ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Sunday, December 19, 2010

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯

[Home] [Act List]

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯

( ২০০৯ সনের ২০ নং আইন )

[এপ্রিল ৬, ২০০৯]
তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হইলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাইবে, দুর্নীতি হ্রাস পাইবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে; এবং

যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লৰ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিমড়বরূপ আইন করা হইল :-
সূচী
ধারাসমূহ

প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন৷
২৷ সংজ্ঞা৷
৩৷ আইনের প্রাধান্য
দ্বিতীয় অধ্যায়
তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি
৪৷ তথ্য অধিকার৷
৫৷ তথ্য সংরক্ষণ৷
৬৷ তথ্য প্রকাশ৷
৭৷ কতিপয় তথ্য প্রকাশ বা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়৷
৮৷ তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ৷
৯৷ তথ্য প্রদান পদ্ধতি৷
তৃতীয় অধ্যায়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
১০৷ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৷
চতুর্থ অধ্যায়
তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
১১৷ তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা৷
১২৷ তথ্য কমিশন গঠন৷
১৩৷ তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলী৷
১৪৷ বাছাই কমিটি৷
১৫৷ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি৷
১৬৷ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের অপসারণ৷
১৭৷ তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি৷
১৮৷ তথ্য কমিশনের সভা৷
পঞ্চম অধ্যায়
তথ্য কমিশনের আর্থিক বিষয়াদি
১৯৷ তথ্য কমিশন তহবিল৷
২০৷ বাজেট৷
২১৷ তথ্য কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা৷
২২৷ হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা৷
ষষ্ঠ অধ্যায়
তথ্য কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী
২৩৷ তথ্য কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী৷
সপ্তম অধ্যায়
আপীল, অভিযোগ, ইত্যাদি
২৪৷ আপীল, নিস্পত্তি ইত্যাদি৷
২৫৷ অভিযোগ দায়ের, নিস্পত্তি ইত্যাদি ৷
২৬৷ প্রতিনিধিত্ব৷
২৭৷ জরিমানা, ইত্যাদি৷
২৮৷ Limitation Act, 1908এর প্রয়োগ৷
২৯৷ মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা৷
অষ্টম অধ্যায়
বিবিধ
৩০৷ তথ্য কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন৷
৩১৷ সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ৷
৩২। কতিপয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নহে
৩৩৷ বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা৷
৩৪৷ প্রবিধান প্রণয়ন ক্ষমতা৷
৩৫৷ অস্পষ্টতা দূরীকরণ৷
৩৬৷ ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ৷
৩৭। রহিতকরণ ও হেফাজত
তফসিল

Copyright®2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs








তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯

( ২০০৯ সনের ২০ নং আইন )
[এপ্রিল ৬, ২০০৯]
তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হইলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাইবে, দুর্নীতি হ্রাস পাইবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে; এবং

যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লৰ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিমড়বরূপ আইন করা হইল :-


প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
১।(১) এই আইন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই আইনের -

(ক) ধারা ৮, ২৪ এবং ২৫ ব্যতিত অন্যান্য ধারা ২০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং

(খ) ৮, ২৪ এবং ২৫ ধারা ১লা জুলাই, ২০০৯ তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।





সংজ্ঞা
২। -বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে, এই আইনে -

(ক) "আপীল কর্তৃপক্ষ" অর্থ -

(অ) কোন তথ্য প্রদান ইউনিটের ৰেত্রে উক্ত ইউনিটের অব্যবহিত ঊধর্্বতন কার্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান; অথবা

(আ) কোন তথ্য প্রদান ইউনিটের ঊধর্্বতন কার্যালয় না থাকিলে, উক্ত তথ্য প্রদান ইউনিটের প্রশাসনিক প্রধান;

(খ) "কর্তৃপক্ষ" অর্থ -

(অ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সৃষ্ট কোন সংস্থা;

(আ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কার্য বিধিমালার অধীন গঠিত সরকারের কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়;

(ই) কোন আইন দ্বারা বা উহার অধীন গঠিত কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(ঈ) সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত বা সরকারী তহবিল হইতে সাহায্যপুষ্ট কোন বেসরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(উ) বিদেশী সাহায্যপুষ্ট কোন বেসরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(ঊ) সরকারের পৰে অথবা সরকার বা সরকারী কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক সরকারী কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন বেসরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান; বা

(ঋ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান;

(গ) "কর্মকর্তা" অর্থে কর্মচারীও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঘ) "তথ্য প্রদান ইউনিট" অর্থ :-

(অ) সরকারের কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কার্যালয়ের সহিত সংযুক্ত বা অধীনস্থ কোন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর বা দপ্তরের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা কার্যালয় বা উপজেলা কার্যালয়;

(আ) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা কার্যালয় বা উপজেলা কার্যালয়;

(ঙ) "তথ্য কমিশন" অর্থ ধারা ১১ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত তথ্য কমিশন;

(চ) "তথ্য" অর্থে কোন কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড সংক্রান্ত যে কোন স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগ বহি, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনা, পত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অংকিতচিত্র, ফিল্ম, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত যে কোন ইনস্ট্রুমেন্ট, যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে অন্য যে কোন তথ্যবহ বস্তু বা উহাদের প্রতিলিপিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, দাপ্তরিক নোট সিট বা নোট সিটের প্রতিলিপি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(ছ) "তথ্য অধিকার" অর্থ কোন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার;

(জ) "তফসিল" অর্থ এই আইনের তফসিল;

(ঝ) "তৃতীয় পৰ" অর্থ তথ্য প্রাপ্তির জন্য অনুরোধকারী বা তথ্য প্রদানকারী কতর্ৃপৰ ব্যতীত অনুরোধকৃত তথ্যের সহিত জড়িত অন্য কোন পৰ;

(ঞ) "দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা" অর্থ ধারা ১০ এর অধীন নিযুক্ত কর্মকর্তা;

(ট) "নির্ধারিত" অর্থ বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(ঠ) "প্রবিধান" অর্থ ধারা ৩৪ এর অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান;

(ড) "বাছাই কমিটি" অর্থ ধারা ১৪ এর অধীন গঠিত বাছাই কমিটি;

(ঢ) "বিধি" অর্থ ধারা ৩৩ এর অধীন প্রণীত কোন বিধি।





আইনের প্রাধান্য
৩৷ প্রচলিত অন্য কোন আইনের -

(ক) তথ্য প্রদান সংক্রান্ত বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলী দ্বারা ক্ষুণ্ন হইবে না; এবং

(খ) তথ্য প্রদানে বাধা সংক্রান্ত বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সাংঘর্ষিক হইলে, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে৷



দ্বিতীয় অধ্যায়
তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি

তথ্য অধিকার
৪৷ এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে৷





তথ্য সংরক্ষণ
৫৷ (১) এই আইনের অধীন তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করিয়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে৷
(২) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ যেই সকল তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণের উপযুক্ত বলিয়া মনে করিবে সেই সকল তথ্য, যুক্তিসংগত সময়সীমার মধ্যে, কম্পিউটারে সংরক্ষণ করিবে এবং তথ্য লাভের সুবিধার্থে সমগ্র দেশে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উহার সংযোগ স্থাপন করিবে৷

(৩) তথ্য কমিশন, প্রবিধান দ্বারা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং সকল কর্তৃপক্ষ উহা অনুসরণ করিবে৷





তথ্য প্রকাশ
৬। (১) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার গৃহীত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম কিংবা সম্পাদিত বা প্রস্তাবিত কর্মকান্ডের সকল তথ্য নাগরিকগণের নিকট সহজলভ্য হয়, এইরূপে সূচিবদ্ধ করিয়া প্রকাশ ও প্রচার করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করিতে বা উহার সহজলভ্যতাকে সঙ্কুচিত করিতে পারিবে না।

(৩) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে যাহাতে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা :-

(ক) কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামোর বিবরণ, কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের দায়িত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিবরণ বা পদ্ধতি;

(খ) কর্তৃপক্ষের সকল নিয়ম-কানুন, আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, প্রজ্ঞাপন, নির্দেশনা, ম্যানুয়্যাল, ইত্যাদির তালিকাসহ উহার নিকট রৰিত তথ্যসমূহের শ্রেণী- বিন্যাস;

(গ) কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন ব্যক্তি যে সকল শর্তে লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি, অনুমোদন বা অন্য কোন প্রকার সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবেন উহার বিবরণ এবং উক্তরূপ শর্তের কারণে তাহার সহিত কোন প্রকার লেনদেন বা চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজন হইলে সেই সকল শর্তের বিবরণ;

(ঘ) নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার জন্য প্রদত্ত সুবিধাদির বিবরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, পদবী, ঠিকানা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ফ্যাক্স নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।

(৪) কর্তৃপক্ষ গুরম্নত্বপূর্ণ কোন নীতি প্রণয়ন বা সিদ্ধানত্দ গ্রহণ করিলে ঐ সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ করিবে এবং, প্রয়োজনে, ঐ সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমর্থনে যুক্তি ও কারণ ব্যাখ্যা করিবে।

(৫) এই ধারার অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত প্রতিবেদন বিনামূল্যে সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য সহজলভ্য করিতে হইবে এবং উহার কপি নামমাত্র মূল্যে বিক্রয়ের জন্য মজুদ রাখিতে হইবে।

(৬) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত সকল প্রকাশনা জনগণের নিকট উপযুক্ত মূল্যে সহজলভ্য করিতে হইবে।

(৭) কর্তৃপক্ষ জনগুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়াদি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অথবা অন্য কোন পন্থায় প্রচার বা প্রকাশ করিবে।

(৮) তথ্য কমিশন, প্রবিধান দ্বারা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য প্রকাশ, প্রচার ও প্রাপ্তির জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং সকল কর্তৃপক্ষ উহা অনুসরণ করিবে।





কতিপয় তথ্য প্রকাশ বা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়
৭৷ এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলীতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন কর্তৃপক্ষ কোন নাগরিককে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে না, যথাঃ -
(ক) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(খ) পররাষ্ট্রনীতির কোন বিষয় যাহার দ্বারা বিদেশী রাষ্ট্রের অথবা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বা আঞ্চলিক কোন জোট বা সংগঠনের সহিত বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(গ) কোন বিদেশী সরকারের নিকট হইতে প্রাপ্ত কোন গোপনীয় তথ্য;

(ঘ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক সস্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে এইরূপ বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তা বিষয়ক, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property Right) সম্পর্কিত তথ্য;

(ঙ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করিতে পারে এইরূপ নিম্নোক্ত তথ্য, যথাঃ

(অ) আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট ও আবগারী আইন, বাজেট বা করহার পরিবর্তন সংক্রান্ত কোন আগাম তথ্য;

(আ) মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার পরিবর্তনজনিত কোন আগাম তথ্য;

(ই) ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ও তদারকি সংক্রান্ত কোন আগাম তথ্য;


(চ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হইতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পাইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(ছ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে বা বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচার কার্য ব্যাহত হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(জ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(ঝ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তা বিপদাপন্ন হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(ঞ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক গোপনে প্রদত্ত কোন তথ্য;

(ট) আদালতে বিচারাধীন কোন বিষয় এবং যাহা প্রকাশে আদালত বা ট্রাইবুনালের নিষেধাজ্ঞা রহিয়াছে অথবা যাহার প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল এইরূপ তথ্য;

(ঠ) তদন্তাধীন কোন বিষয় যাহার প্রকাশ তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটাইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(ড) কোন অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অপরাধীর গ্রেফতার ও শাস্তিকে প্রভাবিত করিতে পারে এইরূপ তথ্য;

(ঢ) আইন অনুসারে কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ তথ্য;

(ণ) কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় এইরূপ কারিগরী বা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কোন তথ্য;

(ত) কোন ক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ হইবার পূর্বে বা উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ক্রয় বা উহার কার্যক্রম সংক্রান্ত কোন তথ্য ;

(থ) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকার হানির কারণ হইতে পারে এইরূপ তথ্য;

(দ) কোন ব্যক্তির আইন দ্বারা সংরক্ষিত গোপনীয় তথ্য;

(ধ) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষায় প্রদত্ত নম্বর সম্পর্কিত আগাম তথ্য;

(ন) মন্ত্রিপরিষদ বা, ক্ষেত্রমত, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনীয় সার-সংক্ষেপসহ আনুষঙ্গিক দলিলাদি এবং উক্তরূপ বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কোন তথ্যঃ

তবে শর্ত থাকে যে, মনিপরিষদ বা, ক্ষেত্রমত, উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবার পর অনুরূপ সিদ্ধান্তের কারণ এবং যে সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করিয়া সিদ্ধান্তটি গৃহীত হইয়াছে উহা প্রকাশ করা যাইবে৷

আরো শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন তথ্য প্রদান স্থগিত রাখিবার ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।





তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ
৮৷ (১) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন তথ্য প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তথ্য চাহিয়া লিখিতভাবে বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম বা ই-মেইলে অনুরোধ করিতে পারিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুরোধে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথাঃ-

(অ) অনুরোধকারীর নাম, ঠিকানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ফ্যাক্সের নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা;

(আ) যে তথ্যের জন্য অনুরোধ করা হইয়াছে উহার নির্ভুল এবং স্পষ্ট বর্ণনা;

(ই) অনুরোধকৃত তথ্যের অবস্থান নির্ণয়ের সুবিধার্থে অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলী; এবং

(ঈ) কোন পদ্ধতিতে তথ্য পাইতে আগ্রহী উহার বর্ণনা অর্থাৎ পরিদর্শন করা, অনুলিপি নেওয়া, নোট নেওয়া বা অন্য কোন অনুমোদিত পদ্ধতি৷


(৩) এই ধারার অধীন তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মুদ্রিত ফরমে বা, ক্ষেত্রমত, নির্ধারিত ফরমেটে হইতে হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ফরম মুদ্রিত বা সহজলভ্য না হইলে কিংবা ফরমেট নির্ধারিত না হইলে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তথ্যাবলী সন্নিবেশ করিয়া সাদা কাগজে বা, ক্ষেত্রমত, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা ই-মেইলেও তথ্য প্রাপ্তির জন্য অনুরোধ করা যাইবে৷

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনুরোধকারীকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত তথ্যের জন্য নির্ধারিত যুক্তিসংগত মূল্য পরিশোধ করিতে হইবে৷

(৫) সরকার, তথ্য কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফিস এবং, প্রয়োজনে, তথ্যের মূল্য নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে এবং, ক্ষেত্রমত, কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি-শ্রেণীকে কিংবা যে কোন শ্রেণীর তথ্যকে উক্ত মূল্য প্রদান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে৷

(৬) প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ, তথ্য কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণে, বিনামূল্যে যে সকল তথ্য সরবরাহ করা হইবে উহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিয়া প্রকাশ ও প্রচার করিবে৷





তথ্য প্রদান পদ্ধতি
৯৷ (১) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরোধ প্রাপ্তির তারিখ হইতে অনধিক ২০ (বিশ) কার্য দিবসের মধ্যে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করিবেন৷

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অনুরোধকৃত তথ্যের সহিত একাধিক তথ্য প্রদান ইউনিট বা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকিলে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে উক্ত অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করিতে হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন কারণে তথ্য প্রদানে অপারগ হইলে অপারগতার কারণ উল্লেখ করিয়া আবেদন প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্য দিবসের মধ্যে তিনি উহা অনুরোধকারীকে অবহিত করিবেন৷

(৪) উপ-ধারা (১) এবং (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরোধকৃত তথ্য কোন ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেফতার এবং কারাগার হইতে মুক্তি সম্পর্কিত হইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধ প্রাপ্তির ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে উক্ত বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করিবেন৷

(৫) উপ-ধারা (১), (২) বা (৪) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করিতে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৬) কোন অনুরোধকৃত তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সরবরাহের জন্য মজুদ থাকিলে তিনি উক্ত তথ্যের যুক্তিসংগত মূল্য নির্ধারণ করিবেন এবং উক্ত মূল্য অনধিক ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে পরিশোধ করিবার জন্য অনুরোধকারীকে অবহিত করিবেন৷

(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের প্রকৃত ব্যয় যেমন- তথ্যের মুদ্রিত মূল্য, ইলেক্ট্রনিক ফরমেট এর মূল্য কিংবা ফটোকপি বা প্রিন্ট আউট সংক্রান্ত যে ব্যয় হইবে উহা হইতে অধিক মূল্য নির্ধারণ করা যাইবে না৷

(৮) ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরোধকৃত তথ্য প্রদান করা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট যথাযথ বিবেচিত হইলে এবং যেক্ষেত্রে উক্ত তথ্য তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা হইয়াছে কিংবা উক্ত তথ্যে তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত রহিয়াছে এবং তৃতীয় পক্ষ উহা গোপনীয় তথ্য হিসাবে গণ্য করিয়াছে সেইক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ অনুরোধ প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে তৃতীয় পক্ষকে উহার লিখিত বা মৌখিক মতামত চাহিয়া নোটিশ প্রদান করিবেন এবং তৃতীয় পক্ষ এইরূপ নোটিশের প্রেক্ষিতে কোন মতামত প্রদান করিলে উহা বিবেচনায় লইয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধকারীকে তথ্য প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন৷

(৯) ধারা ৭ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তথ্য প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, এইরূপ তথ্যের সহিত সম্পর্কযুক্ত হইবার কারণে কোন অনুরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করা যাইবে না এবং অনুরোধের যতটুকু অংশ প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং যতটুকু অংশ যৌক্তিকভাবে পৃথক করা সম্ভব, ততটুকু অংশ অনুরোধকারীকে সরবরাহ করিতে হইবে৷

(১০) কোন ইন্দ্রীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কোন রেকর্ড বা উহার অংশবিশেষ জানাইবার প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তথ্য লাভে সহায়তা প্রদান করিবেন এবং পরিদর্শনের জন্য যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তাহা প্রদান করাও এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷



তৃতীয় অধ্যায়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
১০। (১) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ, এই আইন জারীর ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্ত উক্ত কর্তৃপক্ষের প্রত্যেক তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করিয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।

(২) এই আইন কার্যকর হইবার পর প্রতিষ্ঠিত কোন কর্তৃপৰ, উক্তরূপ কর্তৃপৰ প্রতিষ্ঠিত হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্ত উক্ত কর্তৃপক্ষের প্রত্যেক তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করিয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।

(৩) এই আইন কার্যকর হইবার পর কোন কর্তৃপক্ষ উহার কোন কার্যালয় সৃষ্টি করিলে, উক্তরূপ কার্যালয় সৃষ্টির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের নিমিত্ত উক্ত কার্যালয় তথা নবসৃষ্ট তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।

(৪) প্রত্যেক কর্তৃপৰ উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, পদবী, ঠিকানা এবং, প্রযোজ্য ৰেত্রে, ফ্যাক্স নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উক্তরূপ নিয়োগ প্রদানের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে তথ্য কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

(৫) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য যে কোন কর্মকর্তার সহায়তা চাহিতে পারিবেন এবং কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে এইরূপ সহায়তা চাওয়া হইলে তিনি উক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(৬) কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক উপ-ধারা (৫) এর অধীন অন্য কোন কর্মকর্তার সহায়তা চাওয়া হইলে এবং এইরূপ সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য আইনের কোন বিধান লংঘিত হইলে সেই ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের ৰেত্রে উক্ত অন্য কর্মকর্তাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলিয়া গণ্য হইবেন।



চতুর্থ অধ্যায়
তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি

তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা
১১। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধান অনুসারে তথ্য কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হইবে।

(২) তথ্য কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পরিবে বা ইহার বিরম্নদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

(৩) তথ্য কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং কমিশন, প্রয়োজনে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।





তথ্য কমিশন গঠন
১২৷ (১) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্য ২ (দুই) জন তথ্য কমিশনার সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠিত হইবে, যাহাদের মধ্যে অন্যূন ১ (এক) জন মহিলা হইবেন৷

(২) প্রধান তথ্য কমিশনার তথ্য কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন৷

(৩) তথ্য কমিশনের কোন পদে শূন্যতা বা উহা গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে তথ্য কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তত্‍সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷





তথ্য কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
১৩৷ (১) কোন ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে কোন অভিযোগ দায়ের করিলে তথ্য কমিশন, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, উক্ত অভিযোগ গ্রহণ, উহার অনুসন্ধান এবং নিষ্পত্তি করিতে পারিবে, যথাঃ-

(ক) কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না করা কিংবা তথ্যের জন্য অনুরোধপত্র গ্রহণ না করা ;

(খ) কোন তথ্য চাহিয়া প্রত্যাখ্যাত হইলে;

(গ) তথ্যের জন্য অনুরোধ করিয়া, এই আইনে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন জবাব বা তথ্য প্রাপ্ত না হইলে;

(ঘ) কোন তথ্যের এমন অংকের মূল্য দাবী করা হইলে, বা প্রদানে বাধ্য করা হইলে, যাহা তাহার বিবেচনায় যৌক্তিক নয়;

(ঙ) অনুরোধের প্রেক্ষিতে অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হইলে বা যে তথ্য প্রদান করা হইয়াছে উহা ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর বলিয়া মনে হইলে;

(চ) এই আইনের অধীন তথ্যের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন বা তথ্য প্রাপ্তি সম্পর্কিত অন্য যে কোন বিষয়৷

(২) তথ্য কমিশন স্ব-প্রণোদিত হইয়া অথবা কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অধ্যাদেশের অধীন উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে অনুসন্ধান করিতে পারিবে৷

(৩) নিম্নলিখিত বিষয়ে Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর অধীন একটি দেওয়ানী আদালত যে ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে তথ্য কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারও এই ধারার অধীন সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যথাঃ-

(ক) কোন ব্যক্তিকে তথ্য কমিশনে হাজির করিবার জন্য সমন জারী করা এবং শপথপূর্বক মৌখিক বা লিখিত প্রমাণ, দলিল বা অন্য কোন কিছু হাজির করিতে বাধ্য করা;

(খ) তথ্য যাচাই ও পরিদর্শন করা;

(গ) হলফনামাসহ প্রমাণ গ্রহণ করা;

(ঘ) কোন অফিসের কোন তথ্য আনয়ন করা;

(ঙ) কোন সাক্ষী বা দলিল তলব করিয়া সমন জারী করা; এবং

(চ) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য যে কোন বিষয়৷

(৪) অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অভিযোগ অনুসন্ধানকালে তথ্য কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার কোন কর্তৃপক্ষের নিকট রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য সরেজমিনে পরীক্ষা করিতে পারিবেন৷

(৫) তথ্য কমিশনের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, প্রকাশ, প্রচার ও প্রাপ্তির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান;

(খ) কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে তথ্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে অনুরোধের পদ্ধতি নির্ধারণ ও, ক্ষেত্রমত, তথ্যের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ;

(গ) নাগরিকদের তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিমালা এবং নির্দেশনা প্রণয়ন ও প্রকাশ;

(ঘ) তথ্য অধিকার সংরক্ষণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান বা আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোন আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা করা এবং উহার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অসুবিধাসমূহ চিহ্নিত করিয়া উহা দূরীকরণার্থে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান;

(ঙ) নাগরিকদের তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বাধাসমূহ চিহ্নিত করা এবং যথাযথ প্রতিকারের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান;

(চ) তথ্য অধিকার বিষয়ক চুক্তিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলিলাদির উপর গবেষণা করা এবং উহা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান;

(ছ) নাগরিকদের তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে তথ্য অধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিলের সহিত বিদ্যমান আইনের সাদৃশ্যতা পরীক্ষা করা এবং বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে উহা দূরীকরণার্থে সরকার বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(জ) তথ্য অধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক দলিল অনুসমর্থন বা উহাতে স্বাক্ষর প্রদানে সরকারকে পরামর্শ প্রদান;

(ঝ) তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গবেষণা করা এবং শিক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানকে উক্তরূপ গবেষণা পরিচালনায় সহায়তা প্রদান;

(ঞ) সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকদের মধ্যে তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রচার এবং প্রকাশনা ও অন্যান্য উপায়ে তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ;

(ট) তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রণয়নের ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান;

(ঠ) তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মরত সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;

(ড) তথ্য অধিকার বিষয়ে গবেষণা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা ওয়ার্কশপের আয়োজন এবং অনুরূপ অন্যবিধ ব্যবস্থার মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রচার;

(ঢ) তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষকে কারিগরী ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান;

(ণ) তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল স্থাপন; এবং

(ত) তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্য কোন আইনে গৃহীত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা করা৷





বাছাই কমিটি
১৪৷ (১) প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথাঃ -

(ক) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার;

(গ) সংসদ কার্যকর থাকাকালীন অবস্থায় স্পিকার কর্তৃক মনোনীত সরকারী দলের একজন এবং বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য;

(ঘ) সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি৷


(২) তথ্য মন্ত্রণালয় উপ-ধারা (১) এর অধীন বাছাই কমিটি গঠনে এবং উক্ত বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে৷

(৩) অন্যূন ৩ (তিন) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে৷

(৪) বাছাই কমিটি, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের নিমিত্ত রাষ্ট্রপতির নিকট, সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ (দুই) জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করিবে৷

(৫) বাছাই কমিটিতে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে৷

(৬) বাছাই কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷

(৭) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা বাছাই কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে, উহার কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎ‍সম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷





প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি
১৫৷ (১) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্যান্য তথ্য কমিশনারগণকে নিয়োগ করিবেন৷

(২) ৬৭ (সাতষট্টি) বৎসর অপেক্ষা অধিক বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের বা অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্য হইবেন না৷

(৩) প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণ নিয়োগ লাভের তারিখ হইতে ৫(পাঁচ) বৎসর কিংবা ৬৭ (সাতষট্টি) বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যেইটি আগে ঘটে, স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷

(৪) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণ একই পদে পুনরায় নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না, তবে কোন তথ্য কমিশনার প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের অযোগ্য হইবেন না৷

(৫) আইন, বিচার, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য, সমাজকর্ম, ব্যবস্থাপনা বা জনপ্রশাসনে ব্যাপক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অধিকারী ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণ, এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, নিযুক্ত হইবেন৷

(৬) প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারগণ রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোনো সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷

(৭) প্রধান তথ্য কমিশনারের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান তথ্য কমিশনার তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান তথ্য কমিশনার পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতম তথ্য কমিশনার প্রধান তথ্য কমিশনার পদের দায়িত্ব পালন করিবেন৷





প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের অপসারণ
১৬৷ (১) সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারক যেরূপ কারণ ও পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনারকে অপসারণ করা যাইবে না৷

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি প্রধান তথ্য কমিশনার বা অন্য কোন তথ্য কমিশনারকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি -

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন; বা

(খ) পারিশ্রমিকের বিনিময়ে স্বীয় দায়িত্ব বহির্ভূত অন্য কোন পদে নিয়োজিত হন; বা

(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত হন; বা

(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন৷





তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি
১৭৷ প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা, ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷





তথ্য কমিশনের সভা
১৮। (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেৰে, তথ্য কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) প্রধান তথ্য কমিশনার তথ্য কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তথ্য কমিশনারগণের মধ্যে যিনি তথ্য কমিশনার হিসাবে জ্যেষ্ঠতম তিনি সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণের মধ্যে যে কোন ১ (এক) জনের উপস্থিতিতে তথ্য কমিশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৪) তথ্য কমিশনের সভায় সিদ্ধানত্দ গ্রহণে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং অন্যান্য তথ্য কমিশনারগণের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ৰেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।



পঞ্চম অধ্যায়
তথ্য কমিশনের আর্থিক বিষয়াদি

তথ্য কমিশন তহবিল
১৯৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তথ্য কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে৷

(২) তথ্য কমিশন তহবিল এর পরিচালনা ও প্রশাসন, এই ধারা এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে, তথ্য কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷

(৩) তথ্য কমিশন তহবিল হইতে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের এবং সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর শর্তাবলী অনুসারে প্রদেয় অর্থ প্রদান করা হইবে এবং তথ্য কমিশনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷

(৪) তথ্য কমিশন তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ -

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক অনুদান;

(খ) সরকারের সম্মতিক্রমে কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান৷





বাজেট
২০৷ তথ্য কমিশন প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ-বৎ‍সরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ফরমে অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ-বৎসরে সরকারের নিকট হইতে তথ্য কমিশনের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে৷





তথ্য কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা
২১৷ (১) সরকার প্রতি অর্থ-বৎসরে তথ্য কমিশনের ব্যয়ের জন্য, উহার চাহিদা বিবেচনায়, উহার অনুকূলে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা তথ্য কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না৷

(২) এই ধারার বিধান দ্বারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হইয়াছে বলিয়া ব্যাখ্যা করা যাইবে না৷





হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা
২২৷ (১) তথ্য কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷

(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর তথ্য কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও তথ্য কমিশনের নিকট পেশ করিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি তথ্য কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারগণ বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷



ষষ্ঠ অধ্যায়
তথ্য কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

তথ্য কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী
২৩৷ (১) তথ্য কমিশনের একজন সচিব থাকিবেন৷

(২) এই আইনের অধীন তথ্য কমিশন উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(৩) সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷

(৪) সরকার, তথ্য কমিশনের অনুরোধক্রমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে৷



সপ্তম অধ্যায়
আপীল, অভিযোগ, ইত্যাদি

আপীল, নিস্পত্তি ইত্যাদি
২৪৷ (১) কোন ব্যক্তি ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১), (২) বা (৪) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হইলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তে সংক্ষুদ্ধ হইলে উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার, বা ক্ষেত্রমত, সিদ্ধান্ত লাভ করিবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷

(২) আপীল কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তষ্ট হন যে, আপীলকারী যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (১) এ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপীল দায়ের করিতে পারেন নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরও আপীল আবেদন গ্রহণ করিতে পারিবেন৷

(৩) আপীল কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন আপীল আবেদন প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে-

(ক) আপীল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করিবেন; অথবা

(খ) তদ্ বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হইলে আপীল আবেদনটি খারিজ করিয়া দিবেন৷


(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশিত হইলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ নির্দেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ধারা ৯ এর, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (১), (২) বা (৪) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপীল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করিবেন৷





অভিযোগ দায়ের, নিস্পত্তি ইত্যাদি
২৫৷ (১) কোন ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে, যথাঃ-

(ক) ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কারণে তথ্য প্রাপ্ত না হইলে;

(খ) ধারা ২৪ এর এর অধীন প্রদত্ত আপীলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হইলে;

(গ) ধারা ২৪ এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রাপ্তি বা, ক্ষেত্রমত, তথ্য প্রদান সংক্রান সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত না হইলে৷


(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) তে উল্লিখিত বিষয়ে যে কোন সময় এবং দফা (খ) ও (গ) তে উল্লিখিত বিষয়ে উক্তরূপ সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন৷

(৩) তথ্য কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, অভিযোগকারী যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (২) এ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ দায়ের করিতে পারেন নাই, তাহা হইলে তথ্য কমিশন উক্ত সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরও অভিযোগ গ্রহণ করিতে পারিবেন৷

(৪) কোন অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা অন্য কোনভাবে তথ্য কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী অনুসরণে করণীয় কোন কার্য করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন বা করণীয় নয় এমন কার্য করিয়াছেন তাহা হইলে তথ্য কমিশন এই ধারার অধীন উক্ত কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে৷

(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন অভিযোগ প্রাপ্তির পর কিংবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন হইলে প্রধান তথ্য কমিশনার উক্ত অভিযোগটি স্বয়ং অনুসন্ধান করিবেন অথবা অনুসন্ধানের জন্য অন্য কোন তথ্য কমিশনারকে দায়িত্ব প্রদান করিবেন৷

(৬) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত দায়িত্ব গ্রহণ বা প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন করিয়া প্রধান তথ্য কমিশনার বা, ক্ষেত্রমত, তথ্য কমিশনার তথ্য কমিশনের জন্য একটি সিদ্ধান্ত কার্যপত্র প্রস্তুত করিবেন৷

(৭) উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত সিদ্ধান্ত কার্যপত্র তথ্য কমিশনের পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করিতে হইবে এবং তথ্য কমিশন উহার সভায় আলোচনাক্রমে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে৷

(৮) এই ধারায় উল্লিখিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধানকালে যে কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় সেই কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে, তাহার সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে৷

(৯) কোন অভিযোগের বিষয়বস্তুর সহিত তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকিলে তথ্য কমিশন উক্ত তৃতীয় পক্ষকেও বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ প্রদান করিবে৷

(১০) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ তথ্য কমিশন সাধারণভাবে ৪৫ (পয়ঁতাল্লিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে, তবে, ক্ষেত্র বিশেষে, স্বাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ বা তদন্ত সম্পাদন ইত্যাদি কারণে বর্ধিত সময়ের প্রয়োজন হইলে উক্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পন্ন করা যাইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগ নিষ্পত্তি সময়সীমা, বর্ধিত সময়সহ, কোনক্রমেই সর্বমোট ৭৫ (পঁচাত্তর) দিনের অধিক হইবে না৷

(১১) এই ধারার অধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য কমিশনের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথাঃ-

(ক) কোন কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা যাহা এই অধ্যাদেশের বিধান মোতাবেক গ্রহণ করা প্রয়োজন, যথাঃ-

(অ) অনুরোধকৃত তথ্য সুনির্দিষ্ট পন্থায় প্রদান;

(আ) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ;

(ই) বিশেষ কোন তথ্য বা বিশেষ ধরনের তথ্যাবলী প্রকাশ ;

(ঈ) তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে উক্ত কর্তৃপক্ষের পালনীয় পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়ন;

(উ) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের তথ্য অধিকার বিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণ;

(ঊ) কোন ক্ষতি বা অন্য কোন প্রকার দুর্ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান;

(খ) এই আইনে বর্ণিত কোন জরিমানা আরোপ করা;

(গ) কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা;

(ঘ) অভিযোগ খারিজ করা;

(ঙ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নূতনভাবে তথ্যের শ্রেণীবদ্ধকরণ;

(চ) তথ্যের প্রকৃতি, শ্রেণীবিন্যাসকরণ, সংরক্ষণ, প্রকাশ ও সরবরাহ সংক্রান্ত ইত্যাদি বিষয়ে এই আইনের আলোকে ব্যাখ্যা প্রদান;




(১২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত তথ্য কমিশনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে৷

(১৩) তথ্য কমিশন ইহার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে৷

(১৪) তথ্য কমিশন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অভিযোগ নিষ্পত্তির অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷





প্রতিনিধিত্ব
২৬৷ কোন অভিযোগের পক্ষসমূহ তথ্য কমিশনের সামনে ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে তাহাদের বক্তব্য উপস্থাপন করিতে পারিবেন ৷





জরিমানা, ইত্যাদি
২৭৷ (১) কোন অভিযোগ নিষ্পত্তির সূত্রে কিংবা অন্য কোনভাবে তথ্য কমিশনের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -

(ক) কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তথ্য প্রাপ্তির কোন অনুরোধ বা আপীল গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়াছেন;

(খ) এই আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুরোধকারীকে তথ্য প্রদান করিতে কিংবা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন;
(গ) অসদুদ্দেশ্যে তথ্য প্রাপ্তির কোন অনুরোধ বা আপীল প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন;

(ঘ) যে তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ করা হইয়াছিল তাহা প্রদান না করিয়া ভুল, অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করিয়াছেন;

(ঙ) কোন তথ্য প্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন-

তাহা হইলে তথ্য কমিশন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উক্তরূপ কার্যের তারিখ হইতে তথ্য সরবরাহের তারিখ পর্যন্ত প্রতি দিনের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে, এবং এইরূপ জরিমানা কোনক্রমেই ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকার অধিক হইবে না৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জরিমানা আরোপের পূর্বে তথ্য কমিশন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার বক্তব্য পেশ করিবার সুযোগ প্রদান করিবে৷

(৩) তথ্য কমিশন যদি এই মর্মে সন্তষ্ট হয় যে, নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তিতে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কার্য করিয়া কোন কর্মকর্তা বিঘ্ন সৃষ্টি করিয়াছেন, তাহা হইলে তথ্য কমিশন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত জরিমানা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এহেন কার্যকে অসদাচরণ গণ্য করিয়া তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে সুপারিশ করিতে পারিবে এবং এই বিষয়ে গৃহীত সর্বশেষ ব্যবস্থা তথ্য কমিশনকে অবহিত করিবার জন্য উক্ত কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করিতে পারিবে৷

(৪) এই ধারার অধীন পরিশোধযোগ্য কোন জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না হইলে তাহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট হইতে Public Demands Recovery Act, 1913 (Act IX of 1913) এর বিধান অনুযায়ী বকেয়া ভূমি রাজস্ব যে পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য হইবে৷





Limitation Act, 1908এর প্রয়োগ
২৮৷ এই আইনের অধীন আপীল বা অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে Limitation Act, 1908 (Act IX of 1908) এর বিধানাবলী, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে৷





মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা
২৯৷ এই আইনের অধীন কৃত বা কৃত বলিয়া গণ্য কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে, এই আইনে উল্লিখিত আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল বা, ক্ষেত্রমত, তথ্য কমিশনের নিকট অভিযোগ দায়ের ব্যতীত, কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷



অষ্টম অধ্যায়
বিবিধ

তথ্য কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন
৩০৷ (১) প্রতি বৎসরের ৩১ মার্চ এর মধ্যে তথ্য কমিশন উহার পূর্ববর্তী বৎ‍সরের কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বৎ‍সরের নিম্নলিখিত তথ্য সন্নিবেশিত থাকিবে, যথাঃ

(ক) কর্তৃপক্ষওয়ারী তথ্য সরবরাহের জন্য প্রাপ্ত অনুরোধের সংখ্যা;

(খ) অনুরোধকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সংখ্যা এবং এই অধ্যাদেশের যে সকল বিধানের আওতায় উক্ত সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হইয়াছে উহার বিবরণ;

(গ) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীলের সংখ্যা এবং উক্ত আপীলের ফলাফল;

(ঘ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিবরণ;

(ঙ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এই আইনের অধীন সংগৃহীত উপযুক্ত মূল্যের পরিমাণ;

(চ) এই আইন এর বিধানাবলী বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ;


(ছ) নাগরিকের তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সহিত সম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত সংস্কার প্রস্তাব;

(জ) তথ্য কমিশন কর্তৃক প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা;

(ঝ) তথ্য কমিশন কর্তৃক প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থার বিবরণ;

(ঞ) তথ্য কমিশন কর্তৃক আরোপিত দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ও উহার বিবরণ;

(ট) তথ্য কমিশন কর্তৃক আরোপিত ও আদায়কৃত জরিমানার মোট পরিমাণ;

(ঠ) তথ্য কমিশন কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা ও প্রবিধানমালা;

(ড) তথ্য কমিশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব;

(ঢ) তথ্য কমিশনের বিবেচনায় প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন এইরূপ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়;
(ণ) এই আইনের বিধানাবলী প্রতিপালনে কোন কর্তৃপক্ষের অনীহা পরিলক্ষিত হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ৷


(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতি উহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন৷

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশকৃত প্রতিবেদন তথ্য কমিশন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রচার করিবে৷

(৫) এই ধারার অধীন প্রতিবেদন প্রণয়নের প্রয়োজনে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তথ্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সরবরাহসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান করিবে৷





সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
৩১৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধির অধীন সরল বিশ্বাসে তথ্য প্রকাশ করা হইয়াছে বা করিবার উদ্দেশ্য ছিল বলিয়া বিবেচিত, কোন কার্যের জন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি তথ্য কমিশন, প্রধান তথ্য কমিশনার, তথ্য কমিশনারগণ বা তথ্য কমিশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী, বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা রুজু করা যাইবে না৷





কতিপয় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নহে
৩২। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তফসিলে উলিস্নখিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যে নিয়োজিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ৰেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোন তথ্য দুর্নীতি বা মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার সহিত জড়িত থাকিলে উক্ত ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তথ্য প্রাপ্তির জন্য কোন অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, তথ্য কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করিয়া, অনুরোধ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অনুরোধকারীকে উক্ত তথ্য প্রদান করিবে।

(৪) তফসিলে উলিস্নখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকার তথ্য কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।





বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা
৩৩৷ এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে সরকার, তথ্য কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷





প্রবিধান প্রণয়ন ক্ষমতা
৩৪৷ এই আইনের উদ্দেশ্যেপূরণকল্পে তথ্য কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷





অস্পষ্টতা দূরীকরণ
৩৫৷ এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা অপসারণ করিতে পারিবে৷





ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
৩৬৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজনবোধে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে৷

(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে৷





রহিতকরণ ও হেফাজত
৩৭। (১) এতদ্দ্বারা তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ৫০ নং অধ্যাদেশ) রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও রহিতকৃত অধ্যাদেশ এর অধীন কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।



Copyright®2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs






সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯

[Home] [Act List]

সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯

( ২০০৯ সনের ১৬ নং আইন )

[২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯]
কতিপয় সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং উহাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু কতিপয় সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং উহাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্বারা নিণ্মরূপ আইন করা হইল :-
সূচী
ধারাসমূহ

প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, ব্যাপ্তি ও প্রবর্তন
২। সংজ্ঞা
৩। অন্যান্য শব্দ ও অভিব্যক্তির প্রযোজ্যতা
৪।আইনের প্রাধান্য
৫। অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ
দ্বিতীয় অধ্যায়
অপরাধ ও দণ্ড
৬। সন্ত্রাসী কার্য
৭। সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ যোগান সংক্রান্ত অপরাধ
৮। নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ
৯। নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থন
১০। অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের (criminal conspiracy) শাস্তি
১১। অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টার (attempt) শাস্তি
১২। অপরাধে সহায়তার (abetment) শাস্তি
১৩। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত (instigation) করিবার শাস্তি
১৪। অপরাধীকে আশ্রয়প্রদান।-
তৃতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা
১৫। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা
১৬। ব্যাংকের দায়িত্ব
চতুর্থ অধ্যায়
সন্ত্রাসী সংগঠন
১৭। সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত সংগঠন
১৮। সংগঠন নিষিদ্ধকরণ
১৯। পুনঃনিরীক্ষা (Review)
২০। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
পঞ্চম অধ্যায়
অপরাধের তদন্ত
২১। পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২২। ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাক্ষীর বিবৃতি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২৩। অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২৪। তদন্তের সময়সীমা
২৫। কতিপয় মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধি
২৬। পুনঃসমর্পণ (Remand)
ষষ্ঠ অধ্যায়
দায়রা জজ কর্তৃক বিচার
২৭। দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক অপরাধের বিচার সম্পর্কিত বিধান
সপ্তম অধ্যায়
বিশেষ ট্রাইবু্যনাল কতৃক বিচার
২৮। সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
২৯। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতি
৩০। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে কার্যবিধির প্রয়োগ
৩১। আপীল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন
৩২। জামিন সংক্রান্ত বিধান
৩৩। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলা নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা
অষ্টম অধ্যায়
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত সম্পদ
৩৪। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদের দখল
৩৫। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত
৩৬। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের পূর্বে কারণ দর্শাইবার নোটিশ জারী
৩৭। আপীল
নবম অধ্যায়
পারস্পরিক আইনগত সহায়তা
৩৮। পারস্পরিক আইনগত সহায়তা
দশম অধ্যায়
সাধারণ বিধানাবলী
৩৯। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিন অযোগ্যতা
৪০। তদন্ত ও বিচার বিষয়ে পূর্বানুমোদনের অপরিহার্যতা
৪১। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হইতে মামলা স্থানান্তর
৪২। তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা
৪৩। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৪৪। মূল পাঠ এবং ইংরেজী পাঠ
৪৫। রহিতকরণ ও হেফাজত


Copyright®2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs








সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯

( ২০০৯ সনের ১৬ নং আইন )
[২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯]
কতিপয় সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং উহাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু কতিপয় সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং উহাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্বারা নিণ্মরূপ আইন করা হইল :-


প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, ব্যাপ্তি ও প্রবর্তন
১। (১) এই আইন সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে।

(৩) ইহা ১১ জুন ২০০৮ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।





সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) "অপরাধ" অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন দণ্ডনীয় কোন অপরাধ;

(২) "আগ্নেয়াস্ত্র" অর্থ যে কোন ধরনের পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, বন্দুক বা কামান, এবং অন্য যে কোন আগ্নেয়াস্ত্রও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৩) "আদালত" অর্থ দায়রা জজ এর বা, ক্ষেত্রমত, অতিরিক্ত দায়রা জজ এর আদালত;

(৪) "কারাদণ্ড" অর্থ দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে উল্লিখিত যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড;

(৫) "ফৌজদারী কার্যবিধি" বা "কার্যবিধি" অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);

(৬) " তফসিল" অর্থ এই অধ্যাদেশের তফসিল;

(৭) "দণ্ডবিধি" অর্থ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860);

(৮) "দাহ্য পদার্থ" অর্থ এমন কোন পদার্থ যাহাতে আগুন ধরাইবার বা আগুন তীব্রতর করিবার বা ছড়াইবার স্বাভাবিক উচ্চ প্রবণতা রহিয়াছে, যেমন- অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সি,এন,জি), গান পাউডার, এবং অন্য যে কোন দাহ্য পদার্থও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে ;

(৯) "বাংলাদেশ ব্যাংক" অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O.No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;

(১০) "ব্যাংক" অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন ব্যাংক; এবং অন্য কোন আইনের অধীনে ঋণ গ্রহণ, বিতরণ এবং অর্থের বিনিময় করিতে অনুমতিপ্রাপ্ত কোন আর্থিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১১) "বিচারক" অর্থ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা, ক্ষেত্রমত, সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক;

(১২) "বিশেষ ট্রাইব্যুনাল" অর্থ ধারা ২৮ এর অধীন গঠিত কোন সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইবু্যনাল;

(১৩) "বিস্ফোরক দ্রব্য" অর্থ-

(ক) গানপাউডার, নাইট্রো-গ্লিসারিন, ডিনামাইট, গান-কটন, ব্লাসটিং পাউডার, ফুঁসে উঠা (fulminate) পারদ বা অন্য কোন ধাতু, রঙ্গিন আগুন (colored fire) এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে কার্যকর প্রভাব, বা আতসবাজির প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবহৃত বা উৎপাদিত অন্য যে কোন দ্রব্য যাহা উপরি-উল্লিখিত পদার্থসমূহের সদৃশ হউক বা না হউক; এবং

(খ) বিস্ফোরক সামগ্রী তৈরির যে কোন পদার্থ ও কোন বিস্ফোরক পদার্থের মাধ্যমে বা সহযোগে বিস্ফোরণ সৃষ্টি, বা ব্যবহারের অভিপ্রায়ে রূপান্তরিত করিবার, বা সহায়তার জন্য ব্যবহৃত, কোন যন্ত্র, হাতিয়ার, যন্ত্রপাতি বা বস্তুসহ অনুরূপ যন্ত্র, যন্ত্রপাতি বা হাতিয়ারের কোন অংশ এবং ফিউজ, রকেট, পারকাশন ক্যাপস, ডেটোনেটর, কাট্রিজ ও যে কোন ধরনের গোলাবারুদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৪) "সম্পত্তি" অর্থ বস্তুগত বা অবস্তুগত, স্থাবর বা অস্থাবর, দৃশ্যমান বা অদৃশ্য যে কোন ধরনের সম্পত্তি ও উক্ত সম্পত্তি হইতে উদ্ভূত লাভ, এবং কোন অর্থ বা অর্থে রূপান্তরযোগ্য বিনিময় দলিলও (negotiable instrument) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৫) "সাক্ষ্য আইন" অর্থ Evidence Act, 1872 (Act I of 1872) ।





অন্যান্য শব্দ ও অভিব্যক্তির প্রযোজ্যতা
৩।(১) এই আইনে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা এই আইনে দেওয়া হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি ফৌজদারী কার্যবিধি বা, ক্ষেত্রমত, দন্ডবিধিতে যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।

(২) অপরাধ ও শাসত্দির দায়-দায়িত্ব সংক্রান্ত দন্ডবিধির সাধারণ বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হইলে, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।





আইনের প্রাধান্য
৪। ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে।





অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ
৫। (১) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের কোন নাগরিক বা বাংলাদেশের সম্পদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ সংঘটন করে, যাহা বাংলাদেশে সংঘটিত হইলে এই অধ্যাদেশের অধীন শাস্তিযোগ্য হইত, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ বাংলাদেশে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।

(২) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাহির হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন অপরাধ সংঘটন করে, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।

(৩) যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের বাহিরে কোন অপরাধ সংঘটন করে, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ ও উহা সংঘটনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।



দ্বিতীয় অধ্যায়
অপরাধ ও দণ্ড

সন্ত্রাসী কার্য
৬। (১) কেহ বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করিবার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোন অংশের মধ্যে আতংক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিতে বাধ্য করিবার উদ্দেশ্যে-

(ক) কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর আঘাত, আটক বা অপহরণ করিলে, বা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করিলে; অথবা

(খ) দফা (ক) এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য বস্তু, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করিলে বা নিজ দখলে রাখিলে;

তিনি "সন্ত্রাসী কার্য" সংঘটনের অপরাধ করিবেন।

(২) কেহ সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন করিয়া থাকিলে, তিনি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব বিশ বৎসর এবং অন্যূন তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে।





সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ যোগান সংক্রান্ত অপরাধ
৭। (১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে অর্থ, সেবা বা অন্য কোন সম্পত্তি সরবরাহ করেন বা সরবরাহ করিতে প্ররোচিত করেন এবং কোন সন্ত্রাসী কার্যের উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করেন, বা ইহা সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, উহা সন্ত্রাসী কার্যে ব্যবহার করা হইবে বা হইতে পারে, তাহা হইলে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানের অপরাধ সংঘটন করিবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি অর্থ, সেবা বা অন্য কোন সম্পত্তি গ্রহণ করেন এবং কোন সন্ত্রাসী কার্যের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করেন, বা ইহা সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, উহা সন্ত্রাসী কার্যে ব্যবহার করা হইবে বা হইতে পারে, তাহা হইলে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানের অপরাধ সংঘটন করিবেন।

(৩) যদি কোন ব্যক্তি অর্থ, সেবা বা অন্য সম্পত্তির ব্যবস্থা করেন এবং কোন সন্ত্রাসী কার্যে উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করেন, বা সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, উহা সন্ত্রাসী কার্যে ব্যবহার করা হইবে বা হইতে পারে, তাহা হইলে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানের অপরাধ সংঘটন করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) হইতে (৩) এ বর্ণিত অপরাধে কোন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হইলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক বিশ বৎসর ও অন্যূন তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে।





নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ
৮। যদি কোন ব্যক্তি ধারা ১৮ এর অধীন কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হন বা সদস্য বলিয়া দাবী করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন এবং উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।





নিষিদ্ধ সংগঠন সমর্থন
৯। (১) যদি কোন ব্যক্তি ধারা ১৮ এর অধীন কোন নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন করিবার উদ্দেশ্যে কাহাকেও অনুরোধ বা আহ্বান করেন, অথবা নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন বা উহার কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করিবার উদ্দেশ্যে কোন সভা আয়োজন, পরিচালনা বা পরিচালনায় সহায়তা করেন, অথবা বক্তৃতা প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য সমর্থন চাহিয়া অথবা উহার কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় করিবার উদ্দেশ্যে কোন সভায় বক্তৃতা করেন অথবা রেডিও, টেলিভিশন অথবা কোন মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচার করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন।

(৩) যদি কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে তিনি অনধিক সাত বৎসর ও অন্যূন দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে।





অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের (criminal conspiracy) শাস্তি
১০। যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের যে কোন কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হইবে, কিন্তু উহা পাঁচ বৎসরের কম হইবে না।





অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টার (attempt) শাস্তি
১১। যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের যে কোন কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হইবে, কিন্তু উহা পাঁচ বৎসরের কম হইবে না।





অপরাধে সহায়তার (abetment) শাস্তি
১২। যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।





সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত (instigation) করিবার শাস্তি
১৩। যদি কোন ব্যক্তি তাহার স্বেচ্ছাধীন কর্মকাণ্ড অথবা অংশ গ্রহণের মাধ্যমে কোন দলিল প্রস্তুত বা বিতরণ করেন, অথবা কোন মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচার করিয়া, অথবা কোন সরঞ্জাম, সহায়তা বা প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে এইরূপ অবগত থাকিয়া সহায়তা প্রদান করেন যে, উক্ত দলিল, সরঞ্জাম, সহায়তা বা প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত হইবে বা উক্ত ব্যক্তি বা সংগঠন উহাদের অনুরূপ অপরাধ সংগঠনের প্রচেষ্টায় ব্যবহার করিবে, তাহা হইলে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন; এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে তাহাকে দণ্ডিত করা যাইবে; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হইবে, কিন্তু উহা পাঁচ বৎসরের কম হইবে না।





অপরাধীকে আশ্রয়প্রদান
১৪। (১) যদি কোন ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন জানিয়াও বা উক্ত ব্যক্তি অপরাধী ইহা বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা সত্ত্বেও, শাস্তি হইতে রক্ষা করিবার অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয়দান করেন বা লুকাইয়া রাখেন তাহা হইলে তিনি-

(ক) উক্ত অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হইলে, অনধিক পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে; অথবা

(খ) উক্ত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড হইলে, অনধিক তিন বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আশ্রয়দান বা লুকাইয়া রাখিবার অপরাধ স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পিতা বা মাতা কর্তৃক হইলে, এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।



তৃতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা
১৫। (১) বাংলাদেশ ব্যাংক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন প্রতিরোধ ও সনাক্ত করিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহার নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকিবে-

(ক) কোন ব্যাংক হইতে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত প্রতিবেদন তলব এবং অনুরূপ প্রতিবেদন, আইনের অধীনে প্রকাশের অনুমোদন না থাকিলে, গোপন রাখা;

(খ) সকল পরিসংখ্যান ও রেকর্ড সংকলন ও সংরক্ষণ করা ;

(গ) সকল সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত রিপোর্টের ডাটা-বেজ সৃষ্টি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;

(ঘ) সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা;

(ঙ) কোন লেনদেন সন্ত্রাসী কার্যের সহিত সম্পৃক্ত মর্মে সন্দেহ করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে উক্ত লেন-দেনের হিসাব ত্রিশ দিনের জন্য বন্ধ রাখিবার উদ্দেশ্যে লিখিত আদেশ জারী করা এবং এইরূপে জারীকৃত আদেশ অতিরিক্ত ত্রিশ দিনের জন্য বর্ধিত করা;

(চ) ব্যাংকের কার্যাবলী পরিবীক্ষণ ও তদারক করা;

(ছ) সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ যোগান প্রতিহত করিবার উদ্দেশ্যে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যাংকসমূহের নিকট নির্দেশনা জারী করা;

(জ) সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তের উদ্দেশ্যে ব্যাংকসমূহ পরিদর্শন করা; এবং

(ঝ) সন্ত্রাসী কার্যে অর্থযোগানের সহিত জড়িত সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্ত ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

(২) বাংলাদেশ ব্যাংক, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থযোগানের সহিত জড়িত সন্দেহজনক কোন লেনদেনের বিষয়ে কোন ব্যাংক বা ইহার গ্রাহককে সনাক্ত করিবার সঙ্গে সঙ্গে, উহা যথাযথ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করিবে এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যে উক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করিবে।

(৩) সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মতি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন ব্যাংকের কোন দলিল বা নথিতে কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রবেশাধিকার থাকিবে না।





ব্যাংকের দায়িত্ব
১৬। (১) কোন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই আইনের অধীন কোন অপরাধের সহিত জড়িত অর্থ লেনদেন প্রতিরোধ ও সনাক্ত করিবার লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যাংক যথাযথ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সহিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(২) প্রত্যেক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ (Board of Directors) উহার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা অনুমোদন ও জারী করিবে, এবং ধারা ১৫ এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা, যাহা ব্যাংকসমূহের জন্য প্রযোজ্য, প্রতিপালন করা হইতেছে কিনা উহা নিশ্চিত করিবে।

(৩) কোন ব্যাংক ধারা ১৫ এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা পালন করিতে ব্যর্থ হইলে, উক্ত ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ও নির্দেশিত অনধিক দশ লক্ষ টাকা জরিমানা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।



চতুর্থ অধ্যায়
সন্ত্রাসী সংগঠন

সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত সংগঠন
১৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উহা-


(ক) সন্ত্রাসী কার্য সংঘটিত করে বা উক্ত কার্যে অংশ গ্রহণ করে;

(খ) সন্ত্রাসী কার্যের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে;

(গ) সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনে সাহায্য করে বা উৎসাহ প্রদান করে;

(ঘ) সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত কোন সংগঠনকে সমর্থন এবং সহায়তা প্রদান করে; অথবা

(ঙ) অন্য কোনভাবে সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত থাকে।





সংগঠন নিষিদ্ধকরণ
১৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কোন সংগঠনকে সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত রহিয়াছে মর্মে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, আদেশ দ্বারা, তফসিলে তালিকাভুক্ত করিয়া, নিষিদ্ধ করিতে পারিবে।

(২) সরকার, আদেশ দ্বারা, যে কোন সংগঠনকে তফসিলে সংযোজন বা তফসিল হইতে বাদ দিতে অথবা অন্য কোনভাবে তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।





পুনঃনিরীক্ষা (Review)
১৯। (১) ধারা ১৮ এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ সংগঠন, আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে, উহার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে, যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক, সরকারের নিকট পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার, আবেদনকারীর শুনানী গ্রহণপূর্বক, আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে নব্বই দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পন্ন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পুনঃনিরীক্ষার আবেদন নামঞ্জুর করা হইলে, উক্ত সংক্ষুব্ধ সংগঠন আবেদন নামঞ্জুর হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করিতে পারিবে।

(৩) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর অধীন দায়েরকৃত পুনঃনিরীক্ষার দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তির জন্য একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট পুনঃনিরীক্ষা কমিটি (Review Committee) গঠন করিবে।





নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
২০। (১) কোন সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হইলে সরকার, এই আইনে বর্ণিত অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও, নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে, যথা : -

(ক) উহার কার্যালয়, যদি থাকে, বন্ধ করিয়া দিবে;

(খ) উহার ব্যাংক হিসাব, যদি থাকে, অবরুদ্ধ (freeze) করিবে এবং অন্যান্য হিসাব আটক করিবে;

(গ) সকল প্রকারের প্রচারপত্র, পোস্টার, ব্যানার, অথবা মুদ্রিত, ইলেক্ট্রনিক, ডিজিটাল বা অন্যান্য উপকরণ বাজেয়াপ্ত করিবে; এবং

(ঘ) নিষিদ্ধ সংগঠন বা উহার পক্ষে বা সমর্থনে যে কোন প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা, মুদ্রণ বা প্রচারণা, সংবাদ সম্মেলন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করিবে ।

(২) নিষিদ্ধ সংগঠন উহার আয় ও ব্যয়ের হিসাব পেশ করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক মনোনীত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আয়ের সকল উৎস প্রকাশ করিবে।

(৩) যদি দেখা যায় যে নিষিদ্ধ সংগঠনের তহবিল এবং পরিসম্পদ (asset) অবৈধভাবে অর্জিত হইয়াছে অথবা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত তহবিল এবং পরিসম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।



পঞ্চম অধ্যায়
অপরাধের তদন্ত

পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২১। (১) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন মামলার তদন্তকালে ঘটনা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এইরূপ কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার প্রয়োজন মনে করেন এবং, যদি উক্ত ব্যক্তি ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে প্রদান করিতে যথেষ্ট সক্ষম মর্মে পুলিশ কর্মকর্তার জানা থাকে বা বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে, তাহা হইলে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা, উক্ত ব্যক্তির সম্মতিতে, ঘটনার বিবরণ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে লিখিতভাবে গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) উক্ত ব্যক্তি তাহার বক্তব্য বা ঘটনার বিবরণ স্বহস্তে কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষর করিবেন।





ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাক্ষীর বিবৃতি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২২। যে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যদি অবগত থাকেন বা তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত কোন ব্যক্তি তাহার বিবৃতি লিখিতভাবে প্রদান করিতে যথেষ্ট সমর্থ, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে তাহার বিবৃতি কলম দ্বারা স্বহস্তে লিখিতভাবে প্রদান করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।





অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান
২৩। যে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক স্বীকারোক্তিমূলক কোন বক্তব্য রেকর্ডকালে, যদি উক্ত ব্যক্তি ঘটনা সম্পর্কে লিখিতভাবে বিবৃতি প্রদান করিতে সক্ষম ও আগ্রহী হন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে তাহার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্বহস্তে কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ করিতে অনুমতি প্রদান করিবেন।





তদন্তের সময়সীমা
২৪। (১) কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই অধ্যাদেশের অধীন কোন মামলার তদন্ত কার্যবিধির ধারা ১৫৪ এর অধীন তথ্য প্রাপ্তি অথবা লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিবেন।

(২) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে, মামলার ডায়রীতে লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অনধিক পনের দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৩) যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের লিখিত অনুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত অনধিক ত্রিশ দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৪) যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারকে কারণ উল্লেখপূর্বক ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং উল্লিখিত কারণ সন্তোষজনক না হইলে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।





কতিপয় মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধি
২৫। (১) ধারা ২৫ এর উপ-ধারা (৩) এ নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে এজাহার (FIR) এ উল্লিখিত অপরাধীর পরিচয় অনুদঘাটিত থাকায় এবং উক্ত অপরাধীকে সনাক্তকরণের অসমর্থতার কারণে কোন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে, ধারা ২৫ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়সীমার পরবর্তীতে যে কোন সময় কোন পুলিশ রিপোর্ট অথবা নূতনভাবে পুলিশ রিপোর্ট অথবা অতিরিক্ত পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে উহা বাধা বলিয়া গণ্য হইবে না।

(২) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধ সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য বা কোন রিপোর্ট সরবরাহ করিবার জন্য ধারা ২৫ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন অতিরিক্ত বর্ধিত সময় সীমার মধ্যে মেডিকেল, ফরেনসিক, আঙ্গুলের ছাপ, রাসায়নিক বা অন্য কোন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর, যাহার উপর তাহার নিয়ন্ত্রণ নাই এবং যাহা ব্যতীত মামলা সম্পর্কে কোন কার্যকর রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হয় না, অসমর্থতার কারণে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়সীমার পরবর্তী যে কোন সময় পুলিশ রিপোর্ট পেশ করিতে উহা বাধা বলিয়া গণ্য হইবে না।





পুনঃসমর্পণ (Remand)
২৬। (১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তের জন্য আটক রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের হেফাজতে পুনঃসমর্পণের জন্য উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন বিবেচনাক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে পুলিশের হেফাজতে পুনঃসমর্পণ করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ পুনঃসমর্পণের মেয়াদ একাদিক্রমে বা সর্বমোট দশ দিনের অধিক হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করিতে সমর্থ হন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অধিকতর মেয়াদের জন্য পুনঃসমর্পণ করা হইলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য পাওয়া যাইতে পারে, তাহা হইলে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক পাঁচ দিন পর্যন্ত পুনঃসমর্পণের মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।



ষষ্ঠ অধ্যায়
দায়রা জজ কর্তৃক বিচার

দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক অপরাধের বিচার সম্পর্কিত বিধান
২৭। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এতদুদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ দায়রা জজ কর্তৃক বা, দায়রা জজ কর্তৃক অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট স্থানান্তরিত হইবার ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক, বিচার্য হইবে।

(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ বিচারের সময় দায়রা আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফৌজদারী কার্যবিধির অধ্যায় ২৩ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন।

(৩) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য বলিয়া গণ্য হইবে, এবং যে দায়রা ডিভিশনের অধিক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ বা উহার অংশবিশেষ সংঘটিত হইয়াছে, উক্ত অধিক্ষেত্রের দায়রা জজের নিকট অপরাধের কার্যধারা রুজু করা যাইবে।



সপ্তম অধ্যায়
বিশেষ ট্রাইবু্যনাল কতৃক বিচার

সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
২৮। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্যে, এক বা একাধিক সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন দায়রা জজ অথবা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজের সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং অনুরূপভাবে নিযুক্ত একজন বিচারক "বিচারক, সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল" নামে অভিহিত হইবেন।

(৩) এই ধারার অধীন গঠিত কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের স্থানীয় অধিক্ষেত্র অথবা এক বা একাধিক দায়রা ডিভিশনের অধিক্ষেত্র প্রদান করা যাইতে পারে; এবং উক্ত ট্রাইব্যুনাল কেবল এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের মামলার বিচার করিবে, যাহা উক্ত ট্রাইব্যুনালে দায়ের বা স্থানান্তরিত হইবে।

(৪) সরকার কর্তৃক কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের অথবা এক বা একাধিক দায়রা ডিভিশনের সমন্বয়ে গঠিত উহার অংশ বিশেষের, স্থানীয় অধিক্ষেত্র ন্যস্ত করিবার কারণে একজন দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচারের এখতিয়ার ক্ষুণ্ণ হইবে না, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অনুরূপ কোন আদেশ প্রদান না করা হইলে দায়রা আদালতে নিষ্পন্নাধীন এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের কোন মামলা বিশেষ স্থানীয় অধিক্ষেত্র সম্পন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলী হইবে না ।

(৫) কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে, যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনঃগ্রহণ, বা পুনঃশুনানী গ্রহণ করিতে, অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন গৃহীত কার্যধারা পুনরায় আরম্ভ করিতে বাধা থাকিবে না, তবে ইতোমধ্যে যে সাক্ষ্য গ্রহণ বা উপস্থাপন করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কার্য করিতে এবং মামলা যে পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে বিচারকার্য অব্যাহত রাখিতে পারিবে।

(৬) সরকার, আদেশ দ্বারা, যে স্থান বা সময় নির্ধারণ করিবে সেই স্থান বা সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আসন গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে।





বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতি
২৯। (১) সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোন পুলিশ কর্মকর্তার লিখিত রিপোর্ট ব্যতীত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।

(২) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীন অপরাধের বিচারকালে দায়রা আদালতে বিচারের জন্য, ফৌজদারী কার্যবিধির অধ্যায় ২৩ এ বর্ণিত পদ্ধতি, এই আইনের বিশেষ বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, অনুসরণ করিবে।

(৩) কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় না হইলে, এবং কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ না করিয়া, কোন মামলার বিচারকার্য স্থগিত করিতে পারিবে না।

(৪) যেক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রহিয়াছেন বা আত্নগোপন করিয়াছেন যে কারণে তাহাকে গ্রেপ্তার করিয়া বিচারের জন্য উপস্থিত করা সম্ভব নহে এবং তাহাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের অবকাশ নাই, সেক্ষেত্রে উক্ত ট্রাইব্যুনাল, আদেশ দ্বারা, বহুল প্রচারিত অনূ্যন দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে, অনুরূপ ব্যক্তিকে আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, এবং উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ নির্দেশ পালন করিতে ব্যর্থ হইলে তাহার অনুপস্থিতিতেই বিচার করা হইবে ।

(৫) বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হইবার বা জামিনে মুক্তি পাইবার পর পলাতক হইলে অথবা উহার সম্মুখে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইলে, উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে না, এবং উক্ত ট্রাইব্যুনাল উহার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিয়া অনুরূপ ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেই বিচার করিবে ।

(৬) কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, উহার নিকট পেশকৃত আবেদনের ভিত্তিতে, বা উহার নিজ উদ্যোগে, কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট যে কোন মামলা পুনঃতদন্তের, এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।





বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে কার্যবিধির প্রয়োগ
৩০। (১) ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রযোজ্য হইবে, এবং আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী দায়রা আদালতের সকল ক্ষমতা উক্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের থাকিবে।

(২) বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ব্যক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর বলিয়া গণ্য হইবেন।





আপীল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন
৩১। (১) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ, রায় অথবা দণ্ড প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করা যাইবে।

(২) এই আইনের অধীন কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিলে, অবিলম্বে কার্যধারাটি হাইকোর্ট বিভাগে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাইবে না।





জামিন সংক্রান্ত বিধান
৩২। এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারক জামিনে মুক্তি প্রদান করিবেন না, যদি না -

(ক) রাষ্ট্রপক্ষকে অনুরূপ জামিনের আদেশের উপর শুনানীর সুযোগ প্রদান করা হয়; এবং

(খ) বিচারক সন্তুষ্ট হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারে দোষী সাব্যস্ত নাও হইতে পারেন মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে এবং তিনি অনুরূপ সন্তুষ্টির কারণসমূহ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করেন।





বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলা নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা
৩৩। (১) বিশেষ ট্রাইবু্যনালের বিচারক মামলার অভিযোগপত্র গঠনের তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে মামলার বিচার কার্য সমাপ্ত করিবেন।

(২) বিচারক উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন মামলা সমাপ্ত করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উহার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া অনধিক তিন মাস সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৩) বিচারক উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সমাপ্ত করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি, অনুরূপ ব্যর্থতার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করিয়া হাইকোর্ট বিভাগ এবং সরকারকে অবহিত করিয়া, পুনরায় অনধিক তিন মাস সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।



অষ্টম অধ্যায়
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত সম্পদ

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদের দখল
৩৪। (১) কোন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত কোন সম্পদ ভোগ বা দখল করিতে পারিবেন না।

(২) সন্ত্রাসী বা অন্য কোন ব্যক্তি এবং এই আইনের অধীন অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত হউক বা না হউক, এইরূপ অন্য কোন ব্যক্তির দখলে থাকা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ, সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

ব্যাখ্যা।- সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ অর্থ এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে অর্জিত বা লব্ধ কোন অর্থ, সম্পত্তি বা সম্পদ।





সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত
৩৫। যেক্ষেত্রে বিচারক এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন সম্পত্তি সন্ত্রাসী কার্য হইতে উদ্ভূত হইবার কারণে জব্দ বা ক্রোক করা হয়, সেইক্ষেত্রে, তিনি যে ব্যক্তির দখল হইতে উক্ত সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোক করা হইয়াছিল, সেই ব্যক্তি এই আইনের অধীন অভিযুক্ত হউক বা না হউক, উহা বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।





সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের পূর্বে কারণ দর্শাইবার নোটিশ জারী
৩৬। (১) সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদানের পূর্বে, যে ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ অথবা দখলে উক্ত সম্পদ থাকে, উক্ত ব্যক্তিকে লিখিত নোটিশ প্রদানপূর্বক বাজেয়াপ্ত করিবার কারণ অবহিত না করিয়া এবং নোটিশে প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে লিখিত জবাব প্রদানের সুযোগ এবং শুনানীর যুক্তিসঙ্গত সময় প্রদান ব্যতিরেকে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-লব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করা যাইবে না ।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদান করা যাইবে না, যদি অনুরূপ ব্যক্তি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত সম্পদ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে- লব্ধ সম্পদ ছিল তাহা তিনি অবগত ছিলেন না এবং উপযুক্ত মূল্যের বিনিময়ে তিনি তাহা খরিদ করিয়াছেন।





আপীল
৩৭। (১) ধারা ৩৫ এর অধীন প্রদত্ত বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।

(২) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ধারা ৩৫ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ সংশোধিত বা বাতিল করা হইলে অথবা এই অধ্যাদেশের কোন বিধান লংঘনপূর্বক কোন মামলা দায়ের করা হইলে, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারা ৩৫ এর অধীন বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, উক্ত ব্যক্তি খালাসপ্রাপ্ত হইলে উক্ত বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান করা হইবে এবং যদি উক্ত ব্যক্তির নিকট বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ফেরত প্রদান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তি সরকারের নিকট বিক্রয় হইয়াছে গণ্যে, সম্পত্তি জব্দের দিন হইতে যুক্তিসঙ্গত সুদ গণনাপূর্বক এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে মূল্য নির্ধারণপূর্বক উহার মূল্য পরিশোধ করিতে হইবে।



নবম অধ্যায়
পারস্পরিক আইনগত সহায়তা

পারস্পরিক আইনগত সহায়তা
৩৮। (১) যখন কোন সন্ত্রাসীকার্য এইরূপে সংঘটিত হয় বা উহার সংঘটনে এইরূপে সহায়তা, চেষ্টা, ষড়যন্ত্র বা অর্থায়ন করা হয় যাহাতে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের ভূখন্ড সংশ্লিষ্ট থাকে, অথবা কোন সন্ত্রাসীকার্য বা উহার সংঘটনে সহায়তা, চেষ্টা, ষড়যন্ত্র বা অর্থায়ন কোন বিদেশী সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখন্ড হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে অন্য কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখন্ডে সংঘটিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত বিদেশী রাষ্ট্র অনুরোধ করিলে বাংলাদেশ সরকার, সন্তুষ্ট হইলে, এই ধারার পরবর্তী বিধানাবলী সাপেক্ষে, ফৌজদারী তদন্ত, বিচারকার্য বা বহিঃসমর্পন সম্পর্কিত সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে উক্ত বিদেশী রাষ্ট্রকে আইনগত সহায়তা প্রদান করিবে।

(২) অনুরোধকারী রাষ্ট্র এবং অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পাদিত আনুষ্ঠানিক চুক্তি কিংবা পত্র বিনিময়ের ভিত্তিতে আইনগত সহযোগিতার শর্তাদি নির্ধারণ করা হইবে।

(৩) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের অভিযোগে বিচারের জন্য বাংলাদেশের কোন নাগরিককে এই ধারার অধীনে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট সমর্পণ করা যাইবে না।

(৪) এই ধারার অধীন পারস্পরিক আইনগত সহায়তার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কোন নাগরিককে, তাহার সম্মতি সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারী মামলা বা তদন্ত কার্যে সাক্ষী হিসেবে সহায়তা প্রদান করিবার জন্য কোন বিদেশী রাষ্ট্র্রের নিকট সমর্পন করা যাইবে।

(৫) যদি সরকারের নিকট বিশ্বাস করিবার মত যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে কোন মামলায় শুধুমাত্র তাহার গোত্র, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিচার করিবার বা শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে এই ধারার অধীন আইনগত সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হইয়াছে, তাহা হইলে অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অনুরূপ কোন নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে বহিঃসমর্পণ বা পারস্পরিক আইনগত সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবে।



দশম অধ্যায়
সাধারণ বিধানাবলী

অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিন অযোগ্যতা
৩৯। (১) এই আইনের অধীন সকল অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable) হইবে।

(২) এই আইনের অধীন সকল অপরাধ জামিন অযোগ্য (non-bailable) হইবে।





তদন্ত ও বিচার বিষয়ে পূর্বানুমোদনের অপরিহার্যতা
৪০। (১) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধের তদন্ত করিতে পারিবেন না ।

(২) সরকারের পূর্বানুমোদন (sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে গ্রহণ (cognizance) করিবে না।





বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হইতে মামলা স্থানান্তর
৪১। সরকার, সাক্ষ্য সমাপ্তির পূর্বে, বিচারের যে কোন পর্যায়ে, যুক্তিসঙ্গত কারণে, এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা বা মামলাসমূহ কোন দায়রা আদালত হইতে কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বা কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হইতে কোন দায়রা আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।





তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা
৪২। সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা, এই আইনের তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।





বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৪৩। সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।





মূল পাঠ এবং ইংরেজী পাঠ
৪৪। এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং ইংরেজীতে অনূদিত উহার একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ থাকিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।





রহিতকরণ ও হেফাজত
৪৫। (১) সন্ত্রাস বিরোধী অধ্যাদেশ, ২০০৮ (২০০৮ সনের ২৮ নং অধ্যাদেশ) এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।



Copyright®2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs