ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Tuesday, September 12, 2017

ভালবাসা যখন অধিকার

বার বার আমি প্রেমে পড়ি
বার বার দাড়াই উঠে
হৃদয়টা বের করাই ছিল
ডান হাতেরই মুঠে।

ব্যর্থ হয়েছি বুঝাতে তোমায়
ছিল, প্রকাশে অসঙ্গতি
একটু ভালবাসলে বলো
হতো কি এমন ক্ষতি?

তোমার কাছে পাইনি বলেই
গিয়েছি অন্যদের কাছে
এছাড়া আর বিকল্প কি
আমার কাছে আছে?

ভালবাসা আছে হৃদয় জুড়ে
তাইতো ছুটেছি বার বার
তুমি দিলে না, যেতেও দিবেনা
আছে কি তোমার সে অধিকার?

বলবে আমায় বহুগামী
তুমি নষ্ট প্রতারক ও ভন্ড
মন দাওনি এরচেয়ে আর
কি হতে পারে দন্ড?

বার বার আমি ভালবেসেছি
বার বার এসেছি ফিরে
সত্যিকারেই ভালবাসি সেটা
দেখিয়েছি বুকটা চিরে।

যতবারই আমি ফেরত এসেছি
ততবারই পড়েছি প্রেমে
অদম্য মোর ভালবাসার জোর
যাইনি তাইতো থেমে।

অন্যের কাছে গিয়াছি আমি
তোমার কাছে হেরে
বার বার আমি গিয়াছি শুধুই
ভালবাসার অধিকারে।

দিতে যদি তুমি হতো না যেতে
অন্য হৃদয় দ্বারে
চির ঋণে আবধ্য আমি
হতাম তোমার ধারে।

Monday, September 11, 2017

বন্ধু

বন্ধু ছাড়া চলে নাকি
সকাল দুপুর রাত
বিপদ কালে বন্ধুইতো
বাড়িয়ে দেয় হাত।
বন্ধু হলে সবই চলে
ঝগড়া প্রেম ফুর্তি
বন্ধুতো হয়না কভু
মাটির তৈরী মুর্তি।
বন্ধুর থাকে রক্ত মাংস
আবেগ অনুভূতি
বন্ধুত্বে যায় না খোজা
কখনো লাভ ক্ষতি।
বন্ধু তুমি যেথায়ই থাকো
থাকো সদা মনে
বন্ধু তোমায় অনুভব করি
থাকো প্রানে প্রানে।
বন্ধুকে বলতে হয়না
তোকে ভালবাসি
মনের সাথে মন মিলিয়ে
সেযে বোঝে কেন ফিরে আসি।
দুঃসময়ে না ডাকিলেও
বন্ধু ঠিকই আসে
বক ধার্মিক সুসময়ে
থাকে আসে পাশে।
বন্ধুর ঋণ কখনো যে
শোধ করা যায় না
প্রাণটা দেবে তবুও বন্ধু
বিনিময়টা চায় না।
দুটি দেহের একটি আত্মা
বন্ধু তাকেই বলে
বন্ধুত্বের মাঝে কভু
ফাঁক হলে কি চলে?
নিখাদ প্রেম যাদের সাথে
তারাই আসল বন্ধু
তুমিই আমার অথৈ সাগর
ঘাসের ডগায় একটি শিশির বিন্দু।

Sunday, September 10, 2017

শিরনামহীন

আমার সাথে হাটবি তুই?
চলবি আমার সাথে?
ঘন্টা মাস বছর যুগ
ভোর কিংবা রাতে
বাঁচলে আমি বাঁচবি তুইও
মরলে মরবো সাথে।

খাইলে আমি খাবি তুইও
উপোস থাকলে উপোস
ভালবাসার সাথে কিন্তু
চলবে নাযে আপোষ!

জোৎস্না দেখলে একই সাথে
অমাবশ্যায় হাত রেখে হাতে
মূষলধারে বৃষ্টি এলে
আম কুড়ানো, খেলার কালে
প্রচন্ড ঝড়, বন্যা হলে
গ্রীষ্ম কি শীত শরৎ কালে
অল্প কথায় কষ্ট পেলে
যাবি নাতো আমায় ফেলে?

যদি থাকিস আমায় ঘিরে
বারবার আমি আসবো ফিরে
যখন যেথাই যাই
সকাল দুপুর রাত্রি ভোরে
যাইও যদি কোথাও দূরে
গাই যদি গান অন্য সুরে
কথা থাকবে তোকেই ঘিরে
দেখতে পাবি বুকটা চিড়ে
আমি শুধুই তোর।

হাটবি সাথে থেকে পাশে
বালুকা পথ কিংবা ঘাষে
পাথর সুরকি অগ্নি কয়লায়
নর্দমা কি নোংরা ময়লায়
মখমলে কি পীচ ঢালা পথে
নৌকা কিংবা অগ্নি রথে
বাসে কিংবা স্টিমারে
রেল লাইনের স্লিপারে
হাত ধরে সমান্তরালে
প্রকাশ্যে কি অন্তরালে।

দিলে কথা বলছি তোরে
ফুল দিয়ে ঘুম ভাঙ্গবো ভোরে
আকাশ থেকে চাঁদটা এনে
তোর শত ইচ্ছা মেনে
ভালবাসবো তোকেই শুধু
জীবন জনম ভরে।

মা , , , , ,

যার কারনে আসলাম আমি -- রঙ্গীন ধরণীতে
বৃথা চেষ্টা করি আমি -- তাহার ঋণ শোধিতে।

ভালবেসে কষ্ট শুষে -- দিলো আমায় জন্ম
তার দয়াতে দুনিয়াতে -- করছি কত কর্ম
তার আদরে তার যতনে -- উঠলাম আমি বেড়ে
সেই মাকে খোদা তুমি -- নিলা কেন কেড়ে
মায়ের অভাব ভুলতে চেয়ে -- পারি নাযে ভুলতে
শক্তি আমায় দাও বিধাতা -- এই শোকের ভার তুলতে।

মায়ের মত হয়না যে কেউ -- এই ধরনীতে
বৃথা চেষ্টা করি আমি -- তাহার ঋণ শোধিতে।

মাযে আমার শত কষ্টেও -- দোয়া গেল দিয়ে
সেই মাকে খোদা তুমি -- কেন গেলে নিয়ে
মাযে আমার চন্দ্র সূর্য -- আকাশ বাতাশ তারা
দুনিয়াটা বৃথা লাগে -- মাগো তোমায় ছাড়া
তোমার হাতের পরশ আমি -- ভুলতে যে পারিনা
মাগো আমি তোমায় ছাড়া -- কিছুই যে বুঝিনা।

মাগো তুমি খোদার নিয়ামত -- পারিনি বুঝিতে
বৃথা চেষ্টা করি আমি -- তাহার ঋণ শোধিতে।

তুমিই আমার সোনার বাংলাদেশ

আমার খুব বেড়াতে যাওয়ার শখ।
সময় পেলেই ঘুরে বেড়াই এদিক ওদিক।
কদিনের জন্য গিয়েছিলাম কোলকাতা
সেখানে সবই আছে,
মাছে ভাতের বাঙ্গালী, বাংলায় কথা বলার মানুষ
আছে রিক্সা, গাড়ী, দোকান, ফুটপাত, চায়ের দোকান
ভিক্ষুক, কুলি, মজুর, ভবঘুরে, টাউট, বাটপার
প্রকৃতি, সৌন্দর্য, সকাল, বিকাল, রাত, সুন্দরী ললনা
মদ, নারী, কফি হাউস, সারি সারি বইয়ের দোকান, মল
তার পরেও মনে হয়েছে কি যেন নেই।
যেখানেই পা’রেখেছি পায়ের নিচটা যেন ফাকা ফাকা লেগেছে
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুড়ে বেরিয়েছি।
যেখানেই পা রেখেছি পায়ের নিচের মাটি বড় কোমল
মনে হয়েছে একান্তই আপন, একান্ত নিজের
হে বাংলাদেশ
যেখানেই যাই মনে হয় যেন মায়ের কোলেই বসবাস
এমন কোমলতা, এমন আতিথেয়তা, এমন বাতাশ
কোথাও পাইনি, কোথাও নেই শান্তির সুবাতাশ
প্রিয় জন্মভূমি,
তোমার কোমলতা, ভালবাসা, স্নেহ, প্রেম
এমন উদারতা, এমন স্নিগ্ধতা, এতটা মুগ্ধতা, এতটা সবুজ
কোথাও যে পেলাম না তোমায় স্পর্শে যা পাই
শুধু তোমার বুকে মুখ রাখলে
অনন্য এক ভালবাসার পরশ করি অনুভব
কি আছে তোমার বুকে, কেনই বা এমন আবেশে
আষ্টে পিষ্টে ধরে রাখো আমায়, কেনই বা তোমার মায়ায়
লাখো মানুষ প্রাণ দেয়, কি আছে তোমার গহীন হৃদয়ে
তোমার ভালবাসার মোহ কেন কাটে না আমার
ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি বার বার বলতে যে চাই
হে জন্মভূমি, তুমিই যে মা, তুমিই যে প্রিয়ার ডাগর চোখ
তুমিই যে সন্তানের বাবা ডাক, তুমিই যে আমার শেষ ঠিকানা
তোমার কোলে শুরু আমার তোমার কোলেই হতে চাই শেষ
তুমি আর কেউ নও, তুমিই আমার সোনার বাংলাদেশ।

Wednesday, September 6, 2017

শুভ জন্মদিন ** শুভ জন্মদিন শুভ ** জন্মদিন প্রিয়ন্তী


৩০ মার্চ ২০১২ শেষ রাতে আমার মা রওশনারা বেগম পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমাদের ছেড়ে চলে যান। এর পর দীর্ঘ দিন পার করে ফেলেছি, কিন্তু মা হারানোর ব্যাথা ভুলতে পারিনি, আর জীবনে পারবো বলেও মনে হয় না। তবুও জীবন জীবনের নিয়মে চলতে থাকে।

এমনি একদিন ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে আমি বাবা হয়েছি। নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে আমি যেন আবার আমার মাকেই ফিরে পেয়েছি। আজ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আমার আরেক মা রওশন আসাদ প্রিয়ন্তী তিন বছর পূর্ণ হলো। সে আজ চার বছরে পা দিয়েছে।
আমার মা যেভাবে আমাকে শাসন করেছে, পথ দেখিয়েছে, সতর্ক করেছে, আদর করেছে আমি তার সব কিছু পাই আমার ছোট্ট প্রিয়ন্তীর কাছ থেকে। সে আমাকে আমার মায়ের মতই বাবা বাবা বলে ডাকে। আমার মা আমাকে জুয়েল নামে খুব কমই ডেকেছে, বাবাই ডেকেছে বেশি। প্রিয়ন্তীর আদর আমাকে আমার মায়ের কথাই বার বার মনে করিয়ে দেয়।

আমার মায়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন তিনি যেন বেহেস্ত নসীব হন এবং আমার প্রিয়ন্তী মায়ের জন্য দোয়া করবেন সে যেন মানুষের মত মানুষ হতে পারে।

প্রিয় আমার

আমায় যদি প্রশ্ন কর, তোমার প্রিয় কে?আমি এক বাক্যে বলে দেব আমার মা।
যে মা আমায় জন্ম দিয়েছে
পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে
হাটতে শিখিয়েছে
পড়তে শিখিয়েছে
শক্ত করে ধরতে শিখিয়েছে
লড়তে শিখিয়েছে
শিখিয়েছে বুঝতে
ভাল কিছু খুজতে
অপরের কান্না মুছতে।
সেই  মা,
যে আমাকে অভয় দিয়েছে
সাহস দিয়েছে
উৎসাহ দিয়েছে
কখনো দিয়েছে বাধা।
আমাকে যে শাসন করেছে
বারন করেছে
আমায় হৃদয়ে ধারন করেছে
ভালবাসতে শিখিয়েছে
কাছে আসতে শিখিয়েছে
হিংসাকে ঝারতে শিখিয়েছে
রাগকে মারতে শিখিয়েছে
অহংকারকে ছারতে শিখিয়েছে
জীবনকে চিনতে।
সেই  মা
যে আমায় আলো দেখিয়েছে
অন্ধকারেও সাহস দিয়েছে
হতাশা থেকে মুক্তি
শিখিয়েছে শত যুক্তি
দূর আকাশে দৃষ্টি দিতে
খুশিতে মিষ্টি দিতে
আনন্দ বিলিয়ে দিতে
কষ্টগুলো নিজের ভিতর চেপে নিতে
গ্রীষ্ম, বর্ষা, প্রচন্ড শীতে
নিজেকে সামলে নিতে
ঝড় ঝঞ্জায় শক্ত হতে
মানবতার ভক্ত হতে।
সেই মা
যে আমাকে শিখিয়েছে
ভুলগুলো কি, ফুলগুলো কি
গন্ধটা কি, মন্দটা কি
ন্যায়টা কি, আর অন্যায় কি
মানুষ কি আর অমানুষ কি
জোৎস্না কি আর ফানুষটা কি
ধর্মটা কি, কর্মটা কি
মানবতা না থাকিলে
সে আবার মানুষ নাকি?

তাইতো আমার প্রিয় তুমি
ওমা তুমিই  জন্মভূমি
তুমিই আমার এক পৃথিবী
সারা জীবনভর।


Tuesday, September 5, 2017

তুই যে আমার


মনের পাখা মেলে ডানা
ঘুরে বেড়ায় বনবাদারে
উদাস পানে চেয়ে চেয়ে
হারায় তারে অন্ধকারে।


হারায়ে তারে খোজে আবার
পায় যে খুজে চোখের কোনে
যাবি কোথায় সামনে থেকে
তুইযে থাকিস গহীন মনে।

মনের ভিতর থাকার পরও
মন যেতে চায় অচিন দেশে
তোকে কাছে পাওয়ার পরও
মন যে ঘোরে প্রেমিক বেশে।

মনকে আমি বুঝাই যত
মন যে ঘোরে যথা তথা
তোকে ভালবাসি কত
কি করে বুঝাই সে কথা।

ঘুরি আমি যে প্রদেশেই
ভালবাসি তোকেই আমি
তুইযে আমার প্রাণের অংশ
হীরার চেয়েও অনেক দামী।

ভালবাসি তোকেই আমি
বুঝিস কিনা তা জানি না
তুই বাসিস কি না বাসিরে
তুই ছাড়া কিছুই মানি না।

নাম তার সু‌চি

নাম তার সু‌চি
সবাই করে ছিঃ ছিঃ
নাই মানবতার রুচি
‌ছিঃছিঃ ছিঃছিঃ ছিঃ‌ছিঃ।
কাজ তার মন্দ
নাই তাল ছন্দ
মানবতার সা‌থে তার
চল‌ছে যে দ্বন্দ।
শা‌ন্তি‌তে নো‌বেল
‌কি‌নছে চড়া দা‌মে
উসুল কর‌ছে তা
রক্ত ও ঘা‌মে
পুড়‌ছে‌যে ঘর
‌নি‌চ্ছে‌যে প্রাণ
মানুষ পুড়ি‌য়ে নেয়
মাং‌সেরই ঘ্রাণ।
তাই‌তো ব‌লি তা‌কে
জা‌নোয়ার সু‌চি
সবাই তাই‌তো ব‌লে
‌ছিঃছিঃ ছিঃছিঃ ছিঃ‌ছিঃ।

দেব শিশুর জলবিছানা

জলবিছানায় ঘুমিয়ে আছে
দেখতে যে দেব শিশু
শান্ত সে যে চোখটি বোজা
বোঝে না সে কিছু।
বোঝে না সে সীমান্ত কি
কাটা তারের বেড়া
বোঝে না সে এ দেশ ও দেশ
মানুষ-জানোয়ারের তাড়া।

জানোয়াররা আসলো গায়ে
করলো শুরু গুলি
জ্বালিয়ে দিলো শেষ সম্বল
জ্বলছে যে ঘরগুলি।
মা বো‌নে‌দের কর‌ছে তারা
ধর্ষন ও হত্যা
আর্তনা‌দের শব্দটা কি
শে‌া‌নেনা বিশ্ব কর্তা?

প্রাণ বাঁচাতে সব যে ফেলে
হলো ঘরের বার
ভয়ের চোটে দেব শিশুটি
হাতটি ধরলো মার।
ছুটছিলো সে হাতটি ধরে
মায়ে সাথে সাথে
ছুটছিলো সে দিক বিদিক
অজানারই পথে।

দেব শিশুটি বোঝে নাতো
মানুষ মানবতা
দেব শিশুটি বোঝে নাতো
হিংসার ব্যাকুলতা।
‌দেব শিশু‌টি বো‌ঝে নাতো
‌বৌদ্ধ মুসলমান
‌দেব শিশু‌টি বো‌ঝে না‌তো
‌কেনই নি‌চ্ছে প্রাণ।

হিংসার আগুনে পোড়ে
গ্রাম, দেশ, মানবতা
হিংসার আগুনে পোড়ে
ফেলে আসা স্মৃতি কথা।
হিংসার আগু‌নে পে‌া‌ড়ে
ধর্ম আর সমাজ
‌হিংসার আগু‌নে পো‌ড়ে
মানুষ আর র‌হিংগা সমাজ।

গ্রাম পুড়েছে ঘর পুড়েছে
কারন যে নাই জানা
চির নিদ্রায় গেছে সে যে
পেতে জলবিছানা।
‌হিংসাটাও থে‌মে যা‌বে
থাম‌বে যে সব‌কিছু
‌সে‌দিন তো আর নিদ্রা থে‌কে
উঠ‌বে না দেব শিশু।

এই শিশুটির দেশটি কোথায়
গ্রামের নামটি কি?
কে করে তার শাসন জানো
অং সান সুচি!
শান্তিতে পায় নোবেল সে যে
গ্রাম উজার করে
সেই দেশেতে নিরিহ মানুষ
জানোয়ারে খায় মেরে।