ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Tuesday, September 26, 2017

শারদীয়

শী‌তের আগমনী, ভোর রা‌তে শীর শীর ধ্বণী
গ্রী‌ষ্মের বিদ‌ায়, প্রচন্ড গর‌মে প্রাণ যায় যায়।
রীতুর আসা~যাওয়া, খাই অসু‌খের ধাওয়া
ভূগী ঠান্ডা~জ্ব‌রে, এই ম‌রে সেই ম‌রে
‌ছোয়া‌চের মত ক‌রে, ঘ‌রের সবাই‌কে ধ‌রে
‌ছোটাছু‌টি দিক‌বি‌দিক, সাত দি‌নে হ‌বে ঠিক।

এত কিছুরও প‌রে
রু‌পের ‌যে আভা ঝ‌রে
বালুর মাঠ, নদীর পাড়
‌বিস্তীর্ণ কাশব‌নের ঝাড়
সাদা ফু‌লে মে‌ঘের রুপ
ই‌চ্ছে ক‌রে দেই যে ডুব
শারদীয় আব‌হ
রুপ যে ভয়াবহ
জুড়ায় আমার প্রাণ
কে‌টে যায় বিরহ।

দূর থে‌কে কাশবন ঘন দে‌খি কত
এর মা‌ঝে ফাকা আ‌ছে হৃদ‌য়েরই মত
‌রোদ শু‌ষে রেশ‌মি হ‌য়ে‌ছে যে ফুল
হঠাৎ বাতা‌শে সে‌ যে হারায় এ কুল
নানা রু‌পে প্রকৃ‌তি, আ‌সে না‌কো নি‌তে
রুপ, রস, গন্ধ, আসে সে‌ যে দি‌তে।
প্রকৃ‌তির মত ক‌রে ভা‌লোবা‌সে কে?
আর কেউ নয়, তুমিই‌তো সে।

Monday, September 25, 2017

কান্না

সমুদ্র তী‌রে বিশালাকায় ঢেউ
আ‌স্রে প‌ড়ে শুনায় তার গর্জন
তী‌রের শেষ প্রান্তে এ‌সে
‌ঝির ঝির শ‌ব্দে নে‌মে যায় আবার
নামার বেলায় কি ত‌বে শুন‌তে পাই
‌ছে‌ড়ে যাওয়া ক‌ষ্টের চাপা কান্নার রোল?

কান্নার ভাষা আর আন‌ন্দের ভাষা
সারা দু‌নিয়ায় কি একই?
সুগন্ধা~কলাতলী কিংবা লাবনী বীচ
সাগর কন্যা কুয়াকাটা সুন্দরী বি‌চের
গর্জন~কান্না~‌বেদনার গানও একই সু‌র!

শত শত মাইল পা‌ড়ি দি‌য়ে ছু‌টে যাই দ‌রিয়ার তী‌রে
শুন‌তে তার গর্জন আন কান্নার রোল।
শ‌ব্দের সা‌থে মন মেলা‌লেই কেবল
শুন‌তে পা‌রি তার কান্না কি গর্জন ধ্ব‌ণি।

কুয়াকাটা

সাগর কন্যা ডাক দি‌য়ে‌ছে
‌যে‌তে তাহার কা‌ছে
তাহার ডাকে দে‌বো না সাড়া
‌সে সা‌ধ্যি কি আ‌ছে!

তাহার ডা‌কে দি‌তে সাড়া
ছুটলাম নি‌য়ে গা‌ড়ি
বউ বাচ্চা রাগ‌যে হ‌লো
‌দি‌লো আমায় আ‌ড়ি!

আমার মত শামীম‌কেও
‌দি‌য়ে‌ছে যে ডাক
ইস্রা‌ফিল‌কে সা‌থে না নি‌লে
কর‌বে ভীষন রাগ।

শামীম ধরা স্টিয়া‌রিং
চালা‌চ্ছে যে গা‌ড়ি
রাম্তায় দেখি চল‌ছে আ‌রো
গা‌ড়ি সা‌রি সা‌রি।

আমা‌দের মত ও‌দেরও‌কি
‌দি‌য়ে‌ছে আমন্ত্রন?
সাগর কন্যার স‌ত্যিই আ‌ছে
বিশাল বড় মন!

Thursday, September 21, 2017

ক‌বির গা‌য়ে জ্বর

ক‌বির গা‌য়ে জ্বর
কাপ‌ছে থর থর
ক‌বি ভূগ‌ছে ঠান্ডায়
কা‌শে গন্ডায় গন্ডায়।


শরী‌রের তাপমাত্রা
উঠ‌ছে মিটা‌রের চা‌ঙ্গে
এমন ব্যাথা, ম‌নে হয়
পি‌ঠে চাহা ভা‌ঙ্গে।

জ্ব‌রে খায় না
খায় না‌কি কাপা‌নি‌তে
এইবার বুঝ‌‌ছি মানুষ
‌কেম‌নে ম‌রে হাপা‌নি‌তে।

জ্বর আ‌সে জ্বর যায়
থা‌কে রোগা দেহ
জ্বর নি‌য়ে ফাজলা‌মো
ক‌রিওনা কেহ!

Wednesday, September 13, 2017

থামাও এবার

হিংসার আগুন যখন ছড়িয়ে পরে
গ্রাম থেকে গ্রামে, ঘর থেকে ঘরে
ধর্ম তখন নিরবে কেঁদে কেঁদে
শোনায় তার অমূল্য বাণী
‘সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’
হে মানবতার মেডেলধারী সুচি
তোমার জগত মায়ানমারের
রোহিঙ্গা প্রাণীরা কি সুখে আছে?
খুব জানতে ইচ্ছে করে সুচি,
তুমি কি সেই আগের মতই আছো
নাকি অনেক খানি বদলে গেছো?
হিংসার আগুন যখন গ্রামে লাগে
পীরসাহেবের ঘরও নাকি বাদ যায়না
আরাকান পুড়ছে আর তুমি বিষের বাঁশী বাজলে?
আগুন থেকে বাঁচলেও তাপ তোমায় ঝলসাবে ঠিকই
প্রচন্ড তাপে তোমার মেডেল গলে গলিত লাভার মত
বুক বিদীর্ণ করে ফোটায় ফোটায় পরবে রোহিঙ্গাদের রক্তের মত
আর কত রক্ত ঝড়লে মনে হবে এখন মানবতার গায়ে রক্ত লেগেছে
আর কত মানুষ পুড়লে তোমার নাকে যাবে পোড়া মাংসের গন্ধ
আর কত ধর্ষিত হলে মনে হবে ইজ্জত আজ ভূলন্ঠিত
আর কত মানুষ মরলে মনে হবে এটা গণহত্যা
আর কত বাড়ি পুড়লে মনে হবে জমিন এবার শক্ত হয়েছে?
এবার থামাও এবার থামাও এবার থামাও এ হত্যাযজ্ঞ।

প্রেমের কাব্য

তোমার তখন চৌদ্দ চলে, আমার বয়স ষোল
প্রথম দেখায় আমার মনে, কি যেন কি হলো।
আলতো হেসে গা'টি ঘেষে, পাশ দিয়ে যে গেলে
চোখটি দেখে কি যে হলো, প্রেমে দিলে ফেলে।

তুমি তখন নাইনে পড়, আমি একাদশে
মনটা চাইতো বলি কথা, পাশাপাশি বসে।
তোমার বাড়ি আমার বাড়ি, নয়তো বেশি দূরে
তোমাকে গান শুনাই আমি, অমর প্রেমের সুরে।

আসতে যেতে হয়যে দেখা, অল্প স্বল্প কথা
দুষ্টমিরই ছলে হচ্ছে, প্রেমের মালা গাথা।
ছোট ছোট চিঠির সাথে, প্রেম দেয়া নেয়া
অজান্তেই ভাসিয়ে দিলাম, মোদের প্রেমের খেয়া।

স্কুল ফাকি দিয়ে তুমি, আমার ক্লাস রেখে
নির্জনেতে কথা বলি, পাছে কেউ না দেখে।
লোক লজ্জার ভয়ে কাপে, বুকটা দুরু দুরু
অনেক আগেই হয়েছে মোদের, প্রেমের কাব্য শুরু!

আস্তে আস্তে প্রেমের কাব্য, সবাই গেল জেনে
প্রিয়ার বাবা ক্ষেপলো ভীষন, নিলো নাযে মেনে।
বাল্য কালেই প্রিয়াকে মোর, দিয়ে দিলো বিয়ে
খবিস বাবা আমার থেকে, প্রিয়াকে গেল নিয়ে।

আমার বাবাও কম যায়না, পাঠালো আমায় বিদেশে
মনটা আমার পড়ে রইলো, প্রিয়ার কাছে স্বদেশে।
দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকে, এলাম আবার দেশে
প্রিয়ার সাথে হঠাৎ দেখা, হলো অবশেষে।

জানতে চাইলো মনটা আমার, কেমন আছে প্রিয়া
সেই কবে যে হয়ে গেছে, আমার প্রিয়ার বিয়া।
এখন তুমি অন্যের ঘরে, অন্য হৃদয় জুড়ে
মনটা আমার তোমার জন্য, এখনও যে পোড়ে।

দেশে কিংবা বিদেশ থাকি, মনটা তোমারই কাছে
তোমায় ভুলবো এই জীবনে, সে সাধ্য কি আছে?
দূর থেকে দেখে মনে মনে, বলছি একটা কথা
ভাল থেকো তুমি যতই থাকুক, আমার মনে ব্যাথা।

বি‌ক্রি হ‌বে!

আমি কিছু বোমা বিক্রি করবো
অত্যন্ত সুলভ মূল্যে, আগে আসলে আগে, ভিত্তিতে
বোমাগুলো পারমানবিক জাতের
অত্যন্ত হাইব্রিড, উচ্চ ফলনশীল, অনেকটা উফসী জাতের!

আমার বোমাগুলো কাজ দেয় ভাল, তরতাজা, টাটকা
একটা ব্যবহারে আপনি ফল পাবেন হাজার বোমার মত
আপনার চিন্তায়ও নেই কেমন এর কার্যক্ষমতা!
মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে, পারমানবিক কেন?
কারন এর কার্যক্রম মানবিকতাকে করে পরাভূত।
সে এক বিরাট ইতিহাস,
নাম রেখেছিলাম পরা মানবিক, শুনতে কেমন যেন লাগে!
পরে এভিডেভিট করে, রাজস্ব দিয়ে নাম সংশোধন
সেকি ঝক্কি ঝামেলা, এখন সে পারমানবিক বোমা।
আমার বোমাগুলো মানবিকতাকে ধ্বংস করে এমনভাবে
যেখানে আর কোন মানব থাকবে না
যাদের কৈ মাছের প্রাণ তারা থাকবে,
তবে শত বছর পরেও বাচ্চা দিবে বিকলাঙ্গ
সেই শিশু বড় হয়ে মাথা তুলে দাড়াবে না।
ককটেল, হাত বোমা, টাইম বোমা?
অনেক আগেই বেচা ছেড়েছি এগুলো
এক সময় চাহিদা ছিল, অস্বীকার করবো না
নির্বাচনে, মিছিলে, পিকেটিংয়ে, হরতালে
এগুলো ছাড়াতো সফলতার কথা ভাবাই যায়নি।
ওগুলো কেবলই ইতিহাস! গ্রেনেড বেচাই ছেড়েছি সেই কবে!
আমার আছে, আমি আর রাখ‌বো না
এমন অসম মানব সমাজ আমি চাই না
সুলভ মূল্যে নিয়ে যাও, তবে স্টক সীমিত।
নিলে আমায় কথা দিতে হবে,
প্রয়োগে যেন মানবিকতাই মরে, অমানুষ নয়
ধ্বংসযজ্ঞ দেখে যেন সবাই আৎকে ওঠে
চারিদিকে যেন ধ্বণিত হয় আর্তনাত
চাই‌লে তু‌মি আমা‌কে মে‌রেই শুরু করতে পা‌রো মান‌‌বিকতার দাফন।

Tuesday, September 12, 2017

শান্তির চাষ!

গোস্ত পোড়া গন্ধ ঘোরে বাতাশে
আশে পাশে চরুইভাতি, বারবিকিউ নয়
ঘর পুড়ে, শষ্য পুড়ে, ল্যাপ খাতা কম্বল
পাশের চটলায় উল্লাশ, মাতামাতি, পালাক্রমে ধর্ষন
স্বজনের আর্ত চিৎকার, জবাই করা লাশের গোঙ্গানী
প্রাণ নিয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি
ঘরতো নেই, পোড়া ভিটামাটি ছেড়ে
পয়ত্রিশ কিলো পায়ে হেটে এসেছে ওরা
সমুদ্র স্নানে, খোলা আকাশে রাত্রিযাপনে!
মানুষ মারা যেখানে উৎসব
শান্তির মেডেল পড়া গলায়
আমাকে দিয়ে কি হয় মানবতার ক্ষতি!
আমি রাখাইনে করি শান্তির চাষ!

অধিকার

বার বার তোমার প্রেমে পড়ে
বার বার দাড়াই উঠে
হৃদয়টা বের করাই ছিল
ডান হাতেরই মুঠে।
ব্যর্থ হয়েছি বুঝাতে তোমায়
ছিল, প্রকাশে অসঙ্গতি
একটু ভালবাসলে বলো
হবে কি এমন ক্ষতি?
ফেরৎ দিয়েছো বার বার আবার
চেয়েছি তোমারই কাছে
এছাড়া আর বিকল্প কি
আমার কাছে আছে?
ভালবাসা আছে হৃদয় জুড়ে
হয়তো একদিন খুজবে
বছরে বছরে যুগ চলে যাবে
ঠিকই একদিন বুঝবে।
বলবে আমায় বেহায়া তুমি
নষ্ট প্রতারক ও ভন্ড
মন দাওনি এরচেয়ে আর
কি হতে পারে দন্ড?
শত বকাঝকা শত লাঞ্চনা
ব্যর্থ হয়েছো চেষ্টায়
আমার ছিল দৃঢ় সংকল্প
দেখবো কি হয় শেষটায়।
বার বার আমি ভালবেসেছি
বার বার এসেছি ফিরে
সত্যিকারেই ভালবাসি সেটা
দেখিয়েছি বুকটা চিরে।
যতবারই তুমি ফেরত দিয়েছো
আবারো পড়েছি প্রেমে
অদম্য মোর ভালবাসার জোর
যাইনি তাইতো থেমে।
অন্য কোথাও যাইনি আমি
তোমার থেকে ফিরে
বার বার ফিরে এসেছি শুধুই
ভেবেছি তোমায় ঘিরে।
আজো আমি আশায় আছি
আমায় তুমিই বুঝবে
ডান মুঠো থেকে হৃদয়টা নিয়ে
ভালবাসাটাই খুজবে।
দেখবে তখন হৃদয় জুড়ে
হাজারো নীলচে দাগ
নিজের উপরই তোমার তখন
ধরবে অনেক রাগ।
ভাববে তুমি এমন করে
কেউকি ভালবাসে!
বাসে বৈকি, তাইতো সে যে
বার বার ফিরে আসে!
যখন তোমার হৃদয়ে আমার
হৃদয়টা মেলাবে
কষ্টের শত নীলচে দাগ যে
নিমিশেই মিলাবে।
বলবে আমার হৃদয় তখন
ভালবাসি ভালবাসি
ফিরিয়ে দিয়েছো তাইতো আমি
বার বার ফিরে আসি।

ভালবাসা যখন অধিকার

বার বার আমি প্রেমে পড়ি
বার বার দাড়াই উঠে
হৃদয়টা বের করাই ছিল
ডান হাতেরই মুঠে।

ব্যর্থ হয়েছি বুঝাতে তোমায়
ছিল, প্রকাশে অসঙ্গতি
একটু ভালবাসলে বলো
হতো কি এমন ক্ষতি?

তোমার কাছে পাইনি বলেই
গিয়েছি অন্যদের কাছে
এছাড়া আর বিকল্প কি
আমার কাছে আছে?

ভালবাসা আছে হৃদয় জুড়ে
তাইতো ছুটেছি বার বার
তুমি দিলে না, যেতেও দিবেনা
আছে কি তোমার সে অধিকার?

বলবে আমায় বহুগামী
তুমি নষ্ট প্রতারক ও ভন্ড
মন দাওনি এরচেয়ে আর
কি হতে পারে দন্ড?

বার বার আমি ভালবেসেছি
বার বার এসেছি ফিরে
সত্যিকারেই ভালবাসি সেটা
দেখিয়েছি বুকটা চিরে।

যতবারই আমি ফেরত এসেছি
ততবারই পড়েছি প্রেমে
অদম্য মোর ভালবাসার জোর
যাইনি তাইতো থেমে।

অন্যের কাছে গিয়াছি আমি
তোমার কাছে হেরে
বার বার আমি গিয়াছি শুধুই
ভালবাসার অধিকারে।

দিতে যদি তুমি হতো না যেতে
অন্য হৃদয় দ্বারে
চির ঋণে আবধ্য আমি
হতাম তোমার ধারে।