ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Monday, July 24, 2017

শরীয়তপুরের লিজা হত্যা ॥ হলুদ সাংবাদিকতায় আতঙ্ক ছড়ায় একদল জানোয়ার



শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সরদার কান্দি গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান লিজা আক্তার লিজা আপনার আমার সন্তানের মতই তার পিতা-মাতার আদরের সন্তান লিজা সখিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ভাবা যায়, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়য়া একটি মেয়ে কেমন ফুটফুটে, চঞ্চল, হৃদয়কারা হতে পারে? ঠিক তেমনি একটি মেয়ে লিজা স্কুল পড়য়া লিজা আক্তার সাইকেল চালাতে ভালবাসতো স্কুল থেকে ফিরে প্রতিদিনের মত খাওয়া দাওয়া সেরে ছুটে গেছে খেলতে খেলতে খেলেত নিশ্চই তার মনে পড়েছে প্রিয় কাজ সাইকেল চালানোর কথা ছুটে গেছে সাইকেল ভাড়া দেয়ার দোকানে পনের মিনিটের জন্য একটা সাইকেল ভাড়া নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বিশ মিনিট সাইকেল চালিয়ে এসে দোকানির কাছে ফিরত দেয় সাইকেলটি পাঁচ মিনিট বেশি হয়ে গেছে, তাতে কি, দোকানদার চাচ্চু কিচ্ছু বলবে না, কারন প্রতিদিনের কাষ্টমার যে লিজা! লিজার সেই সৎ সাহস ছিল দোকানদারের কাছ থেকে সাইকেল ভাড়া নিয়ে চালিয়ে আবার ফেরতও দিয়ে গেছে কিন্তু দেরির জন্য দোকানি কিছু বলেনি, আর বলবেই বা কেন, এতটুকু বাচ্চা, পাঁচ মিনিট বেশি চালিয়েছে তাতে এমন কি ক্ষতি হয়ে যাবে তার? সাইকেল ফেরত দিয়ে যাওয়ার পর লিজা নিখোজ ঘটনাটা ১৫ জুলাই শনিবার অনেক খোজাখুজির পর থানায় সাধারণ ডায়রী করা হলো অবশেষে আট দিন পর মিললো তার নিথর দেহ লিজার মৃত্যু অত্যন্ত বেদনা দায়ক, আমরা মর্মাহত এবং শোকাহত পরিবারের জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই
 
লিজার লাশ আট দিন পরে নিজ বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে এক ফসলী জমিতে পাওয়া গেছে ছোট্ট বাচ্চা, মৃত্যুকালে কতটাই না ছটফট করেছে! কতটাই না কান্নাকাটি করেছে মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য, বাবার কাছে যাওয়ার জন্য স্বজনরা কত জায়গায়ই না খোজাখুজি করেছে! আট দিন পরে শাক তুলতে যাওয়া মানুষ দূর্গন্ধ পেয়ে এগিয়ে দেখে একটি লাশ খবর পেয়ে লিজার পরিবার ছুটে এসেছে তারাই সনাক্ত করেছে আর কেউ নয় এটাই তাদের আদরের ধন লিজা
লাশ পাওয়ার পর যা হয়! সেই পোষ্ট মর্টেম, কাটাছেড়া লিজাকে আনা হলো শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সেখানে দুজন ডাক্তার লিজার মরদেহর ময়না তদন্ত করলো আট দিনের পচা গলা লাশের ময়না তদন্ত করা খুবই কঠিন চিকিৎসক লাশের ভিতরে লিভার, হৃদযন্ত্র, কিডনি, জরায়ু কিছুই পেল না পর্যন্ত সবই চলেছে প্রকৃতির নিয়মে লিজার মৃত্যু যেমন একটি ঘৃন্য কাজ এর পরের কাজগুলো করলো কিছু হলুদ সাংবাদিক সংবাদটাকে রং মেখে হলুদ থেকে লাল করে দিলো শরীয়তপুরে কিছু চিহ্নিত সাংবাদিক আছে যারা খবর বানায় তাদের বানানো খবরে মানুষ বিভ্রান্ত হয়, এতেই সাংবাদিকরা মজা পায়
ঘটনাটা নিয়ে কিছু সাংবাদিক ইঙ্গিত করলো অঙ্গ পাচারকারীর আনাগোনার দিকে তাদের নিউজে উঠে এলো লিজার যেসব অঙ্গ নেই সেগুলো পাচারকারী চক্রের কাজও হতে পারে আর সেই ভীত তৈরী করার জন্য কৌশলে চিকিৎসকদের দিয়ে এমন কিছু বক্তব্য বের করলো যা টানলে রাবারের মত বলে সেই সাংবাদিকরা একবারও বিবেচনায় আনলো না যে অঙ্গগুলো যদি কোন পাচারকারী চক্র নিয়ে থাকে সেগুলো কোন কাজে লাগবে কিনা? আর এটা সম্ভব কিনা তাও তারা জানে কিনা আমি তা নিশ্চিত নই আমি নিজেও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে জানিনা তবে এটুকু ধারনা আছে যে, অঙ্গ কোন আলু পটলের তরকারী না যে নিয়ে গেলে রেধে খাওয়া যাবে বা কোন বয়ামে ভরে নিয়ে গেলে খোলা বাজারে চড়া দামে বেচা যাবে তাই বন্ধু ডাক্তার মাহবুবুল হকের সাথে যোগাযোগ করলাম বিষয়টা জানার জন্য জানতে তো কোন দোষ নেই, তাই আমার অজ্ঞতার কথা খুলে বললাম বন্ধু আমায় জানালো, এধরনের সংবাদ প্রচারকারীরা শুধু হলুদ সাংবাদিকই না তারা দালাল চক্রও বটে বন্ধু আমায় কিছু তথ্য দিলো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো

কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হলে ডোনারের কাছ থেকে কিডনি নিয়ে, মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে অপারেশন শুরু করতে হয়। অপারেশন করতে লাগে ঘন্টা। পৃথিবীতে ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় দেহের বাহিরে কিডনী সংরক্ষনের কোন উপায় আবিষ্কৃতই হয়নিএর বেশী সময় অতিবাহিত হলে রক্তের কোষ মারা যায়, সেই কিডনী প্রতিস্থাপন করলে রোগী মারা যাবে। কিডনী প্রতিস্থাপন করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিতসক লাগে, লাগে দুটি অপারেশন থিয়েটার। দাতা গ্রহীতা দুইজন থাকেন পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারেযার তার কাছ থেকে কিডনি নেয়াও যায়না। রক্তের গ্রুপ মিলতে হয়, এইচএলএ টাইপিং এর মত আধুনিক আরও পরীক্ষা, দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের একরকম হলে তবেই একজন আরেকজন কে কিডনি দিতে পারে। নাহলে গ্রহীতার মৃত্য নিশ্চিতকোনভাবেই যা সম্ভব নয়, তা কী করে সেটা ফলাও করে নিউজ আকারে প্রচারিত হয়। কিংবা কেন? উত্তর পাবেন ২০১১ সালে ফিরে গেলে। বাংলাদেশে সবে কিডনি লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হল। সম্ভাবনা তৈরী হল এদেশেই এসব চিকিতসা শুরুর। মাথা খারাপ হয়ে গেল, বিদেশী হাসপাতালের এদেশীয় দালালদের, বিশেষ করে পাশের একটি দেশের কতিপয় হাসপাতাল ব্যাবসায়ীদের। আর তখনি প্রথম শুরু হল গত কয়েকদিনের মত করে, কিডনি পাচার বিষয়ক সংবাদযার জন্য সরকার নিষিদ্ধ করে দিল এদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন অপারেশন। হাস্যকর ব্যাপার। মানুষ আবার বিদেশ যেতে লাগল, ভারতে গেলে খরচ হয় ১০-১৫ লাখ টাকা, সিংগাপুর গেলে প্রায় দেড় কোটি। দালাল চক্র শান্ত হল। তাদের ভাগেও যে - লাখ করে জুটে। তাদের দালালি করে কোটি কোটি টাকার আয় চলতে লাগলকিন্তু, সরকার তার ভুল বুঝতে পেরে দেশে আবার কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিল। যা এখন বঙবন্ধু মেডিকেলে থেকে . লাখ টাকায় করা যায়। বারডেমে লাখ ৭৫ হাজারে, কিডনি ফাউন্ডেশনে লাখ ৩০ হাজারে, আর জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট বিনামুল্যেআবারও মাথা খারাপ হয়ে গেল দালাল চক্রের, শুরু হল ২০১১ এর মত করে অপপ্রচার। অজ্ঞ মানুষেরা সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করল। যেটা চিকিতসা বিজ্ঞানে অসম্ভব বলে বিবেচিতযেটা হওয়া সম্ভব সেটা হল,কিডনি নেয়ার জন্য একজন মানুষকেই ভারতে বা অন্য কোন দেশে পাচার করে দেয়া, যার ব্লাড গ্রুপ, এইচএলএ টাইপিং সহ সব কিছু মিলতে হবে গ্রহীতার সাথে, এর সম্ভাবনা খুব কম, সাধারনত এসব কিছু পরিবারের লোকজনের সাথে মেলার সম্ভাবনা থাকে, তাও সব সময় মেলেনাকিন্তু কিডনি চুরি কাঁচি দিয়ে কেটে পাঠিয়ে দেয়া, চিকিতসা বিজ্ঞানে ইহা অসম্ভব। অসম্ভব। অসম্ভবএটা সম্ভব কেবল এদেশের মিডিয়া আর বিদেশি হাসপাতালের এদেশীয় দালালদের অজ্ঞতা, মূর্খতা উদ্ভট কল্পনা আর ষড়যন্ত্রে।
এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা এলাকার হলুদ সাংবাদিকরা নয় এরাতো সেই সব দালালদের পাচাটা বাচ্চা দালাল শরীয়তপুরে হলুদ সাংবাদিকতা আজ নতুন নয় এর আগেও হয়েছে আমাদের এলাকা মঙ্গা কবলিত এলাকার মত অভাবি এলাকা নয় তারপরেও এক হলুদ সাংবাদিক লিখেছিলোশুধু শাপলা খেয়ে বেচে আছে নছিমন আবার আরেকটি মেয়ে হত্যাকান্ডকে দোররা মেরে হত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি আসলে এসব নির্লজ্জ হলুদ সাংবাদিকদের লজ্জার কিছু অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না আট দিনের পচা শিশুর শরীরের অঙ্গ না পাওয়ার সাথে অঙ্গ পাচারের গল্প জুড়ে দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরী করার অধিকার কি তাদের আছে? তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত
 
অবশেষে পুলিশ প্রশাসন ঘটনার মুল হোতাকে খুজে পেয়েছে লিজার চাচাই ঘটনার মূল হোতা প্রথমে সাইকেল চালাতে টাকা দিয়ে পরে আরো পাঁচশো টাকা দিয়ে লিজাকে প্রলুব্ধ করেছে পরে একটা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা কালে লিজা বলে ফেলেছে যে, মাকে বাবাকে বলে দিবে তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গেছে লিজার চাচা গলা টিপে হত্যা করে রাতে ভ্যানে করে লাশ কৃষি জমিতে ফেলে দিয়ে নারায়নগঞ্জ চলে গেছে আট দিন পর লিজার গলিত লাশ উদ্ধার হয়েছে আট দিনে লাশ পচে যেতে পারে, দ্রুত পচনের জন্য কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করতে পারে এমনটাই ধারনা করছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ কিন্তু আমাদের হলুদ সাংবাদিকরা দেখলো অঙ্গ পাচারকারীদের পদচারনা!! এসব সাংবাদিক নামধারী হলুদ সাংবাদিকদের জন্য শুধুই ঘৃনা আর ঘৃনা!

Friday, July 21, 2017

চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী সনাক্ত !!!

সম্প্রতি ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চিকুনগুনিয়া রোগ। এ রোগের জন্য কে দায়ী এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। সরকার বলছে সিটি কর্পোরেশন দায়ী। আবার সিটি কর্পোরেশন বলছে তারা দায়ী নয়। সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনের জন্য কাজ করছে। চিকুনগুনিয়া চিকন না মোটা তারা জানে না! যেহেতু সরকার দায় চাপাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের উপর আর সিটি কর্পোরেশন দায় অস্বীকার করছে, তাহলে দায়টা কার তা বের করা জরুরী। দুটি অর্গানই যখন দায় অস্বীকার করছে তখন তাদের দিয়েতো আর দায় সনাক্ত করা যায় না। তাই নন গভার্মেন্ট থেকে নন জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে!! তারা চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী সনাক্ত করার কাজ করেছে। তাতে বেরিয়ে এসেছে কে দায়ী!! তবে চিকুনগুনিয়ার দায়ী সনাক্তের আগে এ সম্পর্কে আমাদের তদন্ত কমিটি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সংবাদগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে জনগন দিশেহারা হয়ে যে নন জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো সেই তদন্ত কমিটি সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন!! সূদীর্ঘ প্রতিবেদন এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয় তাই প্রতিবেদনের খন্ডিত অংশগুলো তুলেধরা হলো!!
তদন্ত কমিটির সদস্যগণ বলেছেন, জনগন মহা মারি মহা মারি বলে চিৎকার না করে সকলে যদি মশা মারি মশা মারি
বলে চিৎকার করতো তাতে লাভ হতো! অযথা চিৎকার চেচামেচি করে কি লাভ? চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর দায় জনগনের! কারন, জনগন মশার ডিম পাড়ার জায়গা করে দেয়। জনগন ডাব খেতে পছন্দ করে, ডাব খাওয়া হলে কেটে ভিতরের লেওয়া খায় (ডাবের শাষ) আর লেওয়া খাওয়া শেষে ছুড়ে ফেলে দেয়। ডাবের ছুড়েফেলা অংশে পানি জমে আর পারিতে ডিম পারে এডিস মশা! ডাবের পানি খাবেন, লেওয়া খাবেন আর মশার কামড় খাবেন না তাকি হয়!!
আমাদের দেশের ধনীরা গাড়ি ব্যবহার করে। গাড়ি চাকা মেরামত করার পর ছোট মানসিকতার জনগন পুরাতন টায়ার যতœ করে রেখে দেয়, সেই টায়ারে পানি জমে, সেই পানিতে ডিম পারে মশা! আমাদের দেশের ধনীর দুলালরা কোমল পানীয় খায় ক্যানে, সেই ক্যান ফেলে দেওয়ার পর জনগন তা পরিস্কার করে না, ফলে ক্যানের ভিতর জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পারে আর তাতেই চিকুনগুনিয়া ছড়ায়!
আমাদের দেশের জনগণের রয়েছে শিক্ষার অভাব। বস্তিবাসীদের শিক্ষার সুচকতো প্রায় শুন্যের কোঠায়!! বস্তিবাসী কুদ্দুস মিয়ার মতে, এসিড মশার কারনে তাদের ঘরে চিকুনগুনিয়া ঢুকেছে। এসিড মশা কামড় দিয়ে ভিতরে এসিড ঢুকিয়ে দিচ্ছে, এসিডের ত্যাজে ঐ জায়গা পরে লাল হয়ে যায়যে!
তদন্ত কমিটি লখাই মিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলো, চিকুনগুনিয়া কি ও কেন হয় জানেন? লখাই মিয়া বলেন, মনে হয় মশা গুয়ের উপর বসে, মুখ দিয়ে চিকন চিকন গুয়ের টুকরা এনে আমাদের শরীরে উপর বসে এবং কামড় দিয়ে ভিতরে গুয়ের বিজানু ঢুকাইয়া দেয়, তারপর যে রোগ হয় ওইডাই চিকুনগুনিয়া।
মালেশ্বর বাবুকে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা কিছুটা সম্পাদিত করে একাশ করতে হলো, তিনি বলেন, চিকন গো... না মোডা গো... তা দিয়া আমরা কি করুম? আমরা হইলাম সাধারণ আম জনতা। আম জনতার খাতায় নাম লিখাইয়া চিকন মোডা বাছার সুযোগ আছে? একটা হইলেই হয়!! (তিনি কিছুটা ক্ষিপ্ত, কথা না বাড়িয়ে আমাদের তদন্ত কমিটি ভালয় ভালয় কেটে পড়েন)।
তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারীগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, তারা আসলে কোন বিষয়ে একমত নন। তদন্তকারী কারো মতে চিকুন গুনিয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায় হচ্ছে আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার। তাদের দেশের অভূক্ত মশা উড়ে উড়ে আমাদের দেশে এসে সাধারণ মানুষের উপর হুমড়ি খেড়ে পড়ায় রোগটা ছড়াচ্ছে। আর যেমন খাচ্ছে তেমনি ডিম পেড়ে বংশ বাড়াচ্ছে।
অপর এক তদন্তকারীর মতে, দেশের জনগনই এর জন্য দায়ী, তারা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে উদাসীন, তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে মশার কামড় খায়, ঠিকমত মশারি টানায় না, তাদের বোঝা উচিত মেয়রতো আর ঘরের ভিতর গিয়ে মশারি টানাবে না!
অপর এক তদন্তকারীর মতে, ডাব বিক্রেতা, গারির গ্যারেজ মালিক দায়ী, কারন তারা ডাবের খোসা, টায়ার টিউব যথাযথ স্থানে ফেলে না এবং পরিস্কার রাখে না। এবার লেওয়া খাওয়ার মজা বুঝুক!!
নন জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি যেহেতু কোন বিষয়ে একমত হতে পারেনি তাই প্রতিবেদন পাঠে জনগন এই মর্মে একমত হয়েছে যে, চিকুনগুনিয়ার জন্য আসলে জনগনই দায়ী!!! তবে সরকারকে তারা কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। তাদের মতে আর দেরি না করে সিটি করপোরেশনকে এখনি মশা মারতে কামান সরবরাহ করা উচিত!

Sunday, July 9, 2017

চোখের বালি...

করিম সাহেব সরকারী চাকুরী করেন। বাড়ি তার জেলা সদরের বাইরে। উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে। এতে তার লাভ দুইটা। এক সে তার নিজের বাড়িতে থাকায় পরিবার পরিজনকে কাছ থেকে দেখভাল করে, নিজের বাড়ি পরিচর্যা করে, ফসল ফলায়, সবজি ফলায়, হাস মুরগি পালন করে, তাজা খাবার খায়, গ্রামের ফুরফুরে কার্বন বিহীন পরিস্কার অক্সিজেন সেবন করে সুস্থ্য থাকে, আর দুই শহর এলাকায় থাকতে গেলে যে মোটা অংকের বাড়ি ভাড়া লাগে তা বেচে যায়। স্বল্প বেতনের চাকুরী, উপরি কামাইয়ের দিকে নজর নেই। সৎ জীবন যাপনের চেষ্টা করে। ভাড়া বাড়িতে থাকতে গেলে যে টাকা খরচ যেত তা দিয়েই তার গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত, দুপুরে আধপেটা খাবার খাওয়া, চা নাস্তার খরচ করে অনেকটাই বেচে যায়। বেচে যাওয়া টাকায় সে একপ্রকার রাজার হালেই গ্রামের বাড়িতে সংসার চালায়। করিম সাহেব একটি মোটর সাইকেল কিনে নিয়েছে সাধ্যের মধ্যে দাম দিয়ে। সেই মোটর সাইকেলটি চালিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে। নিয়মের প্রতি করিম সাহেবের খুব যতœবান। সে আইন মান্য করে চলতে চেষ্টা করে সর্বদা। ড্রাইভিং লাইসেন্স করে নিয়েছে। কখনো হেলমেড ছাড়া গাড়ি চালায় না। গাড়িতে একটি রেইন কোট রেখে দেয় সবসময়। প্রতিদিনের মত সে বাড়ি থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। পথি মধ্যে তার সামনে পড়লো একটি নসিমন। নসিমনটি তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি বালু ভরাট করে প্লেনের গতিতে ছুটছে। চৈত্র মাস, প্রচন্ড খরতাপ। শুস্ক বালু বাতাসের তোড়ে উড়ছে সেদিকে সনিমন ড্রাইভারদের কোন খেয়াল নেই। হেলমেড মাথায় দিলেও সব সময় সামনের গ্লাসটা নামিয়ে রাখতে ভাল লাগে না। এমনিতে প্রচন্ড গরম। হেলমেড মাথায় দিয়ে চোখের সামনের ক্লাসটা উপরের দিকে উঠিয়ে রেখেছে যাতে একটু বাতাস পায় সেই চিন্তায়। দ্রুত গতির নসিমন, কাউকে সাইড দিতে অভ্যস্ত নয় তারা। করিম সাহেবকেও তারা সাইড দিচ্ছে না, আর করিম সাহেবও অতটা দ্রুত মোটর বাইক চালাতে অভ্যস্ত না। সে নিয়ন্ত্রনের ভিতরে থেকে সবসময় গাড়ি চালায়। দ্রুত গতির নসিমনের পিছনে পিছনে চলছে করিম সাহেব। হঠাৎ এক দমকা হাওয়া এসে লাগলো নসিমনের গায়ে। শুস্ক বালু উড়ে এসে করিম সাহেবের দুচোখ ভরে গেল। করিম সাহেব দুচোখে শুধু অন্ধকার দেখছে। কোন মতে গাড়ি থামিয়ে দিলো রাস্তার ধারে। চোখ খুলতে পারছে না করিম সাহেব। আস্তে আস্তে সে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। তারপর পাশের বাড়িতে গিয়ে একটি টিউবয়েলের নিচে মুখ দিয়ে চোখে পানির ঝাটকা দিলো। ভাল ভাবে চোখ ধোয়ার পরেও চোখের ভিতর বালুর ক্ষুদ্র কনা রয়ে গেছে। ভাল ভাবে তাকাতে পারছে না। তার চোখ আস্তে আস্তে লাল হয়ে গেল। বাসায় যাওয়ার পর রাতে দেখাগেলো করিম সাহেবের চোখ ফুলে ঢোল। চোখ অতি সুক্ষ আবরন দিয়ে তৈরী, সামান্য বালু কনায় টিস্যু কাটা ছেড়া হয়ে যায়। করিম সাহেবেরও তাই হলো।

আফসার সাহেব একজন সিনিয়র সিটিজেন। বিকাল হলে একটু হাটাহাটি করে নিজেকে সচল রাখার জন্য। এমনিতে বয়স হয়েছে, তার উপর ডায়াবেটিসের নানা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাই প্রতিদিনের ন্যায় ফুটপাত দিয়ে হাটাহাটি করেন আফসার সাহেব। বিকেল বেলা হাটতে হাটতে প্রধান সড়কে আসার পর হঠাৎ একটা ইটের সুড়কি ভর্তি ট্রাক তাকে পাস কাটিয়ে চলে গেলো ঝড়ের গতিতে। পাতাসের কারনে গাড়িতে রাখা সুড়কি থেকে লাল রংয়ের ধুলি ঝড় বয়ে চলেছে সেদিকে তাদের কোন খেয়ালই নেই। আফসার সাহেবের চোখে মুখে এসে লাগলো ধুলি ঝড়ের একাংশ। পরিস্কার চেহারার মানুষটা মুহুর্তের মধ্যে হলি খেলার নায়ক হয়ে গেল। সারাটা মুখ তার সুরকির লাল ছাইয়ে ভরে গেল। চোখ মেলতে পারছে না। সে দাড়িয়ে গেল। হাত দিয়ে মুখটা ঝেড়ে লাল ধুলা পরিস্কার করলেও ধুলার সাথে কিছু কনাও তার চোখে ঢুকে গেছে। চোখ ডলা দিলে সে অনুভব করছে চোখের ভিতর বড় বড় সুরকি যেন তার চোখের ভিতর ঘুরছে। রাস্তার পাশের এক চায়ের দোকানে গিয়ে মুখটা ধুয়ে নিলেন। মুখটা পরিস্কার হলেও তার চোখে পৃথিবী এখন লাল পৃথিবী। চোখের ভিতর সুরকির লাল বালু কনা ঢুকে আছে। প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে। অনেক ক্ষণ পানির ঝাপটা দেয়ার পর একটু স্বাভাবিক হলেও চোখের ভিতর কুট কুট করছে, চুলকাচ্ছে। মনে হচ্ছে চোখের ভিতর কয়েকটা ইট ঢুকে আছে বের হচ্ছে না। 

করিম সাহেব আর আফসার সাহেবের মতই আরেক ভূক্তোভূগি রহমান দম্পত্তি। রিক্সা করে বেরিয়েছেন মার্কেটে শপিং করতে। নতুন দম্পত্তি। হুড খোলা রিক্সায় বাতাশ খেতে খেতে আর গল্প করতে করতে সস্ত্রীক যাচ্ছেন শপিংয়ে। ফুরফুরে মেজাজ। হঠাৎ পাশ দিয়ে বিশালাকার আজরাইলের মত ট্রাক গর্জন করতে করতে পাশ দিয়ে গেল। ট্রাকের উপর কালো কালো পাথরের টুকরো দেখেই বোঝা যাচ্ছে এগুলো ভাঙ্গা পাথরের টুকরো। বড় কোন ভবন বা পিচ ঢালা রাস্তার তৈরীতে ব্যবহারের জন্য কোন ঠিকাদার আমদানী করেছে। বাতাসে খোলা ট্রাক থেকে পাথরের গুড়া উড়ে উড়ে আসছে। চোখ মুখ ঢাকার আগেই তাদের কর্ম সারা। দুজনেরই চোখে ঢুকে গেল ভাঙ্গা পাথরের গুড়া। রহমান দম্পত্তি অনুভব করলো চোখের ভিতর পাথরের বোল্ডার। চোখ ডলতে ডলতে দুজনের চোখই লাল। যে কেউ দেখলেই ভাববে টাল হয়ে এসেছে শপিংয়ে।
উপরের গল্প গুলো বাস্তবতার আলোকে কাল্পনিক ঘটনা। আসলে এমনটা কেন হয়? আমাদের দেশে ময়লার উদাম গাড়ি রাজ পথ দিয়ে সাই সাই করে ঘুরে বেড়ায়। পুতি গন্ধে নাগরিকরা নাক ঢাকে। যাদের সহ্য ক্ষমতা কম তারা রিক্সা-গাড়িতে বসেই বমি করে। ফুটপাতের মানুষগুলে বসে পড়ে বমি করতে করতে। নসিমন, ট্রলি, ট্রাক উন্মুক্ত অবস্থায় ইট, বালু, সুরকি পরিবহন করে। বাতাসে মানুষের চোখে মুখে লাগে সেই বালু কনা। একটু ঢেকে নিলেই হয়। কিন্তু ঢেকে নেওয়ার কোন প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেনা এসব পরিবহনের ড্রাইভাররা। তাদের শিক্ষার জোর কম, সামাজিক দায়বদ্ধতা কি সেটা তাদের জানার কথাও না। ড্রাইভার-শ্রমিকরা তারা তাদের যে দায়িত্বগুলো জানে না, সে দায়িত্বগুলো কি তারা কোনদিনই জানবে না? তাদের তো জানানো উচিত!। যারা মালের মালিক তাদেরও তো দায়িত্ব আছে। তার মাল পরিবহনে অন্যের যাতে ক্ষতি না হয় সেই বিষয়টা কি কখনো আমরা তাদের মনে করিয়ে দেই? আর প্রশাসনের কথা যদি বলি, তবে প্রশাসনের কি এ বিষয়ে কোন দায়িত্ব নেই। ক্ষতিকর পণ্য পরিবহনে সতর্কতামূলক কিছু দায়িত্ব থাকে। আমাদের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ভাইয়েরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করে। তারা কি কখনো কোন ট্রাক, নসিমন থামিয়ে বলে, যে তোমরা এভাবে পরিবহন করো না। একটা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নাও, বা পলেথিন দিয়ে ঢেকে পরিবহন কর। অবৈধ অনেক পরিবহন চলাচল করে রাস্তায়। অবৈধ পরিবহনকে বৈধতা দেয়া হয় আরেক অবৈধ উপায়ে। পরিবহনের সুবিধার জন্য যদি কিছু পরিবহনকে ছাড় দিয়েও থাকে তবে কিছুটা সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা কি তাদের দেয়া যায় না? রাস্তায় চলতে গিয়ে এভাবে ইট বালু সুরকির ধুলায় কেন নাকাল হতে হবে আমাদের। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কি দায়িত্ব রাস্তায়? শুধুকি অবৈধ গাড়ি ধরা, রাস্তার জানজট পরিস্কার রাখাই তাদের কাজ হবে। বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রন, সুশৃঙ্খল ভাবে গাড়ি চালানো, ক্ষতিকর পন্য পরিবহনে সতর্কতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা যদি একটু নজরদারি বাড়াতো তবে রাস্তায় এমন ভোগান্তির শিকার হতে হতো না আমাদের।
আমারা যারা আম জনতা আমাদের পক্ষে এটা নিয়ন্ত্রন বা তাদের ছবক শেখানো সম্ভব নয়। ট্রাফিক ভাইরা যদি এসব পরিবহন আটকে তাদের কিছু বিধি নিষেধ দিয়ে দেয় তবেই তারা কথা শুনবে। রাস্তায় বেরিয়ে আমরা কেউ চোখ ডলতে চাইনা, ধুলি কনার কারনে চোখের অপূরনীয় ক্ষতি করতে চাই না। ইট, বালু, সুরকি পরিবহনের সময় অবশ্যই ঢেকে নিয়ে পরিবহন করবে এটাই প্রত্যাশা করি পরিবহন শ্রমিক ভাইদের কাছে। আর প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করি তারা এটা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন এবং করতে বাধ্য করবেন। তবেই ধুলি কনা বিহীন একটা সমাজে আমরা বসবাস করতে পারবো, যে সমাজে বসবাস করেন ঐ পরিবহন শ্রমিকরা, নিয়ন্ত্রন ক্ষমতার অধিকারী প্রশাসনের কর্তা-কর্মীরাও। নগরির আরেক উৎপাৎ যত্র তত্র ইট, বালু, সরকি, রড রাখা। সকলেই রাস্তার একটা অংশ জুরে এসব নির্মান সামগ্রী রাখতে অভ্যস্ত। এর ফলে রাস্তায় সবসময় ধুলা লেগেই থাকে। একটু বাতাসে বা দ্রুত গতিতে গাড়ি চললে চাকার ঘর্ষণে ধুলা উড়ে। রাস্তার উপর নির্মান সামগ্রী রেখে রাস্তা অপরিস্কার করে এবং রাস্তাকে সংকুচিত করার কারনে যান চলাচল এবং পায়ে হাটা মানুষের ভোগান্তি লেগেই থাকে। এ থেকেও পরিত্রান প্রয়োজন। আর চোখের বালি পরিস্কার করার দায়িত্ব যাদের তাদের একটু মনযোগ প্রয়োজন।  

Friday, July 7, 2017

প্রথম শ্রেণীর শরীয়তপুর পৌরসভার নাগরিক হিসাবে গর্বিত---- জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতা, ভাঙ্গা রাস্তা ঘাট, কি সেবা আর বাকি!!

তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে যাত্রা শুরু করে আমাদের শরীয়তপুর পৌরসভা। আস্তে আস্তে ডিমোশন পেয়ে দ্বিতীয় থেকে আজ প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নেমে এসেছে শরীয়তপুর পৌরসভা! এক এর চেয়ে নিরানব্বই অনেক বড় সংখ্যাতত্বের ভিত্তিতে! আবার ক্লাসে নিরানব্বই পাওয়া ছাত্রের রোল হয় এক আর এক নম্বর পাওয়া ছাত্রের রোল হয় একশ বিশ! আসলে সংখ্যার ব্যবহারে রয়েছে নানা জটিলতা। আমরা যারা সাধারণ আম জনতা এসব সংখ্যাতত্বের জটিলতা খুব একটা বুঝি না। ক্লাসের এক রোল যার সে ভাল ছাত্র, প্রথম শ্রেণী পাওয়া ছাত্রকে আমরা বলি মেধাবী আর প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নাকি তৃতীয় শ্রেণীর চাইতে ভাল। কিভাবে যে এর মূল্যায়ন করে সেটাই আমার মত আধা পড়ার মাথায় ঢোকে না!
আমি শরীয়তপুর পৌরসভার একজন বাসিন্দা। আমার বসবাস শরীয়তপুর পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার প্রথম নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসাবে নিজেকে গর্বিত মনে করতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে সুযোগ সুবিধা দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্লসে পরীক্ষার খাতায় এক নাম্বার পাওয়া ছাত্রের মত আমিও এক নাম্বার পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসাবে মূল্যায়িত ও সুযোগ সুবিধা ভোগী।
পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে আমরা আদর করে বলি পৌর পিতা। এই পৌর পিতার নয় ঘর মানে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে সংসার। নয় সংসারে তাহার রয়েছে অসংখ্য সন্তান! এই সন্তানদের দেখাশোনা করবে বলেই আমরা তাকে পিতার আসনে বসাই। শরীয়তপুর পৌরসভার জন্ম লগ্ন থেকে একাধিক চেয়ারম্যান, মেয়র দেখার সুযোগ হয়েছে। আমাদের তো আসলে মুড়িতেও (উরুমে) ভরে না!! পূর্বের ওল্ড ম্যান চেয়ারম্যান, মেয়ররা এসে যা করেছে তাতে আমাদের খুশি করতে পারেনি। বৃদ্ধ নগর পিতাদের হয়তো দৃষ্টি শক্তি কমছিল, কারো সুযোগ কম ছিল, কেউ লোভি ছিল, কারো দৃষ্টি শক্তি কম ছিল, এমন নানা কারনে আমাদের ভালভাবে দেখভাল করতে পারেনি। সম্প্রতি আমাদের পৌরসভায় এসেছে এক ইয়াং এনার্জিটিক মেয়র বা নগর পিতা। আমরা সবাই খুশিতে আটখানা হয়ে গেছি। এবার অন্তত একটা পরিবর্তন আসবে! আধুনিক যুগের ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশুনা করে আসা ইয়াং এনার্জিটিক মুক্ত মনা ডিজিটাল চিন্তাধারার মেয়র পেয়ে বেশ পুলকিত আমরা। ভেবেছিলাম নগরির জঞ্জাল দেখে এ মেয়র নিশ্চয়ই নেমে পড়বে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায়, পৌরসভার আনাচে কানাচে হেটে বেড়াবে, নাগরিকদের সুখ দুঃখ দেখবে নিজের চোখে। আর নিজেকে একজন নাগরিকের স্থানে বিবেচনা করে নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করবে। সমস্যার সমাধানে কাউকে না পেলে নিজের পরিষদের কাউন্সিলরদের নিয়ে চেষ্টা করবে। তার পরে কতটুকু করা যায়, কতটুকু করতে পারলো তার মূল্যায়ন করবে জনগন। আসলে মূল্যায়ন করার সুযোগই বা কে দেয়, মূল্যায়ন তারা চায়ইবা কতটুকু? আমি আগেই বলেছি আমি থাকি শরীয়তপুর পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ডে নাগরিক। আমি আমার এলাকার নাগরিক সুবিধাদির কথাই আজ শোনাতে চাই! আমিতো আর পৌর পিতার মত ঘুরে ঘুরে নয় ঘরে লালিত, বসবাসরত সন্তানদের খবর নিতে পারি না। পালং মডেল থানার সামনে দিয়ে একটা রাস্তা চলেগেছে কোতোয়াল বাড়ি পর্যন্ত। রাস্তাটাকে কোতোয়াল বাড়ি রোড বললেই সবাই চিনে। গ্রামের নামের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আশ পাশের অনেকে নিজেদের এলাকার নাম কেউ শান্তি নগর, কেউ নিরালা, কেউ আরালা নানান নাম রেখেছে। আমরা থেকে গেছি সেই আদী নামেই। আমরা এখনও পালংয়েই আছি। পালং বাজার সড়ক থেকে থানার সামনে দিয়ে যে রাস্তাটা পূর্ব দিকে ঢুকে গেছে সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকলে কোতোয়াল বাড়ি হয়ে কালিখোলা পর্যন্ত ওটাকে রাস্তা বললে ভুল হবে। রাস্তা এতটাই খানাখন্দে ভরা যে রিক্সাওয়ালারা এখন আর আমাদের এলাকায় যেতে চায় না, আর গেলেও ভাড়া চার গুন নেয়। একটা ভাড়া নেয় যাত্রীর আর বাকী তিনগুন ভাড়া নেয় ভাঙ্গা রাস্তায় রিক্সার যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরন বাবদ। কিন্তু কি আর করা? যেতে যখন হবেই তো দিতেও তখন হবে। আর রিক্সা চালকদেরই বা কি দোষ! তারা সারাদিন কতটাকাই বা আয় করে? রিক্সার যে ক্ষতি হয় তাতো আর মেয়র মহোদয় দিবে না!! রাস্তাটার প্রয়াত হারুন বেপারীর সাহেবের বাড়ির সামনে বিশাল গর্ত। পনের মিনিট বৃষ্টি হলে গর্তে এক গিড়া পানি জমে যায়। তার পর একটু এগুলে মসজিদ ও এডভোকেট খান মোঃ আসাদ আলী সাহেবের বাড়ি। এখানে সারা বছর পানি জমে থাকে তাতে বৃষ্টি লাগে না। এডভোকেট খান মোঃ আসাদ আলী সাহেবের বাড়ি পার হয়ে মোড় থেকে শুরু যে রাস্তাটুকু আমি তার নাম দিয়েছি বিছানার কান্দি। সিলেটের বিছানা কান্দির অপরূপ দৃশ্য আমাদের জানা আছে। বিছানো পাথরের উপর দিয়ে পরিস্কার পানির প্রবাহ ঝির ঝির করে বয়ে চলেছে। সেটা দেখার জন্য অনেক পর্যটকই যায় টাকা খরচ করে। আমি যাইনি, বাড়ির কাছে বিছানা কান্দি থাকলে টাকা খরচ করে যে যায়? রাস্তা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে হাটু পানি জমে গেছে, দয়াপরবশ হয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর কিছু রাবিশ টাইপের ইটের আধলা ফেলেছিল। সেই ইটের আধলা পানির নিচে ডুবে আছে বারো মাসের প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত। এ অবস্থা চলছে আমার বাড়ি পর্যন্ত। এক ঘন্টা যদি মনোযোগ দিয়ে বৃষ্ট পড়ে তবে মটর সাইকেলের ইঞ্চিন পর্যন্ত ডুবে যায়। চলতে চলতে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, রিক্সার চাকা ফেসে গিয়ে উল্টে যায়, মানুষে হাত পা ভাঙ্গে, সুটেট বুটেট হয়ে বেরহওয়া ব্যক্তির জুতার ভিতর পানি ঢোকে। আমি একাধিক দিন ভিজা জুতা মোজা পায়ে দিয়ে কোর্টে এসেছি। ভিজা জুতা মোজা পায়ে শুকিয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এ রাস্তাটা যদি কেটে দিত তাহলে আমরা কোসা নৌকা কিনে নিতাম। বর্তমান অবস্থা নৌকা চলার মতও না আবার পায়ে হাটার মতও না! কোতোয়াল বাড়ির ব্রিজ থেকে কালিখোলার রাস্তা এতটাই খারাপ যে রিক্সা তো দুরের কথা হেটেও ওয়ায়া যায়না। পিচ ভেঙ্গে সুরকি খসে মাটি পর্যন্ত বের হয়ে গেছে। তাতেও কোন নজর নেই মেয়র নামের নগর পিতার। 

সম্প্রতি আমাদের রাস্তার কাজ ধরবে শুনেছি। কাজের নাকি টেন্ডারও হয়ে গেছে। কাজ পেয়েছেন মেয়র মানে নগর পিতার ভাই। সেই সূত্রে ঠিকাদার আমাদের নগর কাকা!! পিতা যেখানে খেয়াল রাখেন না চাচা সেখানে কি খেয়াল রাখবেন। একদিন বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় দেখি রাস্তার দুধার বেশ পরিস্কার। ঘাসগুলো ছেটেছুটে রেখেছে। রাস্তার দুধারের ইটগুলো দেখা যাচ্ছে। দেখে খুব খুশি লাগলো। আনন্দে মনটা ভরে উঠলো। এবার দুঃখের দিন শেষ!! রাস্তার কাজ ধরবে। তার পরে কয়েকদিন গত হলো। আবার এক সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটা নসিমন ভটভট আওয়াজ করে বাড়ির রাস্তার সামনে দাড়িয়ে আছে। নসিমনের উপর কিছু ইট। সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুশ ইট। আমি ভাবলাম কোন লোক হয়তো বাড়ির কাজ ধরেছে। ইটগুলো রাস্তার উপর না ফেলে একটু পাশে ফেলতে বললে নসিমনের ড্রাইভার ও হেলপার বললে, এগুলো রাস্তার কাজে ব্যবহার হবে, দুএকদিনের মধ্যে চলে যাবে। তার পরেও আমি বললাম বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটা রেখে পাশে রাখো। ওরা আমাকে বললো ঠিক আছে। আমি চলে গেলাম আমার কর্মস্থলে। এসে দেখি বাড়িতে ঢোকার রাস্তা অর্ধেকটা ব্লক করে ইটগুলো স্তুপ করে রেখেছে। রাস্তার স্বার্থে আমি মেনে নিলাম। কদিনই বা লাগবে। সেই ইট আজ তিন মাস ধরে পড়ে আছে আমার রাস্তার উপর। বাড়িতে ঢুকতে বেরুতে বেশ কষ্ট হয়। আর নসিমন চালকদেরই বা কি দোষ। সারা রাস্তার মধ্যে আমার বাড়িতে ঢুকার রাস্তাই আছে শুকনা। আর অন্য কেউ তো বাড়ির সামনে একফুটও জায়গা রাখেনি। কোথায় রাখবে? আসলে বাড়ির সামনে ফাকা জায়গা রাখলেও বিপদ, কেউ কেউ গাড়ি এনে ঘুরায় আমার বাড়ির রাস্তা দিয়ে, কেউ ইট রাখে, কেউ বালি রাখে। যে দেশে ঘি আর তেলের দাম সমান সমান সে দেশে চিকন আলীকে সূলে চড়ানোর পর যদি পাছা দিয়ে সূল ওজন স্বল্পতার কারনে না ঢোকে তবে আমার মত মোটা লোকইতো খুজে বের করবে, কারন পর্যাপ্ত ওজনের কারনে সূল ঢুকবে ভাল!! রাস্তার দুধার পরিস্কার আর কয়েক জায়গায় ইট রাখার কারন হিসাবে পরে লোক মুখে শুনেছি এগুলো করে নাকি প্রাথমিক একটা বিল উঠিয়ে নিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বা নগর চাচা। তবে তা কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা আমি জানিনা, ভগা জানে!!   

নগরির জলাবদ্ধতার কথা আর কি বলবো নতুন করে। গত তিন চার বছর যাবত আমাদের ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করেছে। ঘর আর ঘরের আশ পাশের দুএক ফুট ভূমি ছাড়া বাকী সব জমি তলিয়ে আছে পানির নিচে। বর্ষা আসে বর্ষা যায়, শীত আসে শীত যায় কিন্তু আমাদের এলাকায় পানি এসেছে পানিতো আর যায় না!! বাড়িতে যত গাছ ছিল তার অর্ধেকের বেশি মরে ভুত হয়ে দাড়িয়ে আছে। বাকী যা আছে তা মরার অপেক্ষায় দিন গুনছে। আমাদের এলাকার এ জলাবদ্ধতা নিয়ে পৌর পিতার কোন নজর নাই। পিতার নজর যদি এতই ঘোলাটে হয় তবে কি আর করা? এলাকার কোথাও কোন ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান নেই। তাই জোড়াভবনের কোনে সকলে ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। একেতো ভাঙ্গা রাস্তা তার উপর ময়লা ফেলতে ফেলতে মানুষ এখন আর ময়লার স্থানে ময়লা ফেলে না। ময়লা রাস্তার উপরই জমা হয়ে আছে। আসতে যেতে সেকি ফ্লেভার!!! পেটের ভিতর থেকে সব বেরিয়ে আসতে চায়।
এলাকায় আরেক যন্ত্রনা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পালং থানা থেকে কুয়েতি মোড় হয়ে শান্তি নগর দিয়ে তুলাসার স্কুল রোড পর্যন্ত ড্রেন তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন আমাদের পৌর মেয়র। কাজ দিয়েছেন কাকে সেটা বড় কথা নয়, কত বছরের জন্য কাজটা দিয়েছেন সেটা কারো জানা নেই। এত ধীর গতিতে কাজ করা যায় এমন ধারনা আমার আগে কখনো হয়নি। ড্রেনের জন্য রাস্তার ধার খুড়ে রেখেছে তাও বছর হয়ে গেলো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একটা কাজ কত বছরের জন্য দেয়া যায় তার হিসাব জানা দরকার। কিন্তু জেনে কি হবে, মেয়র মহোদয় যে দিয়েছেন, বুঝেই তো দিয়েছেন, তাই না?
সড়ক বাতি পৌর এলাকার একটা সেবার মধ্যেই পড়ে। আমাদের সড়ক আছে হোক সে ভাঙ্গাচোরা কিন্তু বাতি কই? বাতি থাকে না। আসলে বাতিগুলো লোহার তৈরী হলে ভাল হতো, একবার কাটলে আর জোড়া লাগে না। তাই আমাদের এলাকায় সড়ক বাতির ব্যবস্থা আছে কিন্তু বাতি কেটে গেলে মেয়র কি করবেন? এ ফলে আমাদের এলাকায় নির্বিঘেœ চলে চুরি চামারি। আর চোরের কি দোষ, বড় বড় লোক গুলোই যেখানে চুরিতে ব্যস্ত সেখানে এলাকার চোরের দোষ ধরে কি লাভ? 

শরীয়তপুর পৌরসভা একটা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। ছোট্ট এ নগরী একটু পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠলে নাগরিকরা কতই না সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাবন করতে পারতো। নগরিতে নেই কোন পরিকল্পনা। যে যার মত স্থাপনা করছে। আর বাড়ির সীমানা প্রাচীর এমন ভাবে করছে যে রাস্তা কেটে দুই ফিট ঢুকতে পারলে কেউ পিছাচ্ছে না। রাস্তা ঘেষে সীমানা প্রাচীর, বাড়ির গেট থেকে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত নিজেরাই ঢালাই করে রাস্তা তৈরী করেছে। এসব দেখার দায়িত্ব কি মেয়র মহোদয়ের? সে কি এতটা নিচে নামতে পারে? তাইতো যার যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে।
আমাদের এলাকার এত সমস্যা দেখার জন্য মেয়র আছে যাকে নগর পিতা বলে ডাকি। কিন্তু সে আমাদের এলাকায় কেন আসেনা? পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে মানিক বন্দোপাধ্যায় লিখেছিলেন “ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।” তবে কি লেখকের এই আক্ষেপপূর্ণ উক্তিটিই আমাদের এলাকার জন্য প্রযোজ্য? নগর পিতা কি ভদ্র পল্লীতেই থাকে? আর ভদ্র পল্লীই বা কোনটা? কোন এলাকায়ইতো তিনি যান বলে মনে হয় না। যে এলাকায় যান সেই এলাকাকেই বা ভদ্র পল্লী বলি কিভাবে। ঢাকা তো ভদ্র পল্লীর মধ্যে পড়ে না! সেখানেও তো বাজে অবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে! ওহ! সেখানে ভদ্র পল্লী আছে, গুলশান, বনানী, বাড়িধারা, ধানমন্ডী, উত্তরা সহ নানান ভদ্র পল্লী আছে!! আমাদের এখানে ঘুরে কি লাভ? 

শুরুতে তো ওল্ড-ইয়াং এনার্জিটিক চেয়ারম্যান মেয়র সম্পর্কে অনেক বলেছি। এবার একটি গল্প বলি, এক ব্যক্তি সারা জীবন মানুষের বাড়ি বাড়ি চুরি করেছে। চুরিই ছিল তার পেশা। সেই চোর মৃত্যুশয্যায়। শয্যাপাশে তার সন্তানেরা। চোর তার সন্তানদের ডেকে বললো, বাবারা, আমিতো সারা জীবন মানুষের বাড়ি বাড়ি চুরি করেছি যা তোমরা জান এবং তোমরা আমাকে সব সময় সহযোগীতাও করেছো। আমি আর বেশিক্ষণ মনে হয় তোমাদের মাঝে নাই। সময় হয়ে গেছে। তোমরা দুনিয়ায় এমন কাজ করবে যাতে সবাই আমায় ভাল বলে। এই বলে কিছুক্ষণ পর চোর বেটা মারা গেল। শোক কাটিয়ে উঠে চোরের সন্তানেরা চিন্তা করে, কি এমন কাজ আমরা করতে পারি যাতে বাবাকে মানুষ ভাল বলবে! তারা এতদিন বাবার সাথে চুরিতে সহযোগীতা করত। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন তারাও চুরি করা শুরু করেছে। একদিন ভাইয়েরা মিলে আলোচনায় বসল। সবাই মিলে চিন্তা ভাবনা করলো, কি কাজ করলে মানুষ বাবাকে ভাল বলতে পারে। চিন্তা ভাবনা শেষে এবার তারা চুরি ছেড়ে ডাকাতি শুরু করলো। কয়েক দিন ডাকাতি করার পর মানুষের মুখে বাবা সম্পর্কে ভাল কথা শুনতে না পেয়ে এবার কাজের ধরণ পরিবর্তন করলো। সবাই মিলে ডাকাতি করা শেষে বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে দেয় এবং ঘরে যুবতী মেয়ে, বাড়ির বউদের পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করলো। এবার ফল পেল হাতে নাতে, নগদে! সবাই বলাবলি করছে, আহারে! ওদের বাবা কত ভাল মানুষ ছিল! শুধু চুরি করতো! আর তার ঘরে কি কুলাঙ্গার হয়েছে, ডাকাতি করে, ডাকাতি শেষে ঘরে আগুন দেয়, জুয়ান বুড়া মানে না, ধর্ষন করে। ওদের চাইতে ওদের বাবা অনেক ভাল ছিল।

ভূক্তোভূগি নাগরিক হিসাবে অনেক কথাই লিখলাম। নগর পিতা সমস্যার দিকে নজর দিনেব, আমার কথায় রাগ করবেন না আশা করি। আমি একজন ভূক্তোভোগী নাগরিক। আমার মনে অনেক ক্ষোভ আছে, থাকাটাই স্বাভাবিক। এর সমাধান একটাই, পিতা আসুন আমাদের এলাকায়, দেখুন আমাদের দূর্দশা, সমাধানের পথ খুজুন। আপনার প্রতি আমাদের অনেক প্রত্যাশা। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির একটা সমন্বয় করুন, চেষ্টার পর ব্যর্থ হলে আমরা আপনাকে দোষ দিবো না, ভুলেও যাব না। পিতার চেষ্টার মূল্যায়ন করবো। পিতার ব্যর্থ চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হবো না।

Thursday, July 6, 2017

রামু বৌদ্ধ বিহার দর্শন, চুল্লবর্গ বিক্রয়ের নামে প্রতারনা!

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয় প্রতি বছর। নতুন বছরের প্রথম মাসের শেষ সপ্তাহের শনিবার সাধারণত ভোট গ্রহণ করা হয়। এতটা সুন্দর ভাবে গণতন্ত্রের চর্চা অন্য কোন সমিতিতে দেখা যায় না যা দেখা যায় আইনজীবী সমিতিগুলোতে। সে মোতাবেক শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৭ সালের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে। ভোটার তালিকা নিয়ে একটু জটিলতার কারনে নির্বাচন পিছিয়ে যায় দুই দফা। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের বছরের শেষ মিটিংয়ে আলোচনার ভিত্তিতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তাকে সহযোগীতার জন্য দুইজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে আলাপ আলোচনা হলো। যথারীতি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ তিন জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগও করা হলো। কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তোলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত করে পদত্যাগ করে বসলেন। শুরু হলো জটিলতা। সাধারণ সভা করে ভোটার তালিকা নিয়ে একটা সমাধানে গিয়ে পূর্বের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ তিন কমিশনারকে আবার দায়িত্ব দেয়া হলো নির্বাচন করার জন্য। তফসিল অপরিবর্তিত রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতিকালে আবারও ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলো। আবারও পদত্যাগ করে বসলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এবার দীর্ঘ আলাপ আলোচনা শেষে সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবী সমস্যার সমাধান করলেন। এবার আর সেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নয়। নতুন করে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হলো। এবার নির্বাচন কমিশনার বেশ কলিজাওয়ালা। তৃতীয় দফায় নির্বাচন কলিজা ওয়ালা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ফলে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচনে আমিও দাড়িয়ে ছিলাম কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে। প্রত্যাশার চাইতে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচনে পাস করলাম। চতুর্থ বারের মতে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদে স্থান পেলাম। নির্বাচনে বন্ধুদের মধ্যে আরো পাস করল এডভোকেট জামাল ভূইয়া, এডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম পলাশ, এডভোকেট সরদার আজিজুল রহমান রোকন।

নির্বাচন শেষ, একটু রিক্রিয়েশন দরকার! যেই ভাবা সেই কাজ। ঘুরতে যাওয়া দরকার, তাই টিম গঠনের পালাা। একে একে টিমে যোগ হলো জামাল ভূইয়া, পলাশ, রোকন, তারা, মুরাদ, জাকির ভাই, রুহুল ভাই, জাহাঙ্গীর ভাই, এমদাদ ভাই। দশ জনের টিম, এগার জন হলে মাঠে নেমে পড়া যেত! রুহুল ভাইর কাধে পড়লো ট্যুর ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব। শরীয়তপুরে না পেয়ে মাদারীপুর থেকে একটা বড় এসি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হলো। গুছিয়ে একদিন সকালে রওয়ানা দিলাম কক্সবাজারের পথে। মধু হই হই গাইতে গাইতে আমরা পৌছে গেলাম কক্সবাজার। সারা রাস্তায় আনন্দ আর আনন্দ। যখন মন চাইছে চা খেতে, দাড়িয়ে গেলাম গাড়ি নিয়ে। যখনই খুধা লেগেছে খুজে নিলাম হোটেল। এভাবেই চললো আমাদের যাত্রা। সময়ের কোন বালাই নেই। সময়টাকে থামিয়ে দিয়ে ইচ্ছা মত মজা করা আরকি। রুহুল ভাই আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছিলো। ডলফিন মোড়েরর কাছেই হোটেল বেষ্ট ওয়েষ্টার্ণ প্লাস হেরিটেজে উঠলাম আমরা। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম খাবারের সন্ধানে। খাওয়া দাওয়া শেষে বীচের কাছে গিয়ে দোকন থেকে কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে আবার হোটেল। শান্তির ঘুম চুমু দিলো সবার চোখে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বীচে নেমে গোসল সেরে আবার হোটেলের সুইমিং পুলে চই ডুব খেলা! বেশ কাটছে আমাদের কক্সবাজার ভ্রমণ।
বিভিন্ন স্পট দেখার যে পরিকল্পনা করেছি তার মধ্যে রামু বৌদ্ধ বিহার অন্যতম তালিকায় রইল। এক দুপুরে আমরা গেলাম রামু বৌদ্ধ বিহার। বিশাল প্রাসাদপম বৌদ্ধ মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সাথে সাথে একজন দৌরে এসে বললো, জুতা খুলে প্রবেশ করুন। আমরা জুতা খুলে এক পাশে রেখে ভিতরে প্রবেশ করলাম। ভিতরে বিশালাকায় বৌদ্ধ মূর্তি নিরবে বসে আসে। ঘুরে ঘুরে সরকারের অর্থানুকুল্যে নির্মিত নতুন কমপ্লেক্স দেখছি। দ্বিতীয় তলায় বিশাল হল রুমের ভিতর ছোট ছোট ছেলেরা মাথা ন্যাড়া অবস্থায় বসে বসে দুষ্টামি করছে। এ বয়সটাই দুষ্টামির! কিন্তু ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারনে তাদের আটকে রেখেছে মনে হলো। রুমের দেয়াল ঘেষা বোর্ডে বিভিন্ন ছবি। আছে সেলফে সাজানো বইয়ের সমারহো। একটা বই দেখে আমার আর তারার নজর কারলো। বইটির নাম চুল্লবর্গ। একজন ভিক্ষুকে ডাক দিলাম। কাছে আসতেই জানতে চাইলাম বইগুলো কি বিক্রর জন্য। আমাদের সে জানালো হ্যা, এগুলো বিক্রির জন্য। দাম জানতে চাইলে বললো এর মূল্য দুইশত পঞ্চাশ টাকা। আমি আর তারা দুজনে দুটি বই নিলাম। বইয়ের মূল্য বাবদ পাঁচশত টাকার একটি কচকচে নোট ভদ্রলোককে ধরিয়ে দিলাম। এর পর ওখান থেকে নেমে আমরা বাইরে আসলে আরেক ব্যক্তি আমাদের পাশের কিছু পুরাতন বৌদ্ধ নিদর্শন দেখানোর জন্য নিয়ে গেল। আমন্ত্রনের ভাব দেখে মনে হলো খুবই আন্তরিক। আমাদের বললো, এত দুর থেকে এসেছেন, আদী নিদর্শনগুলো দেখে যাবেন না? লোকটি আমাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বৌদ্ধের বিভিন্ন পুরাতন মুর্তি দেখালো। কোনটা কত সালের তা বলে দিচ্ছে আর একটা দেখা শেষ হলে আরেকটার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে দেখতে দেখতে যখন সব দেখা শেষ তখন আন্তরিক ব্যক্তিটির আসল রুপ বেরিয়ে পড়লো। সে এবার আমাদের কাছে বখশিস দাবী করলো। তার চাইতে লজ্জা না করলেও আমাদের লজ্জা লাগলো। আমরা তাকে বখশিস দিয়ে বের হয়ে এলাম। গেটের পাশেই আমাদের মাইক্রোবাস দাড়ানো ছিলো। স্বজতেœ বইটাকে নিয়ে আমরা গাড়িতে উঠে গেলাম। গাড়িতে উঠে বইটা নেড়ে চেরে দেখলাম, লেখা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বিতরনের জন্য। লেখাটা দেখে একটু অবাক লাগলো! যে বইটি বিনা মূল্যে বিক্রয়ের জন্য সেই বইটির দাম আড়াইশো টাকা কি করে হয়? বুদ্ধিষ্ট ব্যক্তিটি আমাদের বলতে পারতো, বইটি বিনা মূল্যে বিতরনের জন্য, আপনারা খুশি হয়ে মন্দিরের জন্য যদি কিছু দান করতে চান তবে করতে পারেন। আমরা দুটি বই হাতে নিয়ে ধরেই নিয়েছি এর মূল্য পাঁচশত টাকার কম হওয়ার কথা নয়। আমাদের সত্যি কথাটা বললে অনায়াসেই দুটি বই নিয়ে এক হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিতাম। আমাদের কাছে ঐ ব্যক্তিটিকে প্রতারক বলেই মনে হলো! 

এবার আমাদের যাত্রা রামুর একশ ফুট লাম্বা বৌদ্ধ মূর্তি প্রদর্শন। একশ ফুট লম্বা মূর্তি সম্পর্কে কিছু কথা নেট থেকে খুজে পেয়েছি। বন্ধুদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-
মহামানব গৌতম বুদ্ধ ধন্যবতীর রাজা চাঁদ সুরিয়ার সময় সেবক আনন্দকে নিয়ে আরাকানের রাজধানী ধন্যবতী আসেন। সেখানে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সেবক আনন্দকে উদ্দেশ্য করে বুদ্ধ বলেন, ‘হে আনন্দ ভবিষ্যতে পশ্চিম সমুদ্রের পূর্ব পার্শ্বে পাহাড়ের উপর আমার বক্ষাস্থি স্থাপিত হইবে। তখন উহার নাম হইবে ‘রাংউ’। ধন্যবতী রাজবংশ গ্রন্থে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, ভাষাতাত্ত্বিক প্রকৃয়ায় রাংউ থেকে রামু শব্দটি এসেছে। রাংউ বার্মিজ শব্দ। রাং অর্থ বক্ষ, উ অর্থ অস্থি অর্থাৎ রাংউ শব্দের অর্থ হচ্ছে বক্ষাস্থি। বর্তমানেও রামুতে রয়েছে অনেকগুলো প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রতœতাত্তিক নিদর্শন।
এই রামুতে বৌদ্ধ সভ্যতা বা বৌদ্ধ স্থাপত্যের গোড়াপত্তন কখন থেকে তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস ‘রাজোয়াং’ থেকে জানা যায়, ‘খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের দিকে অর্থাৎ ১৪৬ খ্রিস্টাব্দে মগধ রাজ্যের চন্দ্র সূর্য নামক জনৈক সামন্ত যুবক তাঁর বহু অনুগামী সৈন্যসামন্ত নিয়ে চট্টগ্রাম ও আরাকান দখল করেন। একটি অখন্ড রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং আরকানের ধন্যবতীতে রাজধানী স্থাপন করেন। রাজা চন্দ্র সূর্য এবং তাঁর সঙ্গে আগত সৈন্যদের অধিকাংশ ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তারা চট্টগ্রাম ও আরকানে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তাই মগদাগত বৌদ্ধ এবং এতদঅঞ্চলের বৌদ্ধদের মধ্যে নিবিড় ধর্মীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে রাজকীয় প্রষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রাম ও আরকানে বৌদ্ধ ধর্মের দ্রুত বিস্তার ঘটে’।
বিভিন্ন সূত্রে আরো জানাযায়, প্রাচীনকাল থেকে রামু আরাকানী এবং এদেশীয় রাখাইন (রাকখাইন) বৌদ্ধদের পদভারে মুখর ছিল। আরাকানী শাসনামলে কক্সবাজার বা রামুতে রাখাইন সম্প্রদায় ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইংরেজদের আগমনের আগ পর্যন্ত এই সংখ্যাধিক্য অটুট ছিল। বর্তমানে রামুতে যে সকল বৌদ্ধ পূরাকীর্তি বা প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্য শিল্প রয়েছে, বিশেষ করে দৃষ্টিনন্দন শিল্পঐশ্বর্যে কাঠের তৈরি বিহারগুলো রাখাইনদের স্বর্ণোজ্জ্বল যুগের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এসব পূরাকীর্তির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রাচীন? সঠিক দিনক্ষন এভাবে নিরুপন করা যায়নি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে (খ্রিস্টপূর্ব ৩০৮) রামকোটের পাহাড়ের উপর স¤্রাট অশোক রামকোট (রাংকুট) বনাশ্রম বৌদ্ধবিহারটি নির্মাণ করেন। এই বিহারের সংরক্ষিত বুড়া গোঁসাই মূর্তির মাঝেই গৌতম বুদ্ধের বক্ষাস্থি স্থাপিত হয়েছে। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ আছে, বিহার নির্মাণের পরর্বতী সময়ে সেখানে সাত’শ ভিক্ষু বসবাস করতেন। কালের পরিক্রমায় অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। কিছু কিছু হারিয়ে যাওয়ার পথে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাম্প্রদায়িক হামলায় এরকম বেশ কয়েকটি প্রাচীন পুরাকীর্তি ধ্বংস করা হয়েছে। মুছে ফেলা হয়েছে ইতিহাসের পাতা থেকে।
তবে পুরাকীর্তি ও প্রতœতাত্তিক নিদর্শনের ঐতিহ্য বহন করে এখনো স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এমন নিদর্শনের সংখ্যা রামুতে এখনো কম নয়।
শ্রীকুল গ্রামে কাঠের তৈরি শ্রীকুল রাখাইন বৌদ্ধ বিহার। এটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৮৯৯ সালে। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লামার পাড়া গ্রামে অবস্থিত থোয়াইংগ্যা চৌধুরীর ক্যাং। তবে গ্রামের নামানুসারে এটি লামারপাড়া ক্যাং নামেই পরিচিত। ১৮০০ সালে তৎকালীন রাখাইন জমিদার উথোয়েন অংক্য রাখাইন এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পাড়ার ভেতরের শান্ত নিথর কিছুটা পথ মাড়িয়ে এ ক্যাং-এ পৌঁছালে এখনো চোখে পড়ে, আশ্চর্য হবার মতো বড় বড় দুটি পিতলের ঘন্টা। পিতলের তৈরি এগুলো দেশের সবচেয়ে বড় ঘন্টা। এখানে আরও সংরক্ষিত আছে অষ্টধাতু নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তি এবং প্রাচীন শিলালিপিসহ ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্ন।
রেংগুনী কারুকাজে তৈরি প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন এ বিহারের নির্মাণ শৈলীও দারুন চমৎকার। কিন্তু উপযুক্ত পরিচর্যা এবং রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এ বিহারটির ভগ্নদশা।
১৮৯৯ সালে তৈরি চেরাংঘাটা উসাইসেন বৌদ্ধ বিহার। স্থানীয়ভাবে বড় ক্যাং নামে পরিচিত। এ বিহারের নির্মাণ শৈলীও দারুন। রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে কাঠের তৈরি বিহারগুলোর মধ্যে প্রায় দেড়’শ বছরের পুরনো হাজারীকুল রাখাইন বৌদ্ধ বিহার ও দক্ষিণ শ্রীকুল গ্রামে অবস্থিত লাহ-পেঁ-বাঙ-রঙ ক্যাং বা সাংগ্রীমা ক্যাং বর্তমানে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে।
রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের পাশ ঘেঁষে পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার জাদী। এটি লাওয়ে জাদি নামে পরিচিত। এক সময় ওই জাদির সীমানা প্রাচীরের উপর দাঁড়ালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখা যেত। এখন পাহাড় ধ্বসের কারণে সেই সীমানা প্রাচীরও ভেঙ্গে গেছে।
রামুর পোড়া মাটিতে আধুনিক স্থাপত্য শিল্পঃ ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামুতে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেবর কাল রাতে ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ধ্বংসযজ্ঞ। যে ধ্বংসযজ্ঞে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে রামুর প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী এরকম বারটি নিদর্শন। পুড়ে গেছে মহামূল্যবান বুদ্ধের ধাতু, তাল পাতার উপর বিভিন্ন ভাষায় লেখা ত্রিপিটক, অনেকগুলো বুদ্ধমূর্তিসহ প্রাচীন প্রতœতাত্তিক নিদর্শন। পাশাপাশি ওই একরাতেই পুড়েছে এখানকার হাজার বছরের গর্বের ধন-সম্প্রীতি।
তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র এক বছরে বদলে গেছে রামুর দৃশ্যপট। সেই ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে তোলা হয় দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে তৈরি নব নির্মিত সেই বিহারগুলোই এখন নতুন ইতিহাস। একদিন এ ইতিহাসের বয়সও হবে হাজার বছর।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, রামু মৈত্রী বিহার, লাল চিং, সাদা চিং, অপর্ণাচরণ চিং, জাদী পাড়া আর্য্যবংশ বৌদ্ধ বিহার, উখিয়াঘোনা জেতবন বৌদ্ধ বিহার, উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহার, চাকমারকুল অজান্তা বৌদ্ধ বিহারসহ নব নির্মিত এসব বৌদ্ধ বিহার যেন এখন নতুন ইতিহাস। এসব বিহারের ঐতিহ্য নিয়ে আবার নতুন করে সমৃদ্ধ এই রামু।
অন্য রকম আলোয় আলোকিত বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রঃ উঁচু নিচু পাহাড় টিলায় সবুজের সমারোহ। এ সবুজের মাঝে গড়ে ওঠেছে মানুষের বসতি। শান্ত কোমল পরিবেশে এখানকার প্রাকৃতিক সৌর্ন্দর্য মানুষকে অবিরাম কাছে টানার মত জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রাম। সেই অসাধারণ সৌন্দর্য্যে ঘেরা পাহাড় চূড়ায় এক টুকরো সবুজের মাঝে ছিল বাঁশের তৈরি বিমুক্তি বির্দশন ভাবনা কেন্দ্র। এর সামনেই ছিল উত্তর-দক্ষিণ কাত হয়ে শোয়া গৌতম বুদ্ধ মূর্তি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বিহারটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মূর্তিটি প্রায় অক্ষত থেকে যায়। অন্যান্য বিহারগুলোর মত এটিও নতুনভাবে নির্মাণ করে সেনাবাহিনী।
তবে সেনাবাহিনী বারটি বিহার নির্মাণ করলেও সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ রূপ পেয়েছে এ বিহারটি। বর্তমানে যে কেউ বিহারটি দেখে অভিভূত হবেনই। বিহারের চমৎকার নির্মাণ শৈলীতো আছেই এ ছাড়াও বিহারের আঙ্গিনাকেও সাজানো দারুনভাবে। সেই অসাধারণ সৌন্দর্যের মাঝে নতুনভাবে শোভা পাচ্ছে একশ ফুট দীর্ঘ বিশালাকার আগের সেই মূর্তিটি। বর্তমানে এটি যেন অধারণের চেয়েও বেশি অসাধারণ। বলা যায়, রামুর বৌদ্ধ ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র।
‘অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী নিয়ে বৌদ্ধ জাতিকে আলোর পথ দেখান মহামানব গৌতম বুদ্ধ। তিনি শান্তির প্রতীক, বৌদ্ধদের পথ প্রদর্শক। তাই এ মূর্তির নাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বশান্তি সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি। বিহারকে নতুন করে সাজানোর পর এখন এ মূর্তিটিও নতুন রূপ পেয়েছে।
পাহাড় চূড়ায় নির্মিত বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পাশাপাশি নতুন মাত্রা দিয়েছে এ মূর্তিটি। বর্তমানে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তি। মিয়ানমারের ইয়াংগুন থেকে কারিগর এনে এটি তৈরি করা হয়। মিয়ানমারের কারিগর থোয়াইংছি রাখাইন দীর্ঘ সাড়ে তিনবছর কাজ করে মূর্তিটি তৈরি করেন। ‘এ মূর্তির মডেলও সংগ্রহ করা হয়েছে মিয়ানমারের ইয়াংগুনের ধাম্মাদূত বৌদ্ধ বিহার থেকে। ওই মন্দিরে সংরক্ষিত গৌতম বুদ্ধের মূর্তির আদলে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ মূর্তির নির্মাণ শৈলী দেশী বিদেশী সকল মানুষকে আকৃষ্ট করছে যেমনটি আকৃষ্ট হয়েছি আমরা।

Saturday, July 1, 2017

নাম তার জঙ্গি সাইফুল!! (হলি আর্টিজানে মৃত পাচক সাইফুলকে উৎসর্গ করে)

বিদেশ ছিলে যখন, তখন ছিলে যে প্রবাসী
দেশে এলে, আর গেলে না, সে খবর আজ বাসি!
বিদেশ ছিলে, বউ বাচ্চা তখনও ছিল দেশে
জীবিকার টানে, চলে গেলে ঢাকা, সেই প্রবাসীর বেশে!

প্রবাসে তুমি রাধতে ভাল ওয়েষ্টার্ণ ফুড, পিৎজা
দেশে এসে সেকাজ ধরলে, পাওনি সরম লজ্জা!
ছোট্ট ছেলে, মা’মনিটা, প্রাণের প্রিয়া বধু
চেয়ে কাটে দিবস ও মাস পথের দিকে শুধু!
ভাবনা ছিল, আসবে বাড়ি, সামনে ঈদের ছুটি
প্রাণের অংশ, সন্তান নিয়ে করবে লুটোপুটি!
ছেলে মেয়ে দৌড়ে এসে ধরবে তোমার গলা
কানে কানে বলবে ও’কে, যে কথা হয়নি বলা!

হলি আর্টিজান, হোটেলের নাম, সবাই নামটা চিনে
সাইফুল সেথা পিৎজা বানায়, সময় কাটে কিচেনে
ছোট্ট কিচেন, গরম অনেক, মাথার ঘাম পরে পায়
মাসটা গেলে শ্রমের বাবদ অল্প বেতন পায়
নিজে চলে, যতটা বাঁচায় পাঠিয়ে দেয় যে দেশে
ঐ টাকাতে প্রাণের প্রিয়া সংসার চালায় হেসে।

হোটেলটিতে অতিথি আসে দেশি ও বিদেশী
ভাল, মন্দের সাথে আসে বখাটেরাই বেশি
হঠাৎ এক অজানা ঝড়, নিল সেদিন পিছু
কোথা থেকে, কিযে হলো, বুঝলো না সে কিছু
ভদ্র বেশে ব্যাগ কাধে, ঢুকলো কয়েক যুবক
ইসলামেরই ভুল ব্যাখ্যা, শোনালো কিছু ছবক

একে বাইশ ও পিস্তল বের করলো তারা নাইটে
আমাক নিউজ তাদের ছবি, করলো প্রকাশ সাইটে
কালো ব্যানার বিছনে রেখে তুলছে তারা ছবি
কালো পোশাকে দেখতে যেন ধ্বংস ক্রিয়ার কবি
ঢুকেই তারা বৃষ্টির মত গুলি করে হোটেলে  
তাজা প্রাণ পড়লো ঢলে, মৃত্যুর মিছিলে!

পাচক সাইফুল, রাধে বাড়ে, নাইতো সাতে পাঁচে
জঙ্গি কি ভাই? তাদের কি কাজ! সে খবর কি আছে?
বাচার জন্য কি আকুতি, বাথরুমে, কিচেনে
সে তো ধনির দুলাল নয়রে, কে বা তাকে চেনে?
বীর সেনানীর দীর্ঘ লড়াই, যুদ্ধ হলো সারা
জঙ্গির সাথে মরতে হলো, পাচক ছিল যারা।
সব শেষেতে সবুজ ঘাসে, লাশ করলো জড়ো
দেশে বসে, প্রিয়ার মনযে করছে থর থর
পাচক বেশে সবুজ ঘাষে, সাইফুলও যে এলো
নামটা পাচক সাইফুল নয়, জঙ্গি দেয়া হলো!
সাইট ইন্টেলিজেন্ট আমাকে নাই যে, সাইফুলেরই নাম
ঘোষনার পরে, অস্বীকার কি ভদ্রলোকের কাম?
বলছি বেটা জঙ্গি যে তুই, বদলাবো না কথা
বুঝলনা কেউ, ছেলে-মেয়ে পরিবারের ব্যাথা!
পেটের দায়ে এসেছিলো, করতে এথায় কাজ
সাইফুল হলো কেষ্টা বেটা, তোমরা সাধু আজ!