ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Monday, October 22, 2018

চৈতা পাগলের দেশ

দেশে চৈতা পাগলের অভাব নাই। বছরের বেশিরভাগ সময়ই ভালো থাকে। যখন চৈত্র মাস আসে, গরম একটু বেশি পরে, অমনি পাগলামি শুরু হয়ে যায়। এধরনের পাগলকে আমরা চৈতা পাগল হিসাবেই চিনি এবং ডাকি।
সম্প্রতি একটা বিষয় বেশ আলোচনায় আছে। একটু বেশি মাতামাতি হলেই যেমন আমরা বলি ভাইরাল হয়ে গেছে, তেমনি ব্যারিস্টার মইনুল ইসলামের সাথে মাসুদা ভাট্টির তর্ক-বিতর্ক দেশে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুক গরম, আদালতপাড়া গরম, মিডিয়া গরম, ইউটিউব গরম, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও গরম হয়ে উঠেছে। আর উল্লেখিত মাধ্যম গরম হওয়ার সাথে সাথে অনেকে কার্তিক মাসে হালকা শীতের আমেজে চৈত্র মাসের আমেজ পেয়ে গেছে। আর জেগে উঠেছে চৈতা পাগলেরা।
বড় বড় বিজ্ঞজনরা বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। নারী যেমন মানুষ তেমনি পুরুষও মানুষ। ঢাকার বহুল প্রচার পাওয়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা যেমন মানুষ তেমনি ঢাকার ফুটপাতে গণমাধ্যম পল্লীর পাশে রাতে পন্যবাহী সবজির ট্রাক খালাশ করার কাজের জন্য অপেক্ষমান টুকরির মধ্যে কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়ে থাকা ব্যক্তিটিও মানুষ। কথার যৌনাঙ্গ দিয়ে ধর্ষিত উচু স্তরের তর্কবিশারদ নারী যেমন মানুষ তেমনি কুড়িগ্রামের নিভৃত পল্লীতে মোড়ল বেটার পুত্র দারা ধর্ষিতাও মানুষ। বহুল প্রকাশিত ও প্রচারিত দৈনিকের সাংবাদিক যেমন মানুষ তেমনি শরীয়তপুরের মত অবহেলিত জেলার একজন জেলা প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলামও একজন মানুষ। কিন্তু সেই মানুষগুলো যখন আক্রান্ত হয় তখন প্রতিবাদী মানুষগুলো যেন কেমন কেমন আচরণ করেন।
নিভৃত পল্লীর একজন সাধারণ মেয়ে ধর্ষিত হলে পত্রিকার ভিতরের পাতায় সিঙ্গেল কলামে ছোট করে নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজ বড় হলে লাইনেজ বিল দিতে হবে তাই যতটা কাটা যায়, কিন্তু বড় কোন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুখের কথায় ধর্ষিত হলে চৈতা পাগলরা জেগে যায়। বড় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মামলায় পড়লে মূহুর্তে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পায় আর জেলার সাধারণ সাংবাদিক মিথ্যা মামলা খেলে জেল খাটে। বড় সম্পাদক গোত্রের সাংবাদিক মামলা খেলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে আর ছোট সাংবাদিক মামলা খেলে চাকরি খোয়ায় বিনা বিবেচনায়, বিনা তদন্তে, বিনা বিচারে। এই যে প্রতিবাদের পার্থক্য এখানেই দুঃখ লাগে। চৈতা পাগলরা সাধারণ মানুষের পক্ষে নাই, আছে ক্ষমতা, রুটি, হালুয়ার পক্ষে।
বড় সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে বিশজন, পঞ্চাশজন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানায় কিন্তু শরীয়তপুরের কাজী নজরুল ইসলামদের মত সাংবাদিকরা সত্যের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখে মামলার পর মামলা খেলেও তাদের কলম দিয়ে একটা শব্দও বের হয় না, তাদের জন্য একমাত্র সম্পাদকই একটা পত্র লিখে তা হলো টার্মিনেশন লেটার! ভাত দেয়ার মুরোদ নেই চাকরি খাওয়ার গোশাই!!
চৈতা পাগলরা আবার বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। কেউ লাল দল, কেউ নীল দল, কেউ সাদা প্যানেল, কেউ গোলাপী প্যানেল। কিন্তু অবহেলীতা সাধারণ মানুষের জন্য কোন প্যানেল দেখি না। টক শোতে দেখি অমুক সমর্থক আলোচক, তমুক সমর্থক সমালোচক, অমুক বিশারদ, তমুক বিশারদ। কই, মানুষ সমর্থক, সুস্থ সমাজ সমর্থক কোন বিশারদ তো দেখি না।
কেন এমন হয়? কেন এমন হচ্ছে? সবাই কি রুটি হালুয়ার পিছনে দৌরাচ্ছে? দেশে যখন খাদ্যের অভাব ছিলো, দেশে যখন মঙ্গা, খড়া, অনটন ছিলো তখনতো এত ক্ষুধার্ত বিবেক ছিলো না। এখন দেশ খাদ্যে অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু মানুষের ক্ষুধা কেন এত বেড়েছে। তাহলে কি এটা ক্ষমতার ক্ষুধা? যদি ক্ষমতার ক্ষুধায় ক্ষুধার্ত হয় তবে কেন তারা সুশীল নামে আখ্যায়িত হন? তারাতো ভুখা, নাঙ্গা, ক্ষুধার্ত ছাড়া কিছুই না। একটি ক্ষুধার্ত বিবেকের কাছে আমরা কি আশা করতে পারি? পাগলের কাছেই বা আমরা কি আশা করতে পারি? পাগলের যেমন বুদ্ধি থাকে না, আবার ক্ষুধা থাকলেও মাথায় বুদ্ধি খেলে না। সুতরাং চৈতা পাগলদেরও কোন বিবেক নাই।
আসুন, চৈতা পাগল থেকে সাবধানে থাকি। আমরা সাধারণ মানুষ হলেও আমরা কিন্তু সব বুঝি! একটা লোকাল উক্তি বলি, ‘আমরা কিন্তু সব বুঝি, কে আমার বুকের দিকে তাকায় আর কে পেটের দিকে তাকায়, আমরা কিন্তু সব বুঝি।’
সব শেষে একটা বিষয় ক্লিয়ার করে দেই। আমার এই লেখায় কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন তবে আমার বিরুদ্ধে কোন একশনে গিয়ে লাভ নেই। কেন লাভ নেই তা একটা কৌতুকের মাধ্যমে বলি-
এক যুবককে পুলিশে ধরেছে। বিচারক যুবককে বলো
-তোমার বিরুদ্ধে দেশের অর্থ মন্ত্রীকে বেকুব বলার জন্য চার্জ গঠন করা হলো
যুবক-আমিতো কোন দেশের অর্থ মন্ত্রী তা বলি নাই। আমি উগান্ডার অর্থ মন্ত্রীকে বলেছি। 
বিচারক-কোন দেশের অর্থ মন্ত্রী বেকুব আমরা জানিনা মনে করো? আমাদের কে দেখে কি তোমার আবুল মনে হয়??

আমিও কোন দেশের চৈতা পাগলের কথা বলেছি তা কিন্তু বলিনি!!

Sunday, October 21, 2018

ইলিশের আকুতি

আমায় মেরে ভরছো সবাই, ডিপ ফ্রিজের ভিতর
ভাবতে পারো তোমরা হলে, কত বড় ইতর?
কয়েকটা দিন করলে দেরি, এমন কি ক্ষতি হতো
এই ক’দিনে ছাড়তাম ডিম, কোটি গুনন শত।
ডিম ফুটে হতো পোনা, কয়েক দিনেই ঝাটকা
এর পরেই পারতে খেতে, ধরে আমায় টাটকা।
প্রজননের মৌসুম এখন, এলাম ডিম দিতে
নিষেধ থাকা সত্বেও জাল, ফেললে তুলে নিতে।
রাষ্ট্র তোমায় খাবার দিলো, আমায় না ধরতে
তুবুও আজ ডিমসহ কেন, হলো আমায় মরতে?
একটু যদি সবুর করতে, পুশিয়ে দিতাম ঘাটতি
জাল ভরে উঠতাম আমি, আমার আছে কাটতি!
তোমার এমন আচরনে, মন চায়না আসতে
মৌসুম এলে তবুও আমি, আসি ভাসতে ভাসতে।
প্রজনন আমার কমে গেলে, কমে উৎপাদন
তখন তুমি কেমনে চলো, ভাঙ্গে কেন মন?
রাজা, উজির, পাইক, পেয়াদা, রক্ষার তরে আছে
তবুও দেখি লোভনীয় আমি, এখনই তাদের কাছে।
সবাই যদি হও সচেতন, একটু আমার তরে
দেখবে আমি উঠবো বেড়ে, নদী যাবে ভরে।
এভাবে যদি ধরতে থাকো, একদিন হবো শেষ
তখন কেউ বলবে না আর, এটা ইলিশের দেশ।
অধম জুয়েল বলে, মা’ইলিশ করুক প্রজনন
অতি মুনাফা, স্বাদের লিপ্সা করো নিয়ন্ত্রন।


Saturday, October 13, 2018

জান মালের উপর ভরসা করা কঠিন!!

।১।
আকাশ মনি আর বাতাশ কুমার খুব ভাল বন্ধু। দুজনেই এবার জিপিএ ফাইভ পেয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিলো ‘আই গট জিপিএ ফাইভ’! দুজনেই ভর্তি হয়েছে একই কলেজে! আগে দুজনে দুই স্কুলের বাসিন্দা ছিল। আকাশ মনি পড়তো জেলা সরকারী গার্লস স্কুলে আর বাতাশ কুমার পড়তো জেলা সরকারী বয়েজ স্কুলে। গার্লস স্কুলের সম বয়সী ইয়ারমেটদের প্রতি বয়েজদের একটু আগ্রহ থাকে বেশি, ঠিক তেমনি বয়েজ স্কুলের ইয়ারমেটদের প্রতি গার্লসদের আগ্রহ দেখা যায়। স্কুলটা ছুটি হলে বয়েজরা ইনিয়ে বিনিয়ে গার্লস স্কুলের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার শেষ রাস্তাটা খুজে পায়। আর গার্লসরা বয়েজ স্কুলের ছাত্রদের দেখলে একদম গুটিয়ে যায়। যা হোক, সমবয়সী সহপাঠিদের মধ্যে মেয়েরা নিজেদের একটু ছোট ভাবতেই পছন্দ করে। গার্লস স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বয়েজ স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভাইয়া বা ভাইজান বলে। এসএসসি পাস করার পর আকাশ মনি ও বাতাশ কুমার দুজনে একই কলেজে একই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুবাদে এখন বেশ কাছে এসেছে। পূর্বের পরিচিত এখন ক্লাসমেট, সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে জ্যামিতিক হারে। প্রথমে ভাইয়া ভাইয়া ডাকলেও সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে হয়ে যায় ভাইজান ভাইজান। কয়েকদিনের মধ্যে এক সাথে কলেজে আসা, একসাথে যাওয়া, একসাথে ক্যান্টিনে খাওয়া। এর বিল ও দেয়, ওর বিল এ দেয়। বেশ জমিয়ে ফেলেছে আকাশ আর বাতাশ। দুজনে ক্লাস ফাকি দিয়ে মাঝে মাঝেই কলেজের পাশের শীতল ছায়া ঘেরা বাগানে ঘুরে বেরায়, সবুজ ঘাসে বসে একটু গল্প সল্প করে। আকাশ মনি ঘাসের ডগা ছেড়ে, বাতাশ কুমার গাছের পাতা কচলায়।

এভাবে কখন যে একে অপরকে আপন করে নিয়েছে কেউ বুঝতে পারেনি। ভাইয়া থেকে দোস্ত আর দোস্ত থেকে ভাইজান ডাকে মেয়েটা ছেলেটাকে। দেখতে দেখতে ভাইজান থেকে ভাই শব্দটা যে কোথায় উড়ে গেল দুজনের কেউই বুঝতে পারলো না। এখন একজন আরেকজনকে জান জান বলে পাগল প্রায়। জান তুমি কি কর? জান তুমি কি খাও? জান তুমি কোথায় এমন হাজারো প্রশ্নের বন্যা।

আস্তে আস্তে চলতে থাকে জান জান ডাকা। আর সময় ও স্রোত কখনো কারো জন্য অপেক্ষা করে না তা তো আমরা সবাই জানি। আকাশ বাতাশের সময়ও বসে নেই। দুজনেরই পরীক্ষা ঘনিয়ে আসছে। দেখতে দেখতে কলেজের প্রায় সময়টাই চলে গেছে। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। জান জান খেলায় পরীক্ষার প্রস্তুতির অবস্থা দুজনেরই খারাপ। পরীক্ষার পর রেজাল্ট বের হলো, কিন্তু আজব এক কারিশমায় দুজনে আবার ‘জিপিএ ফাইফ গট’!! ভর্তি পরীক্ষার চাপে দুজনেই বেসামাল। আকাশ মনিকে তার বাবা উপায়ান্ত না দেখে একটা বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে দিলো। আর ছেলেটা চলে গেলো ফিলিপাইনে মেরিন সাইন্স পড়ার জন্য। আজ দুজনের দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেকে...

তার পর দীর্ঘ দিন চলে গেলো। দেশে এসে বাতাশ কুমারের সাথে দেখা আকাশ মনির। আকাশ মনির হাতে ফুটফুটে একটা মেয়ে! আকাশ মনি তার মেয়েকে বললো, মামনি এটা তোমার একটা আংকেল। বাতাশ কুমার তার পাশে দাড়ানো মেয়েটিকে আকাশ মনির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো তোমার ভাবি!! আমরা দুজন একসাথে পড়তাম! ইত্যাদি!! 

।২। 
এক দেশে এক প্রধানমন্ত্রী ছিল। সেই প্রধানমন্ত্রীর এক আস্থাভাজন বিত্ত মন্ত্রী ছিল। সে শুধু মালের হিসাব রাখতো। মালের হিসাব রাখতে রাখতে তার নাম হয়ে গেছে মাল বাবু। কোথায় কত মাল খরচ করতে হবে, কোথা হতে মাল আনা যাবে। কোথায় কত শুল্ক ধরলে দেশ মালে মালামাল হয়ে যাবে, কারা কারা মাল চুরি করলে কিছু বলা যাবে না বরং মাল চুরির সময় যদি মনে ব্যাথা পায় তবে কিভাবে শান্ডার তেল দিয়ে মালিশ করতে হবে এ বিষয়ে তার বিস্তর জ্ঞান। জ্ঞানী মানুষের চোখ ফাকি দেওয়া সহজ। আবার জ্ঞানী মানুষ অপকর্ম করিয়া বেরালেও তাহা ঢাকিতে বেশ ওস্তাদ। মাল বাবুর দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু দুষ্ট লোক লক্ষাধিক কোটি স্বর্ণমূদ্রা নিয়ে বিদেশ পলায়ন করিল তাহা মাল বাবু টেরই পেল না। তাহাকে জিজ্ঞাস করায় সে বললেন, এ তেমন কোন মুদ্রা না। এর চেয়ে তাজ মহল বানিয়ে চুন সুরকি ‘রাবিশ’ খরচ করে অনেক মুদ্রা নষ্ট করা হয়েছে।

বাজেটের সময় হয়ে গেছে। দূর দর্শন খুললে বাজেট নিয়ে দেখি বাজে টক করছেন জ্ঞানী গুনি বুদ্ধিজীবীরা। মালবাবু একদা এক রাতে বাজেট চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়লেন। চিন্তা করে বের করলেন মানুষের উপর করের বোঝা বাড়াতে হবে। মূল্যের উপর আরো মূল্য সংযোজন করতে হবে। তবে তার মাথায় সবচেয়ে যে নিষ্টা বুদ্ধিটা এলো সেটা হলো সঞ্চীত মুদ্রার উপর শুল্ক কাটা। মুদ্রা সঞ্চীতি সাধারণত বৃদ্ধ বা সিনিয়র সিটিজেনদের আর প্রবাসীদের কাজ। শেষ জীবনের সঞ্চয় কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখে মুনাফা ভেঙ্গে ভেঙ্গে খাওয়া। দেশে যারা অবস্থান করে তারা টাকা সঞ্চয়ের সময়ই পায় না, হাতে আসে আর খরচ করে। মাল বাবু বিষয়টা খেয়াল করলো। সঞ্চীত মুদ্রার উপর মুনাফা আসবে তা দিয়ে আরামে বসে খাবা সেটা তো হতে পারে না। তাতে অলসতা বাড়বে, মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নয় ছয় হয়ে গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া প্রায়, কোষাগার গুলো শুন্যের কোঠায় অবস্থান করছে। এই অবস্থায় তাদের তহবিল টইটুম্বুর করতে হবে। সে টাকা কে দেবে! জনগন আছে না! তাই বাজেটে সে ঘোষণা দিলো যে প্রতিষ্ঠান গুলো চুরি-লুটের কারনে ফান্ড সংকটে পড়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে মুদ্রা দিয়ে ফান্ড ভরে রাখতে হবে। কারন পরবর্তীতে চোর ডাকাতরা আবার যখন হানা দিবে তখন কি তারা খালি হাতে যাবে? আর ওরা যদি খালি হাতে যায় আমাকে কমিশন বাবদ কি দেবে, লবডংকা? তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা জমালে উক্ত টাকার উপর শুস্ক শুল্ক দিতে হবে। দেশে তো এ নিয়ে তুলকালাম কান্ড। নিজের ভাই বেরাদাররা পদত্যাগ দাবী করলো মাল মন্ত্রীর। কেউ কেউ ক্রিমিনাল চার্য গঠনের দাবী জানালো। কিন্তু যারা এত দাবী জানালো তারা তো জানে না মাল কোথায় উঠে বসে আছে। মাল যে কোথা উঠেছে তা জানে শুধু মালে। রাবিশ কোথাকার, ওরা মালের পাওয়ার সম্পর্কে জানেই না!!

।৩।
বাতাশ কুমার বিদেশে পড়াশুনার পাশাপাশি জব করতো। পড়াশুনা যখন শেষ হয় তারপরেও বেশ কিছুদিন চাকুরি করে বেশ টাকা কামিয়ে দেশে এসেছে। দেশে এসে চিন্তা করলো টাকা গুলো কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রেখে আবার বিদেশ চলে যাবে। এখান থেকে যে লাভের টাকা আসবে তা দিয়ে বাবা মায়ের স্বাচ্ছন্দে চলে যাবে। দেশে এসে দেখা হলো আকাশ মনির সাথে হাতে তার ফুটফুটে মেয়ে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখবে জমা তাও দেখে শুল্ক নামের বিষ পিপড়ার থাবা। মালের থিওরিতে মুদ্রা সঞ্চয় করে লাভের পরিবর্তে দেখা গেলো লস হবে। বাতাশ কুমার নিজেই বির বির করে বললো, জান আর মালের উপর কোন ভরসা নাই... জান চলে গেছে আরেকজনের সাথে আর মাল খাবে মাল বাবু........ 

ধার করা একটা কৌতুকঃ 
এক যুবককে পুলিশে ধরেছে। বিচারক যুবককে বলো
-তোমার বিরুদ্ধে দেশের অর্থ মন্ত্রীকে বেকুব বলার জন্য চার্জ গঠন করা হলো
যুবক-আমি কোন দেশের অর্থ মন্ত্রীকে বেকুব বলেছি তাতো বলি নাই! আমিতো উগান্ডার অর্থ মন্ত্রীকে বেকুব বলেছি। 
বিচারক-কোন দেশের অর্থ মন্ত্রী বেকুব আমরা জানিনা মনে করো? আমাদের কে দেখে কি তোমার আবুল মনে হয়??

Saturday, September 29, 2018

মানুষ

কাজের জন্য ভবে এসে
করলা শুধু কাম
মানুষ রূপে ভবে এসে
দিলা কি তার দাম?

সৃষ্টির সেরা জীব করিয়া
পাঠাইলো এ ভবে
এমন স্বরূপ হবে জানলে
পাঠাইতো কি তবে?

পাঠাইলা ভবে, মানুষের জন্য
করতে হবে কাজ
হানা-হানি, হিংসা-বিদ্বেষ
করছে কি মানুষ আজ?

মানুষের তরে মানুষ হোক
প্রেম লিলা যত কর্ম
জীবের প্রতি ভালোবাসা হোক
আজ মানুষের ধর্ম।

অধম জুয়েল বলে, হোক
মানুষ মানবতার জন্য
ধন-দৌলত, লোভ লালসা
সব হোক আজ নগণ্য।

Friday, September 28, 2018

ভবনদী

পান করিও সব সময়
এক ঘাটেরই জল
থাকবে সুস্থ্য লাগবে ভালো
পাবে তাহার ফল।
ঘাটে ঘাটে ঘুরে যদি
বদলাও তুমি প্রেমো নদী
পাবে না জীবণ অবধি
প্রেমো সুধা জল।
পার হওয়া সহজ নয়গো
ওটা হলো ভবনদী
পাড়ি দিতে সহজ হবে
দিব্য জ্ঞান থাকে যদি।
এই নদীতে বান আসেরে
রক্ত স্রোত তখনই বয়
শক্ত হাতে ধরলে বৈঠা
তোমার নেইযে কোন ভয়।
সেই নদীটার বয়স হলে
পাড় শুকায়, শুকায় পানি
যৌবনেতেই নৌকা নিয়ে
করে সবে দাড় টানাটানি।
অধম জুয়েল বলে,
ভব নদীর পাড়ে এসো
ভক্তি নিয়ে আজলা ভরে
পান করো পানি, ভালোবাসো।
হলে লোভী কামী, বহুগামী
মানুষ কেউ বলবে না
তোমার সাথে কুকুড়েরও
তুলনা কেউ করবে না।

Tuesday, September 25, 2018

মানুষ হও

মানুষ রুপে জন্ম দিলে 
দেখতে দিব্যি মানুষ
কথা কাজে মিল পাই না
শুধুই কথার ফানুষ।
মুখে সদা ধর্মের কথা
সুন্নত রাখে জিন্দা
কাজে দেখি ভিন্নতা
প্রতারণা চিন্তা।
পরের ধনে লোভ দেখি
দেখি করে ধান্দা
লুটে নেয় সবকিছু
বাছেনা লুলা-আন্ধা।
ভাব দেখায় এমন তিনি
স্রষ্টার সহি বান্দা
কাজের বেলায় দেখি তাকে
ভন্ড, চতুর, নাখান্দা।
অন্যের অনিষ্ট করে
ধণের বোঝা বৃদ্ধি করে
খাচ্ছো মানুষ ধরে ধরে
ভালো মানুষ সাজছো পরে।
জায়গা পাবে নর্দমাতে
হাটবে নিকষ কালো রাতে
থাকবে না কেউ তোমার সাথে
খাটলে শুধুই দিনে রাতে।
বিদায় ঘন্টা বাজবে যেদিন
কথাটা রেখো মনে
তোমায় আগলে রাখবে নাকো
তোমার জমা ধণে।
অধম জুয়েল বলে
থাকতে সময় হাতে
আলোর সঞ্চয় করো তুমি
আলো তোমায় পথ দেখাবে রাতে।

বাণী!!!

নদীর পার ভাঙ্গার সাথে
কারো কপালও ভাঙ্গে
নদীর পার গড়ার সাথে
কারো কপালও গড়ে।

ভাঙ্গা-গড়া সবসময়ই
চলে জীবণ খেলায়
কষ্ট পাবে দেখ তুমি
ভাঙ্গে যদি শেষ বেলায়।

অধম জুয়েল বলে,
থাকতে সময় গুটালি হাত
সূর্য উঠবেই জানিস
পোহাইলে কালো রাত।

পদ্মার ভাঙ্গন নিয়ে ভাঙ্গা পদ্য

১।
নদী খাচ্ছে ভ‚মি
খাচ্ছে দালান বাড়ি
বাপের ভিটা ছেড়ে দিলাম
নিরুদ্দেশে পাড়ি।

২।
নদীর ¯্রােতের সাথে
ভাঙ্গছে কপাল নেতার
কেউ ভাবছে এবারই
সুযোগ ভোটে জেতার।

৩।
ভাঙ্গন দেখতে প্রতিদিন
আসে হাজার লোক
কেউ দেখে রঙ্গ-তামাশা
কেউ জানায় শোক।

৪।
নেতা-মন্ত্রী, আমলা-ফইলা
এসে দেয় বিবৃতি
তাতে কি ভোলা যায়
ফেলে আসা স্মৃতি?

টান

ভাঙ্গছে নড়িয়া-জাজিরা, টান পড়ে নাড়িতে
এখন কেবলই স্মৃতি, থাকতাম ঐ বাড়িতে।
খেলতাম ঐ মাঠে, চড়তাম ঐ গাছে
খেয়েছে পদ্মা, আজ স্মৃতিই শুধু আছে।
পড়তাম ঐ স্কুলে, মাদ্রাসায়, মক্তবে
বাপের ভিটা ছেড়ে যাওয়া শক্ত এই ভবে!
মসজিদে সালাত আদায়, মন্দিরে প্রার্থনা
দুষ্ট ছিলাম, বড়রা তাই ভাবতো যন্ত্রনা!
হাট-বাজার, চাষের জমি, বাগান-ভিটা যত
সব নিয়েছে পদ্মা কেড়ে, রেখে গেছে ক্ষত।
সব গেছে যে পদ্মার পেটে, রইলো না আর কিছু
বার বার নিলো সহায় কেড়ে, ছাড়ছে না যে পিছু।
প্রকৃতির নিয়মে চলে, ভাঙ্গা গড়ার খেলা
প্রতিরোধের কথা বলেই, কাটিয়ে দিলো বেলা!
নিঃস্ব হওয়ার পরে তোমরা, দেখতে আসো লীলা
নেতা নও, অভিনেতা তুমি, দেখছি তোমার খেলা।

Wednesday, September 5, 2018

আজ আমার ছোট্ট মায়ের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মা... প্রিয়ন্তী


আজ আমার ছোট্ট মায়ের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মা... প্রিয়ন্তী

মা। ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু এই শব্দের ক্ষমতা, ব্যাপকতা, মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা, আবেগ, আবেদন অনেক বেশি। আমার কাছে মা শব্দটা একটা পৃথিবীর মত। বাকি সব আরেক পৃথিবী।


অনেকদিন হয়ে গেছে মা হারিয়েছি। সেই ৩০ মার্চ ২০১২ সালের শেষ রাতে। দীর্ঘদিন মা ডাকতে পারিনি। ডাকলেও মা সাড়া দেয়নি। দীর্ঘ দিন পার করে ফেলেছি, কিন্তু মা হারানোর ব্যাথা ভুলতে পারিনি, আর জীবনে পারবো বলেও মনে হয় না তবুও জীবন জীবনের নিয়মে চলতে থাকেআমিও চলছি। থেমে নেই কিছুই। 

এর পর আবার মা পেয়েছি। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখ। আমাদের কোল আলো করে আসে আমাদের মেয়ে যাকে মা বলেই ডাকি সেই রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী। সেদিন মেয়েকে কোলে নিয়ে আমি যেন আবার আমার মাকেই ফিরে পেয়েছিলাম, আমি কেদে ফেলেছিলাম। ছোট্ট ছোট্ট হাত পা। নেড়েচেড়ে খেলা করে, হাসে, কাদে। দেখে গর্বে বুকটা ভরে উঠতো। এর পর দিন যেতে যেতে এখন সেই ছোট্ট মা ডাকলে সাড়া দেয়, আদর দেয়, আদর নেয়।

আমার ছোট্ট মা আমার খেয়াল করে মায়ের মতই, মাঝে মাঝে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়, খাওয়ার সময় শাসন করে বলে, শেষটুকু খেতে হয়, নইলে বড় হবা না। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি আর কত বড় হব মা? প্রিয়ন্তী বলে, ফুপির মা নেই, ফুপির মা মারা গেছে। কিন্তু আমার মা কি আছে জিজ্ঞেস করলে বলে, আছে, এই যে আমি তোমার মা!
 

আজ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আমার ছোট্ট মা রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী চার বছর পূর্ণ হলো। আমার ছোট্ট মা পঞ্চম বছরে পা দিলো। আমি সব সময় দোয়া করি ও যেন মানুষের মত মানুষ হয়, ও যেন মানবতাবাদী হয়, ও যেন পরোপকারি হয়, ও যেন ভদ্র হয়, সভ্য হয়।


সবাই দোয়া করবেন আমার ছোট্ট মায়ের জন্য।