আর কত বড় হব মা? প্রিয়ন্তী বলে, ফুপির মা নেই, ফুপির মা মারা গেছে। কিন্তু আমার মা কি আছে জিজ্ঞেস করলে বলে, আছে, এই যে আমি তোমার মা!
 

আজ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আমার ছোট্ট মা রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী চার বছর পূর্ণ হলো। আমার ছোট্ট মা পঞ্চম বছরে পা দিলো। আমি সব সময় দোয়া করি ও যেন মানুষের মত মানুষ হয়, ও যেন মানবতাবাদী হয়, ও যেন পরোপকারি হয়, ও যেন ভদ্র হয়, সভ্য হয়।


সবাই দোয়া করবেন আমার ছোট্ট মায়ের জন্য।



Friday, August 31, 2018

কয়লা ধুলে সিস্টেম লস হয়!


কয়লা ধুলেও নাকি ময়লা যায় না। কিন্তু কয়লা ধুয়ে ধুয়ে আমাদের দেশে যে পরিমান কমে তাকে সিস্টেম লস বলা হয়!

কয়লার অভাবে গত জুলাই মাসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়। বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলত

কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানপ্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেমামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেনকিন্তু মামলার আসামি সাবেক এমডি হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, কয়লা চুরি বা দুর্নীতি হয়নিযেটুকু কয়লা গায়েব হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটুকু প্রকৃত অর্থে সিস্টেম লস। আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে, তার পরিমাণ দশমিক শতাংশের বেশি হবে না, অথচ আন্তর্জাতিকভাবে থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।



চোরের মায়ের বড় গলা শুনেছি। কিন্তু চোরের গলা এত বড় আগে কখনো দেখিনি শুনিওনি। ২৩০ কোটি টাকার কয়লা বিক্রি করে খেয়ে কিভাবে যে বলে কয়লা উবে গেছে! আসলে কয়লা উবে গেছে না আমাদের নীতি নৈতিকতা, আদর্শ, বিবেক উবে গেছে সেটাই এখন বিবেচ্য বিবেচ্য বিষয়। কয়লা উত্তোলনের পর থেকে বছর বছর কি পরিমান কয়লা উবে গেলো তার হিসাব বছর বছরই করা এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিৎ ছিল। এত পরিমান কয়লা উধাউ হওয়ার পর যদি বলা হয় কয়লা উবে গেছে তা সরকার বুঝুক বা না বুঝুক জনগণ কি বুঝবে?   

আমাদের অর্থনীতির আমানতস্থল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে রিজার্ভের টাকা চুরি হয়ে যায়, কোষাগারে জাল টাকা ধরা পরে, স্বর্ণের পরিমানে ও কোয়ালিটিতে ঘাটতি ধরা পরে। এ নিয়ে কয়েকদিন মাতামাতি হয়। এরপর হয় সরকার তার পিঠ বাঁচাতে যেন তেন একটা তদন্ত করে অথবা অভিযুক্তরা খোয়া যাওয়া সম্পদের ভাগ দিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে দেয়। আমরা যারা আম জনতা তারা কয়েকদিন সমালোচনা করে আবার নতুন কোন ইস্যূ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরি। অবশ্য এছাড়া আমাদের আর কিছু করণীয়ও থাকে না। আমাদের করনীয় যেটা সেটাইতো আমরা যথাসময়ে যথাযথ ভাবে করতে পারি না। আমরা ব্যর্থ হই নেতা নির্বাচনে, আমরা ব্যর্থ হই জবাবদিহিতা আদায়ে, আমরা প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হই প্রতিবাদে।

আমাদের উচিত সিস্টেমকে পরিবর্তন করা এবং সিস্টেমকে আপগ্রেড করা। যে সিস্টেমের কারনে ২৩০ কোটি টাকার কয়লা উবে যায় বা সিস্টেম লস হয় সেই সিস্টেমের পরিবর্তে নতুন সিস্টেম চালু করা প্রয়োজন যাতে লুট হয়ে না যায়। যে সিস্টেমের কারনে সোনায় খাদ পাওয়া যায় সে সিস্টেম চাই না। যে সিস্টেমের কারনে রিজার্ভের টাকা গায়েব হয়ে যায়, যে সিস্টেমের করনে রিজার্ভে জাল টাকা পাওয়া যায় সেই সিস্টেম বদলানো এখন জরুরী। রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিনীত অনুরোধ, সিস্টেম বদলান, নয়তো আপনারাই একদিন বদলে যাবেন! জনগন সব বোঝে, তারা বোকা নয়, তাদের চোখে ধুলা দিবেন না, চোখ থেকে ধুলা একসময় সরবেই। তখন আর কোন উপায় থাকবে না। কথাগুলো শুধুযে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগন বলছে তা কিন্তু নয়, যারা রাষ্ট্রের চালকের আসনে বসতে চান বা স্বপ্ন দেখেন তারাও সতর্ক হন। অতীতে যা করেছেন তার ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি করবেন তা ভালো ভাবে ভেবে চিন্তে তবেই স্বপ্ন দেখুন। আর ভুলে গেলে চলবে না, কয়লার গর্ভে আছে আগুন। আগুন সবাকিছুকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে।