ভালবাসি প্রকৃতি

ভালবাসি প্রকৃতি

Tuesday, October 11, 2016

ভাল ঋণ-মন্দ ঋণ ব্যাংকার ও আইনজীবীর দায়

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান পন্য হলো ঋণ আপনি-আমি বিশ্বাসের সাথে টাকা জমা রাখি ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমাদের জমানো সেই আমানতের বিনিময়ে সুদ বা মুনাফা যে নামেই ডাকি না কেন পেয়ে থাকি সেই সুদ বা মুনাফাটা দেয় কোথা থেকে? আমাদের আমানতের টাকা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে বিনিয়োগ থেকে আসা লভ্যাংশ বা সুদ বা মুনাফার একটা অংশ আমাদের দেয় আর বাকীটা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটায় যেহেতু আমানতের টাকা বিনিয়োগ করে মানে ঋণ দেয় সেক্ষেত্রে ব্যাংক ঝুকি নেয় এই ঝুকির প্রকৃয়ায় কে কে জড়িত, কার কতটুকু দায় সেটাই বিবেচ্য বিষয়
ঋণের সাথে জড়িত জামানত, জামানত হিসাবে সবচেয়ে ভাল বস্তু জমি, জমির সঠিকতা যাচাইয়ে দরকার আইন জানা লোক মানে আইনজীবী, আর সেই কাজটা করেন ব্যাংকের মনোনিত প্যানেল আইনজীবী বা আইন উপদেষ্টা আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, সাথে বিভিন্ন ব্যাংকের মনোনিত প্যানেল আইনজীবী বা আইন উপদেষ্টা, তাই ভাল ঋণ-মন্দ ঋণের বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু মতামত সকলের সাথে শেয়ার করতে চাই
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পন্য ঋণ বা লোন আর ঋণ বিক্রি অন্য সকল পন্য বিক্রির মত নয় অন্য সকল পন্য ক্রেতাকে দিতে বা গছিয়ে দিতে পারলেই বিক্রেতার দায়িত্ব অনেকাংশে শেষ কিন্তু ঋণ এমন পন্য যা বিক্রয়ের পরে বিক্রয়োত্তর সেবা-সুশ্রসা করতে হয় ঋণ গ্রহীতা বা লোনের ক্রেতা ভাল থাকলে ঋণ ভাল ঋণের ক্রেতা যদি ভাল না থাকে তবে ঋণ ভাল থাকবে না মন্দ ঋণে বা ক্লাসিফাইড লোন হয়ে যাবে
একটি ঋণ বা লোন বিক্রয় করার পূর্বে ক্রেতা সম্পর্কে অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা সম্পর্কে ব্যাংকের ভাল ধারনা থাকতে হবে ব্যাংক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি সম্পর্কে ভাল ভাবে খোজ নিয়ে একটা সুন্দর মধুর সম্পর্ক তৈরী করে ঋণ নিতে আগ্রহী ব্যক্তির একটি হিসাব খুলে লেনদেন করতে বলা বা পূর্বের খোলা হিসাবের হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) বা লেনদেন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা আমার বন্ধু বিশিষ্ট ব্যাংকার মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু সবসময় বলতেন, একটি ভাল ঋণ হলো সুখি মানুষের জামার মত সারা রাজ্য ঘুরে যেমন সহজে সুখি মানুষের জামা মেলে না তেমনি ভাল ঋণ গ্রহীতাও মেলা ভার বন্ধু সবসময় বলতো, লেনদেন প্রতিবেদন দেখে ব্যাংক সন্তুষ্ট হলে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তির ( সি) ) (1) Character, (2) Capital, (3) Condition, (4) Collateral (5) Capacity অর্থাৎ ) চরিত্র, ) মূলধন, ) অবস্থা, ) জামানত ) সক্ষমতা এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা খুবই জরুরী একটা মানুষ চরিত্রবান না হলে তার বাকী পাঁচটি গুণ থেকেও লাভ নেই আর ঋণ গ্রহীতার মূলধন কেমন আছে, তার বর্তমান অবস্থা কেমন, ঋণ গ্রহণ করে সে তা সুদাসলে ফেরত দিতে পারবে কিনা, তার জামানত কেমন, তার সক্ষমতা আছে কিনা এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা শেষে যদি মনে হয় ভাল হবে তবেই ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে জামানত হিসাবে বন্ধক রাখার জন্য মূল্যবান জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে ব্যাংক মনোনিত একজন প্যানেল আইনজীবীকে দেন প্যানেল আইনজীবী কাগজপত্র ভালভাবে দেখে চেইন ডকুমেন্টস (জেনোলজি) মিলিয়ে জমির মালিকানা স্বত্ব নির্ধারণ করে একটি আইনগত মতামত প্রস্তত করে ব্যাংক বরাবর প্রেরণ করেন পর্যায়ে আইনজীবী সাহেবের প্রাথমিক কাজ শেষ এর পর ব্যাংক আইনজীবী সাহেবের দেয়া মতামতের কাগজ নিয়ে নিজেরা এবং থার্ড পার্টি (কোন সার্ভে প্রতিষ্ঠান) দিয়ে জমির মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) করেন অনেক ব্যাংক একজন প্রকৌশলী দ্বারা মূল্যায়ন করে থাকেন জমির মূল্য নির্ধারন করে দুই ভাবে একটি হলো জমির বাজার মূল্য জমির তৎক্ষণি বিক্রয় মূল্যমান (ফোর্স সেল ভ্যালু) নির্ধারণ করা অর্থাৎ জমির স্বাভাবিক বাজার মূল্য কত এবং তাৎক্ষণিক ভাবে বিক্রি করতে চাইলে কত টাকা বিক্রি করা যাবে তা নির্ধারণ করা তাৎক্ষণিক বিক্রয় মূল্যমান (ফোর্স সেল ভ্যালু) যা নির্ধারণ করা হয় তা থেকে অনেক কম অর্থাৎ নিরাপদ দুরত্বে থেকে ঋণ গ্রহনে আগ্রহী ব্যক্তিকে ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকেন
গ্রাহক এর নিকট থেকে সংগৃহীত কাগজপত্র ব্যাংক আইনজীবীর কাছে সরবরাহ করে, সেই সরবরাহকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই একজন আইনজীবী তার আইনগত মতামত দিয়ে থাকেন গ্রাহক যে কাগজপত্র সরবরাহ করলো (যেমন-বিভিন্ন খতিয়ানের পর্চা, মূল দলিল, মূল দলিল না থাকলে সইমোহরকৃত দলিল, খাজনার দাখিলা, ডিসিআর এর কপি, নির্দায় সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি) সেই কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা বা জাল কিনা তা যাচাই-বাছাই করার জন্য ব্যাংকের লোনস এন্ড এডভান্স এর অফিসার ভেটিং সার্চিং এর কাজ সম্পন্ন করে ভেটিং সার্চিংয়ের কাজ ব্যাংক নিজেই তার অফিসার দিয়ে বা কোন থার্ড পার্টি দিয়ে বা আইনজীবীর মাধ্যমে বা অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে করতে পারেন বা করেন সার্চিংয়ের কাজটি করার জন্য জেলা রেকর্ড শাখা, জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস, স্থানীয় ভূমি অফিস, ইউনিয়ন বা পৌরসভা, আয়কর অফিস, নির্বাচন অফিস সহ সংশ্লিষ্ট অফিস সমূহে যোগাযোগ করে তল্লাশির মাধ্যমে নিজ চোখে দেখে মূল্যায়ন দলিলপত্রের সঠিকতা যাচাই করে থাকেন 
ব্যাংকে অনেকেই জাল টাকা নিয়ে আসেন, ব্যাংকাররা সেই জাল নোট অনেক সময় ধরতে পারেন না, দিন শেষে হয় টাকা বান্ডিলে ঢুকে গ্রাহকের কাছে চলে যায় আর ধরা পরলে জমা দিতে আসা ব্যক্তির কাধে বা পরে ধরা পরলে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার ঘারে দায় চাপে ঠিক তেমনি, দলিল সঠিক না জাল, মিউটেশন ঠিক আছে কি নাই, খতিয়ানের পর্চা সঠিক না টেম্পারিং করা, খাজনা দাখিলা, ডিসিআর কপি, নির্দায় সনদ, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি ইত্যাদি কাগজপত্র যাচাই করার জন্য বেশিরভাগ সময়ই আইনজীবীর পক্ষে তহশিল অফিস, এসিল্যান্ড অফিস, জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস বা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস, ইউনিয়ন বা পৌরসভা কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় না এবং যাওয়ার কথাও না
একটা আইনগত মতামত এর জন্য আইনজীবীকে ব্যাংক (লোন গ্রহীতার কাছ থেকে নিয়ে) দুইশত টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকে এই সামান্য টাকার বিনিময়ে আইনজীবীকে পাঁচ থেকে দশ পাতার (ক্ষেত্র বিশেষ আরো বেশি) একটি আইনগত মতামত দিতে হয় এই সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আইনগত মতামতের সাথে সার্চিং ভেটিং কেউ আশা করে না এবং কেউ দেয়ও না সার্চিং ভেটিং এর কাজ আইনগত মতামতের সাথে সংযুক্ত নয় এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়
একটা ঋণের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসলো, কাগজপত্র দিল, আইনজীবী আইনগত মতামত দিয়ে দিল আর ব্যাংক গ্রাহককে শত কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দিলো এমনটা নয় ঋণ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি ব্যাংকে হিসাব খোলেন, লেনদেন করেন, লেনদেনের মাধ্যমে তার বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যাংক তার নৈতিক চরিত্র, তার ব্যবহার, তার ব্যবসা, তার প্রয়োজন, তার লেনদেন তার ঋণ ধারণ পরিশোধের ক্ষমতা ইত্যাদী নানান বিষয় ব্যাংক পরীক্ষা করে তাকে ঋণ দেয়ার কথা চিন্তা করে গ্রাহকের নিকট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করেন দীর্ঘ লেনদেন করার পরেও যে ব্যাংকার প্রতারক গ্রাহককে চিনতে পারলো না সেই গ্রাহককে কয়েকটি কাগজ দিয়ে কিভাবে চিনবে আইনজীবী? একটি নকল দলিল তো আসল ষ্ট্যাম্পে তৈরী করে, একটা নকল মিউটেশন তো আসল সিল মোহর দিয়েই তৈরী করে হাজার হাজার কর্মকর্তার স্বাক্ষর কি আইনজীবী সাহেবের চেনা? আর কাগজ জাল হোক আর আসল হোক উকিলের কাজ চেইন ডকুমেন্টস মিলিয়ে দেখা কাগজের সঠিকতা প্রমান করবে যার উপর সার্চিং ভেটিং এর দায়িত্ব সেই কর্মকর্তার বা ব্যক্তির
এবার বলি ঋণ কিভাবে খারাপ হয় সে বিষয়ে আমার ধারনা আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় দেখেছি গ্রহীতাকে ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংক আর কোন খবর রাখে না ঋণ পাস হওয়ার পর সেই ঋণ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সে নিয়মিত লেনদেন করবে, কিন্তু অর্থঋণ মামলা করার সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখেছি ঋণ পাস হওয়ার পর চেকের এক পাতা খরচ করে পুরো টাকা তুলে নিয়ে আর কোন যোগাযোগ করেনি এবং লেনদেনও করেনি ঋণ দেয়ার পর ঋণের কোন পরিচর্যা করেনি পরিচর্যা ছাড়া কোন কিছু কি ভাল হয়? পরিচর্যা ছাড়া কি কোন ভাল ফল পাওয়া যায়? পরিচর্যা ছাড়া বাগানে তো আগাছাই জন্মাবে তাই না? গ্রাহক কেন ব্যাংকে আসছে না, কেন লেনদেন করছে না, সেকি নিঃশেষ হয়ে গেছে? গেলে তাকে কিভাবে সহযোগীতা করে আবার দাড় করিয়ে টাকাটা আদায় করা যায়? সেই বিষয়ে ব্যাংকের অনেক দায়িত্ব আছে যা ব্যাংকারগণ করে না তারাতো অনেক ক্ষেত্রে ঋণ দিয়েই খালাস!!! ফলে ঋণ আর আদায় হয় না, ব্যাংকের গুনতে হয় শতকোটি টাকার লোকসান
অনেকে ব্যাংকের সেই লোকসানের দায় দিতে চান আইনজীবীর উপর যে কিনা মাত্র দুইশত পঞ্চাশ টাক থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে আইনগত মতামত দিয়েছেন মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে যে ব্যাংকারদের রাখা হয়েছে তদারকির জন্য তারা কি দায়ী নয় এই লোকসানের জন্য? কেন একজন বাজে লোককে ঋণ দেয়া হলো? কেন ঋণ দেয়ার পর তদারকি করা হলো না? ঋণের বন্ধকি দলিলে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নী দলিলে তো লিখে নিলেন আইনজীবীর মাধ্যমে যে, যে কোন সময় তদারকির জন্য ব্যাংককে তার ব্যবসা বাণিজ্য, গোডাউন, প্রকল্প পরিদর্ন করতে দিতে বাধ্য থাকিবেন আইনজীবী শত টাকার পারিশ্রমিক নিয়ে শত কোটি টাকার দায় কিভাবে নেবে? আসলে অন্যের ঘারে দায় চাপানোটা আমাদের অভ্যাষে পরিনত হয়ে গেছে
আবার অনাদায়ী ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয় অনেকে মনে করেন, আইনজীবী মামলায় সময় নিয়ে ঘুরায় এবং সময় ক্ষেপণ করেন আসলে কথাটা সত্যি নয় আমি বেশ কিছু মামলা পরিচালনা করেছি এবং এখনও করছি আমার যে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে তা থেকে বলছি, প্রত্যেক ব্যাংকই আইনজীবীকে ব্যাংকের নির্ধারিত সিডিউল দেখে বিল প্রদান করেন একটা মামলার জন্য বিভিন্ন বিষয় মিলে একটা বিল হয়ে উদাহরণ হিসাবে বলি, একটা মামলা পরিচালনার জন্য একশত টাকা বিল হলো পচিশ টাকা মামলাটা দায়ের করার পর আইনজীবীকে দেয়া হবে এর পর চুড়ান্ত শুনানীর আগে আরো পচিশ টাকা দিবে বাকী পঞ্চাশ টাকা দিবে রায় পাওয়ার পর এই মামলাটা যদি দশটা তারিখ ঘুরে নিষ্পত্তি হয় তাতে আইনজীবীকে একশত টাকাই দেবে দশটা টাকাও বেশি দেয়া হবে না আর যদি একশতটা তারিখ ঘুরে মামলাটি নিষ্পত্তি হয় তাতেও দশটা টাকা বাড়াবে বা কমাবে না টাইম পিটিশন বা হাজিরার জন্য কোন ফি ধার্য নাই মামলা দায়েরের সময়ই বিলের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় দশ দিনে মামলা শেষ হলে একশত টাকা আবার দশ বছর ঘুরে নিস্পত্তি হলেও একশত টাকা তাই মামলাটা ঘুরিয়ে আইনজীবীর কোন লাভ নাই বরং লস, দ্রুত নিস্পত্তি করতে পারলে পকেটে অবশিষ্ট টাকাটা আসবে, নিস্পত্তি যত দেরিতে বিল তত দেরিতে আর নিষ্পত্তি হলে বরং জারি মোকদ্দমার উদ্ভব হবে, আইনজীবী আবার নির্ধারিত ফি পাবে, নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জারি মোকদ্দমার উদ্ভব হবে না এবার বুঝুন এখানে আইনজীবীর কি কোন লাভ আছে? তাই অহেতুক দোষারোপ করে আইনজীবীকে হেয় করে কি লাভ?
আমি কিছু ব্যাংকের ঋণের বিষয় জানি ব্যাংকিং ব্যবসায় প্রধান প্রোডাক্ট কি, সবাই জানে ঋণ বা লোন, যা আগেও আলোচনা করেছি ব্যাংক লোন সেল করে এক সময় কিছু ব্যাংকের লোন সেল করতো ব্যাংকটির একটি ব্রাঞ্চের সামনের কয়েকজন দোকানদার কারো দুই লাখ টাকা ঋণ চাই, দোকানদার বললো, দুই লাখ নিবি কিরে! তোকে দশ লাখ তুলে দেই!! ব্যবসায়ী দুই লাখ খরচ করে দশ লাখ টাকা ব্যাংকের কাছ থেকে কিনে নিলো!! সেই যে গেল আর ফিরে এলো না!! ব্যবসায়ীর কথা, কে টাকা ফেরত দেব? আমিতো লোন কিনছি? কিন্তু তার অনৈতিক কথা কি আইন শুনবে? পরবর্তীতে কি হলো, সেই বিক্রয়কৃত ঋণের গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো অতঃপর জমি বিক্রয় করে, জেল খেটে বিভিন্ন ভাবে ঋণ পরিশোধ করলো, আবারও সহযোগীতা করলো সেই আইনজীবী!!
আইনজীবীদের কাজের উপর মহামান্য হাইকোর্ট বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আইনজীবীগণ যেহেতু প্রদত্ত কাগজের উপর মূল্যায়ন করেন তাই একজন আইন উপদেষ্টা তার আইনগত অভিমতের জন্য দায়ী নয়
প্রসঙ্গে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বিচারপতি মোঃ নুরুল ইসলাম কর্তৃক আব্দুস সামাদ বনাম রাষ্ট মামলার [BLC (1996) page 63] জাজমেন্টে বলেছেন, “A Legal Adviser cannot be made liable for the offence of forgery and criminal breach of trust for giving his legal opinion.”
অনেকতো বললাম, এবার বাস্তবতায় আসি বাস্তবকে অস্বীকার করার ক্ষমতা কারো নেই, আমারতো নেই- বাস্তব ঘটনা হলো ভালো মন্দ সব জায়গায়ই আছে ভাল ব্যাংকার যেমন আছে তেমনি ভাল আইনজীবীও আছে খারাপ ব্যাংকার যেমন আছে তেমনি খারাপ আইনজীবীও আছে ভাল ঋণ গ্রহীতা যেমন আছে, তেমনি ঋণ গ্রহীতা খারাপও আছে সবাই সমান নয়, ভাল মন্দ সবজায়গায়ই বিরাজমান আইনগত মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে, বন্ধকনামা দলিল, অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নী দলিলসহ বিভিন্ন দলিল পত্র মুসাবিদা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আইনজীবীকে সততার তপ্ত কড়াইয়ের উপর বসে বরফ শীতল ঠান্ডা মাথায় যেমন কাজ গুলো করা উচিত তেমনি ব্যাংকারদের উচিত সঠিক গ্রাহক বাছাই করা, গ্রাহককে যথাযথ পরিচর্যা করা, গ্রাহক কর্তৃক সরবরাহকৃত তথ্য, উপাত্ত, দলিল দস্তাবেজ ভালভাবে যাচাই বাছাই করা এবং সত্যিকারের ব্যবসায়ী-গ্রাহককে ঋণ দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা দেশের অর্থনীতিকে সবল রাখা
আমার এই লেখা কোন সাফাই গাওয়ার জন্য নয় ব্যাংকার গ্রহকদের মনে কষ্ট দেয়ার জন্যও নয় বাস্তবতার আলোকে আমার পর্যবেক্ষণ পাঠকের সাথে শেয়ার করলাম মাত্র আমার লেখায় কেউ মনে কষ্ট পেলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত

হাত

তোমার হাত দুটো এমন কেন?
দেখতে আর পাঁচ-দশটা হাতের মতই!
পাঁচটা করে দশটাইতো আঙ্গুল।

সারা দিন কঠোর খাটুনি,
এটা ওটা করে কাটে বেলা
কঠোর পরিশ্রমে রুক্ষ, শুস্ক, মলিন হাত জোড়া
সংসার সামলাতে সামলাতে যত্ন নেয়ার সময় কই!

হাতের ত্বক থেকে কোমলতা খসে খসে পড়ে,
নিরন্তর পরিশ্রমের ফাঁকে কখনো দেখি না
এতটুকু আক্ষেপ, এতটুকু হতাশা!

সেই হাত যখনই ছুয়ে যায়
এমন কোমলতা ভাবা যায় না!
সেই হাত যখনই ছুয়ে যায়
এমন মমতার আবরণ, বুঝি শুধু অনুভবে!
সেই হাত যখনই ছুয়ে যায়
স্বর্গীয় সুখ এনে দেয় হাতের তালুতে!
সেই হাত যখনই ছুয়ে দেয়
আমি মখমলের কোমলতার আবেশে জড়াই!
এ কেমন তোমার হাত!

সেই হাত আমায় ঘুম পাড়ায়
সেই হাত আমার ঘুম ভাঙ্গায়
সেই হাত আমায় অন্ন দেয়
সেই হাত আমায় আগলে রাখে
সেই হাত আমায় প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়
সেই হাত আমায় মোহিত করে
এ কেমন তোমার হাত!

সেই হাত আমায় বার বার কাছে টানে
সেই হাত আমায় বার বার ফিরিয়ে দেয়
সেই হাত আমার বিজয়ে উচিয়ে ধরে
সেই হাত আমার অধিকার আদায়ে প্রতিবাদী হয়
সেই হাত আমার বিপথ গামিতা রুখে দেয়
সেই হাত আমার শাসন করে
সেই হাতের সোহাগে আমি পূলকিত!

এ কেমন তোমার হাত!
দেখতে আর দশটা হাতের মতই!
পাঁচটা করে দশটাইতো আঙ্গুল।

আমি সেই হাতের আবেশে জড়িয়ে থাকতে চাই,
সেই হাত যেন আমার হাতছাড়া না হয়!
আমি সেই হাতের আবেশে জড়িয়ে থাকতে চাই!
সেই হাত আমার আজ বড় প্রয়োজন!!

০৯ অক্টোবর ২০১৬

Saturday, October 8, 2016

সময়

সময় যখন প্রতিপক্ষ
ছুতে পারি না কোন লক্ষ্য।
পকেট ফসকে যায় টাকা
মাথা ফসকে ব্রেন ফাক।
হৃদয় ঘাটি মন ফাক
ক্যানভাস সাদা রঙ্গে আকা।
শুন্য পকেট শুন্য মাথা
শুন্য হৃদয় শুন্য খাতা
পূর্ণ হোক পূর্ব হোক
আনন্দে কাটুক শোক...

06 October, 2012

ই‌চ্ছে ক‌রে

ই‌চ্ছে ক‌রে চাপা‌তি হা‌তে বে‌রি‌য়ে প‌রি
ই‌চ্ছেমত কু‌পি‌য়ে কু‌পি‌য়ে কিমা বানাই,
ভয় পে‌য়ো না হও য‌দি আম জনতা
‌তোমার জন্য দা‌ড়ি‌য়ে আ‌ছে সোনার ছে‌লে,
যখনই মন ব‌লে কোপা সামসু
‌কেউ যেন ব‌লে ব‌সে, থাম, জিরা পা‌নি খা,
ই‌চ্ছে ক‌রে বাধন ছি‌রি, গু‌ড়ি‌য়ে ফে‌লি অসঙ্গ‌তি, জঞ্জাল
মন ব‌লে লাভ কি, পিছন ফি‌রে দেখ সবাই প্রস্তুত
মহু‌র্তেই তোর ভি‌ডিও ভাইরাল, নিন্দার ঝর বই‌বে
সা‌থে দমকা হাওয়া, ভাঙ্গ‌বি তুইই,
অত:পর র‌নেভঙ্গ, এটা তোর কাজ না,
তুই থাক তোর ভুব‌নে, ঐ দেখ আস‌ছে,
এবার তুই কিমা হ

Wednesday, July 13, 2016

কুকুর-বিড়াল-বৃদ্ধ-মহিলা-শিশু-গরু-গন্ড মূর্খ দেখলে সাবধান!!

যারা গাড়ি চালান অর্থাৎ বাই সাইকেল থেকে শুরু করে ভারী যানবাহন (রেল গাড়ি ছাড়া!) তারা সবসময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকেন। নিজেতো সতর্ক থাকেনই শুভাকাক্সিখদের, পরিচিত জনদেরও সর্বদা সতর্ক করেন।
সবসময় বলেন, সাবধানে গাড়ি চালিও! যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে! সতর্ক দৃষ্টি রাখবা গাড়ি চালানোর সময়!
রাস্তা দেখে শুনে চলবা! হঠাৎ কোন কিছু সামনে চলে আসতে পারে বা পিছন থেকে ধাক্কা দিতে পারে তাই দেখে শুনে চলবা।
কুকুর বিড়াল থেকে সাবধান! যে কোন সময় গাড়ির সামনে কুকুর বিড়াল চলে আসবে। কুকুর বিড়ালের লোমের কারনে সহজে গাড়ির চাকা তাদের উপর দিয়ে উঠে না। আর যদি উঠেযায় তবে চাকা পিছলে গিয়ে দুর্ঘনটা ঘটে থাকে তাই সাবধান থাকা জরুরী।
গরু ছাগল কিন্তু আৎকা দৌর মারে!! গরু ছাগল রাস্তায় চলার সময় ডান বাম দেখে না। চিন্তা ভাবনার ক্ষমতা যেহেতু তাদের নাই তাইতো তাদের বলদ বলে। সেই গরু ছাগল দেখে শুনে চলবা।
বুড়া মানুষ কিন্তু কানে কম শোনে!! বৃদ্ধ মানুষ কানে কম শোনে। শারীরিক অক্ষমতার কারনে সে দ্রুত রাস্তা পারাপার হতে পারে না। চোখেও ঝাপসা দেখে। নানা সমস্যার কারনে বৃদ্ধ মানুষকে সম্মান দেখিয়ে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে।
শিশুরা কিন্তু হঠাৎ দৌড় দেয়!! শিশুরা তো কোমল। তাদের সাত পাঁচ ভাবার সময় কই! রাস্তা ঘাটে শিশুরা মনে যা চায় তাই করে। যে কোন সময় অভিভাবকের হাত থেকে ছুটে দৌর মারতে পারে। একা একাই রাস্তায় এসে পড়তে পারে। আর মহিলারাও রাস্তা পারাপারের সময় একটু বেখায়ালী হয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই পথ চলবা।
পাগলের কিন্তু মাথা ঠিক নাই!!! পাগল তো পাগলই! পাগলের মাথা ঠিক থাকলে কি সে পাগল হতো। কথায় বলে না? পাগলে কি না খায়, পাগলে কি না করে? তাই পাগল দেখলে সাবধান! পাগল যে কোন মূহুর্তে যে কোন কিছু করে বসতে পারে। তাই সাবধানে গাড়ি চালাবে, ইত্যাদী ইত্যাদী।
আমার অভিজ্ঞতায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে সেটা হচ্ছে গরু-ছাগলের মতই একটা প্রাণী আছে তা হলো গন্ডো মূর্খ। এই গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান হতে হবে।
ঈদুল ফিতরের আগের রাতে আমি মটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছি। গাড়ি থেকে পড়ে দুই হাটু ছুলে গেছে। দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে ছুলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমার বাম চোখের কোনায়। বাম চোখের ভ্রæর উপরে এবং বাম চোখের কোনায় পিচ ঢালা রাস্তার ঘষায় ত্বক উঠে গেছে। মারাত্মক যন্ত্রনায় স্থানীয় কিছু বিবেকবান মানুষ আমাকে তুলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্মীরা আমার ক্ষত জায়গাগুলো ধুয়ে মুছে ঔষধ লাগিয়ে দিয়েছে। বন্ধু ডাক্তার মাহবুবুল হক আমায় হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে ঔষধ কিনে বাসায় পৌছে দেয়। আস্তে আস্তে শুরু হয় ব্যাথা। চোখ ফুলে ঢোল! ফুলার চোটে চোখের সাটার বন্ধ হয়ে গেল! এক চোখ দিয়ে দেখার যে কি যন্ত্রনা তা অনুভব করলাম। দুই দিন লাগলো চোখের ফুলা কমতে। আস্তে আস্তে চোখ খুলে এখন দুচোখেই দুনিয়া দেখি। ঘা এখনও শুকায়নি। ঘা শুকাতে অন্তত মাস খানেক লাগবে। ত্বক আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা আমি জানি না। ত্বকের সৌন্দর্য ফিরা নিয়ে আমার তেমন কোন দুশ্চিন্তাও নেই। এই কালো মুখের (পোড়া মুখের নয়!!) কালো ত্বক আর নতুন করে কি সুন্দর হবে?
এবার আসি আমার দুর্ঘটনার কথায়। ঈদুল ফিতরের আগের রাত সাড়ে দশটার দিকে আমি আর আমার বন্ধু ডাক্তার মাহাবুবুল হক কোর্ট এলাকা থেকে চা সেবা করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। ডাক্তারকে হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। চৌরঙ্গীর মোড় থেকে কিছুদুর আসার পর দুর থেকে দেখলাম ইটালী প্লাজার সামনে দাড়িয়ে এক ব্যক্তি ভ্যানে করে চটপটি-ফুসকা বিক্রি করছে। ফুচকাওয়ালার চারপাশে ছয়-সাতটি কুকুর ঘোরাঘুরি করছে। আমি এগিয়ে আসছি আর দেখছি দৃশ্যটা। আমি যখন ফুচকাওয়ালার কাছাকাছি আসি ঠিক তখনই ফুচকাওয়ালা একটা লাঠি হাতে নিয়ে কুকুরগুলোকে কুকুরের মত তাড়া দেয়!! জ্ঞান শুন্য কুকুরগুলো ভয়ে দিক বিদিক ছোটে জীবনের ভয়ে। কথায় বলে না, মাইরেরে ভয় পায় পাগলেও! একটা সুঠাম দেহী কুকুর দৌরে এসে আমার মোটর সাইকেলের সামনের চাকায় এসে ধাক্কা খায়! ব্যাস!! অমনি আমার গাড়ি বাম দিকে কাত হয়ে পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে গড়িয়ে যেতে থাকে। আমি হলাম ভারী জানবাহনের মত! মোটা মানুষ! তাই কিছুদুর ছেচড়ে গিয়ে অতপর ঘর্ষণজনিত কারনে গতি থেমে যায়! ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেল। আমার বাম পা গাড়ির নিচে। দেহ জাগিয়ে সহযোগীতার জন্য অপেক্ষা করছি কারন নিজে উঠার শক্তি পাচ্ছি না। বেকুব ফুচকাওয়ালা আমাকে টেনে তোলার জন্য এগিয়ে না এসে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে! আমি তাকে ধমক দিয়ে বললাম, বেটা তোল আমাকে। এর পর সে আমার কাছে এগিয়ে আসলো। ফুচকাওয়ালা আসতে আসতে আসপাশের দোকান থেকে দুর্ঘটনার শব্দ পেয়ে লোকজন ছুটে আসলো। আমাকে প্রথমে রাস্তা থেকে তুলে পাশের একটা দোকানের সিড়িতে বসালো। আমার গাড়িটা রাস্তা থেকে তুলে এনে দোকানের সামনে লক করে গাড়ির চাবিটা একজনের হেফাজতে রেখে আমাকে জানালো যে চাবি তাদের কাছে আছে। আমি কপালের বাম দিকে যন্ত্রনা অনুভব করে হাত দিয়ে ধরে দেখি হাত রক্তে লাল হয়ে গেছে। মাথাটা ডানে ঘুরলো না বামে ঘুরলো জানিনা, অনুভব করলাম মাথা ঘুরাচ্ছে!! হাত গড়িয়ে এবং কপালের রক্ত কপল বেয়ে পড়া দেখে দোকানদার ভাই এক মুঠো টিসু পেপার এনে দিলে আমি টিসু পেপারগুলো একসাথে চেপে ধরলাম কপালের ক্ষতস্থানে। চৌত্র মাসে মাঠের শুস্ক মাটি যেমন পানি পেলে শুশে নেয়, মূহুর্তের মধ্যে টিসু পেপার ভিজে চপচপা হয়ে গেল। আমার উদ্ধারকারীরা রিক্সা ডাকাডাকি করছে আমি শুনতে পাচ্ছি। এরই মাঝে একটা রিক্সা পাওয়া গেল। উদ্ধারকারীদের একজন আমাকে ধরে রিক্সায় উঠিয়ে তার ভাগিনাকে ফোনে বললো একটু দোকানে গিয়া বয় আমি ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। রিক্সায় বসে আমাকে ধরে রাখছে, এরই মধ্যে আমি আমার ফোন বের করে ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিলাম। বলে রাখা ভাল, আমার ডাক্তার বন্ধু দশবার ফোন দিলে একবার ধরে, মাঝে মাঝে ধরেও না! আমার ভাগ্য ভাল, ফোন দেয়ার সাথেই ফোন রিসিভ করলো এবং আমি তাকে বিষয়টি জানালাম। ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ি হাসপাতালের পাশেই। সে দ্রুত হাসপাতালে আসলো। আমাকে রিক্সা থেকে ধরে নামিয়ে রিক্সার ভাড়া সেই পরিশোধ করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেল। আমাকে ডাক্তার বন্ধুর কাছে দিয়ে সাথে আগন্তুক বন্ধু চলে গেল। তার সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা নাই। ধন্যবাদ বন্ধু। ডাক্তার বন্ধু আমাকে জরুরী বিভাগের বেডে বসিয়ে দিয়ে লোক ডাকলো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিল। জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার ছিল সুমন পোদ্দার। ঈদের কারনে সকল ডাক্তার ছুটিতে যাওয়ায় টানা তিন দিন তার উপরই জরুরী বিভাগের দায়িত্ব পড়েছে বলে সে কথার ফাকে জানালো। এর পর একে একে আমার রক্তাক্ত স্থানগুলো প্রথমে পরিস্কার পানি দিয়ে মুছে দিল এবং পরে ক্ষতস্থানগুলোতে তরল ঔষধ লাগিয়ে দিল। ঔষধ এক এক স্থানে দেয় আর সেই স্থানে একেকটা কামড়ের মত যন্ত্রনা অনুভ‚ত হয়! ছোট হলে চিৎকার দিতাম কিন্তু বয়স বিবেচনায় চিৎকার দিতেও পারছি না, পাছে লোকে যদি হাসে। ডাক্তার সুমন পোদ্দার বন্ধু মাহবুবকে জিজ্ঞাস করলো, স্যার ব্যাথা নাশক ইনজেকশন দিয়ে দেব? কথাটা শুনে আমার মনে হলো, যদি দেয় তবে দুর্ঘটনার থেকেও বেশি আহত হব! আমি তাদের কথপোকথন শুনে বললাম, ইনজেকশন নেব না খাওয়ার ঔষধ যা লাগে দিতে পারো! শুনে দুজনেই হাসলো। বন্ধু মাহবুব সুমন পোদ্দারকে বললো, ইনজেকশনকে ভয় পায় এ কারনে আমি হাজার বার বলার পরেও আজ পর্যন্ত সে জন্ডিসের টিকা দিতে পারেনি, বলে দুজনেই হাসলো। বন্ধু মাহবুব আমায় জিজ্ঞাস করলো আর কোথাও ব্যাথা অনুভব হচ্ছে কিনা, কেমন লাগছে, কোন অ¯^াভাবিকতা অনুভব হচ্ছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বললাম একটু জ্বলে! একটু ব্যাথাও করে। শুনে বন্ধু বললো ওটা কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে। কয়েকদিন সময় লাগবে। আমি বাড়িতে ফোন দিয়ে যানাতে যাব তখন বন্ধু বললো ফোন দেয়ার দরকার নাই, তুই যথেষ্ট ভাল আছিস। ফোন দিলে সবাই চিন্তা করবে, শুধু শুধু ফোন দিয়ে তাদের চিন্তা বাড়িয়ে কি লাভ!! ভাল আছি কথাটা শুনে একটু সাহস বাড়লো। ডাক্তার যেহেতু দেখে বলছে ভাল আছিস তাহলে আর খারাপ থাকি ক্যামনে!! পরে বেড থেকে নামিয়ে আমাকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনল। এর পর একটা রিক্সা ডেকে দুজনে গেলাম দুর্ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখি গাড়ি লক করাই আছে। রিক্সা থেকে নেমে আমি গাড়ি চালু করে দেখি গাড়ির কোন ক্ষতি হয়নি, চলছে। বন্ধু বললো চালাতে পারবি? আমি বললাম পারবো। বন্ধু রিক্সাটা না ছেড়ে আমায় বললো তুই আস্তে আস্তে চালিয়ে যা আমি রিক্সা নিয়ে তোর পিছন পিছন আসি। আমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে বন্ধু রিক্সাটা নিয়ে চলে গেল, এই না হলো বন্ধু। এখানে বলে রাখা ভাল, আমার জীবণে দুর্ঘটনা যাতীয় সকল সময় এবং সকল অসুস্থ্যতার সময় আমার বন্ধু আমার পাশে থেকেছে একারনে তার প্রতি কৃতজ্ঞতাটাও আমার আকাশ সীমা পর্যন্ত।
নিজের কথাতো অনেক বললাম! এই ঘটনায় আমার অভিজ্ঞতার কথাটা এবার বলে শেষ করি। সবাই বলে কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, পাগল, শিশু, বৃদ্ধ হতে সাবধান! আমি মনে করি, গরু ছাগলের মত গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান থাকা দরকার। কারন, ফুচকাওয়ালা কুকুর গুলোকে এমন সময় তাড়া না দিলেও পারতো! তার বিবেক বিবেচনা থাকলে বোঝা উচিত ছিল, তাড়া খেয়ে কুকুরগুলো ছুটে গিয়ে আমার মোটর সাইকেলে ধাক্কা খাবে, আমি যদি না থাকতাম, যদি একজন পথচারি থাকতো তবে কুকুর গুলো পথচারীর সাথে ধাক্কা খেয়ে তার পায়ে কামড় বসিয়ে দিতে পারতো। যদি বড় গাড়ি এসে পড়তো তবে কুকুর বড় গাড়ির চাকার নিচে গেলে চাকা পিছলে গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারতো! তাই কুকুর তাড়া দেয়ার সময় তার আশেপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখা উচিত চিল। এখন আমার কাছে কুকুরের বিবেচনা আর ফুচকাওয়ালার বিবেচনা একই মনে হলো। তাই গরুর সাথে গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি! সমস্যা হলো দেখেতো আর গন্ড মূর্খ চেনা যায় না!!!
13.07.2016

কুকুর-বিড়াল-বৃদ্ধ-মহিলা-শিশু-গরু-গন্ড মূর্খ দেখলে সাবধান!!




যারা গাড়ি চালান অর্থাৎ বাই সাইকেল থেকে শুরু করে ভারী যানবাহন (রেল গাড়ি ছাড়া!) তারা সবসময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকেন। নিজেতো সতর্ক থাকেনই শুভাকাক্সিখদের, পরিচিত জনদেরও সর্বদা সতর্ক করেন।
সবসময় বলেন, সাবধানে গাড়ি চালিও! যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে! সতর্ক দৃষ্টি রাখবা গাড়ি চালানোর সময়!
রাস্তা দেখে শুনে চলবা! হঠাৎ কোন কিছু সামনে চলে আসতে পারে বা পিছন থেকে ধাক্কা দিতে পারে তাই দেখে শুনে চলবা।
কুকুর বিড়াল থেকে সাবধান! যে কোন সময় গাড়ির সামনে কুকুর বিড়াল চলে আসবে। কুকুর বিড়ালের লোমের কারনে সহজে গাড়ির চাকা তাদের উপর দিয়ে উঠে না। আর যদি উঠেযায় তবে চাকা পিছলে গিয়ে দুর্ঘনটা ঘটে থাকে তাই সাবধান থাকা জরুরী।
গরু ছাগল কিন্তু আৎকা দৌর মারে!! গরু ছাগল রাস্তায় চলার সময় ডান বাম দেখে না। চিন্তা ভাবনার ক্ষমতা যেহেতু তাদের নাই তাইতো তাদের বলদ বলে। সেই গরু ছাগল দেখে শুনে চলবা।
বুড়া মানুষ কিন্তু কানে কম শোনে!! বৃদ্ধ মানুষ কানে কম শোনে। শারীরিক অক্ষমতার কারনে সে দ্রুত রাস্তা পারাপার হতে পারে না। চোখেও ঝাপসা দেখে। নানা সমস্যার কারনে বৃদ্ধ মানুষকে সম্মান দেখিয়ে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে।
শিশুরা কিন্তু হঠাৎ দৌড় দেয়!! শিশুরা তো কোমল। তাদের সাত পাঁচ ভাবার সময় কই! রাস্তা ঘাটে শিশুরা মনে যা চায় তাই করে। যে কোন সময় অভিভাবকের হাত থেকে ছুটে দৌর মারতে পারে। একা একাই রাস্তায় এসে পড়তে পারে। আর মহিলারাও রাস্তা পারাপারের সময় একটু বেখায়ালী হয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই পথ চলবা।
পাগলের কিন্তু মাথা ঠিক নাই!!! পাগল তো পাগলই! পাগলের মাথা ঠিক থাকলে কি সে পাগল হতো। কথায় বলে না? পাগলে কি না খায়, পাগলে কি না করে? তাই পাগল দেখলে সাবধান! পাগল যে কোন মূহুর্তে যে কোন কিছু করে বসতে পারে। তাই সাবধানে গাড়ি চালাবে, ইত্যাদী ইত্যাদী।
আমার অভিজ্ঞতায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে সেটা হচ্ছে গরু-ছাগলের মতই একটা প্রাণী আছে তা হলো গন্ডো মূর্খ। এই গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান হতে হবে।
ঈদুল ফিতরের আগের রাতে আমি মটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছি। গাড়ি থেকে পড়ে দুই হাটু ছুলে গেছে। দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে ছুলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমার বাম চোখের কোনায়। বাম চোখের ভ্রæর উপরে এবং বাম চোখের কোনায় পিচ ঢালা রাস্তার ঘষায় ত্বক উঠে গেছে। মারাত্মক যন্ত্রনায় স্থানীয় কিছু বিবেকবান মানুষ আমাকে তুলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্মীরা আমার ক্ষত জায়গাগুলো ধুয়ে মুছে ঔষধ লাগিয়ে দিয়েছে। বন্ধু ডাক্তার মাহবুবুল হক আমায় হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে ঔষধ কিনে বাসায় পৌছে দেয়। আস্তে আস্তে শুরু হয় ব্যাথা। চোখ ফুলে ঢোল! ফুলার চোটে চোখের সাটার বন্ধ হয়ে গেল! এক চোখ দিয়ে দেখার যে কি যন্ত্রনা তা অনুভব করলাম। দুই দিন লাগলো চোখের ফুলা কমতে। আস্তে আস্তে চোখ খুলে এখন দুচোখেই দুনিয়া দেখি। ঘা এখনও শুকায়নি। ঘা শুকাতে অন্তত মাস খানেক লাগবে। ত্বক আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা আমি জানি না। ত্বকের সৌন্দর্য ফিরা নিয়ে আমার তেমন কোন দুশ্চিন্তাও নেই। এই কালো মুখের (পোড়া মুখের নয়!!) কালো ত্বক আর নতুন করে কি সুন্দর হবে?
এবার আসি আমার দুর্ঘটনার কথায়। ঈদুল ফিতরের আগের রাত সাড়ে দশটার দিকে আমি আর আমার বন্ধু ডাক্তার মাহাবুবুল হক কোর্ট এলাকা থেকে চা সেবা করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। ডাক্তারকে হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। চৌরঙ্গীর মোড় থেকে কিছুদুর আসার পর দুর থেকে দেখলাম ইটালী প্লাজার সামনে দাড়িয়ে এক ব্যক্তি ভ্যানে করে চটপটি-ফুসকা বিক্রি করছে। ফুচকাওয়ালার চারপাশে ছয়-সাতটি কুকুর ঘোরাঘুরি করছে। আমি এগিয়ে আসছি আর দেখছি দৃশ্যটা। আমি যখন ফুচকাওয়ালার কাছাকাছি আসি ঠিক তখনই ফুচকাওয়ালা একটা লাঠি হাতে নিয়ে কুকুরগুলোকে কুকুরের মত তাড়া দেয়!! জ্ঞান শুন্য কুকুরগুলো ভয়ে দিক বিদিক ছোটে জীবনের ভয়ে। কথায় বলে না, মাইরেরে ভয় পায় পাগলেও! একটা সুঠাম দেহী কুকুর দৌরে এসে আমার মোটর সাইকেলের সামনের চাকায় এসে ধাক্কা খায়! ব্যাস!! অমনি আমার গাড়ি বাম দিকে কাত হয়ে পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে গড়িয়ে যেতে থাকে। আমি হলাম ভারী জানবাহনের মত! মোটা মানুষ! তাই কিছুদুর ছেচড়ে গিয়ে অতপর ঘর্ষণজনিত কারনে গতি থেমে যায়! ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেল। আমার বাম পা গাড়ির নিচে। দেহ জাগিয়ে সহযোগীতার জন্য অপেক্ষা করছি কারন নিজে উঠার শক্তি পাচ্ছি না। বেকুব ফুচকাওয়ালা আমাকে টেনে তোলার জন্য এগিয়ে না এসে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে! আমি তাকে ধমক দিয়ে বললাম, বেটা তোল আমাকে। এর পর সে আমার কাছে এগিয়ে আসলো। ফুচকাওয়ালা আসতে আসতে আসপাশের দোকান থেকে দুর্ঘটনার শব্দ পেয়ে লোকজন ছুটে আসলো। আমাকে প্রথমে রাস্তা থেকে তুলে পাশের একটা দোকানের সিড়িতে বসালো। আমার গাড়িটা রাস্তা থেকে তুলে এনে দোকানের সামনে লক করে গাড়ির চাবিটা একজনের হেফাজতে রেখে আমাকে জানালো যে চাবি তাদের কাছে আছে। আমি কপালের বাম দিকে যন্ত্রনা অনুভব করে হাত দিয়ে ধরে দেখি হাত রক্তে লাল হয়ে গেছে। মাথাটা ডানে ঘুরলো না বামে ঘুরলো জানিনা, অনুভব করলাম মাথা ঘুরাচ্ছে!! হাত গড়িয়ে এবং কপালের রক্ত কপল বেয়ে পড়া দেখে দোকানদার ভাই এক মুঠো টিসু পেপার এনে দিলে আমি টিসু পেপারগুলো একসাথে চেপে ধরলাম কপালের ক্ষতস্থানে। চৌত্র মাসে মাঠের শুস্ক মাটি যেমন পানি পেলে শুশে নেয়, মূহুর্তের মধ্যে টিসু পেপার ভিজে চপচপা হয়ে গেল। আমার উদ্ধারকারীরা রিক্সা ডাকাডাকি করছে আমি শুনতে পাচ্ছি। এরই মাঝে একটা রিক্সা পাওয়া গেল। উদ্ধারকারীদের একজন আমাকে ধরে রিক্সায় উঠিয়ে তার ভাগিনাকে ফোনে বললো একটু দোকানে গিয়া বয় আমি ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। রিক্সায় বসে আমাকে ধরে রাখছে, এরই মধ্যে আমি আমার ফোন বের করে ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিলাম। বলে রাখা ভাল, আমার ডাক্তার বন্ধু দশবার ফোন দিলে একবার ধরে, মাঝে মাঝে ধরেও না! আমার ভাগ্য ভাল, ফোন দেয়ার সাথেই ফোন রিসিভ করলো এবং আমি তাকে বিষয়টি জানালাম। ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ি হাসপাতালের পাশেই। সে দ্রুত হাসপাতালে আসলো। আমাকে রিক্সা থেকে ধরে নামিয়ে রিক্সার ভাড়া সেই পরিশোধ করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেল। আমাকে ডাক্তার বন্ধুর কাছে দিয়ে সাথে আগন্তুক বন্ধু চলে গেল। তার সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা নাই। ধন্যবাদ বন্ধু। ডাক্তার বন্ধু আমাকে জরুরী বিভাগের বেডে বসিয়ে দিয়ে লোক ডাকলো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিল। জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার ছিল সুমন পোদ্দার। ঈদের কারনে সকল ডাক্তার ছুটিতে যাওয়ায় টানা তিন দিন তার উপরই জরুরী বিভাগের দায়িত্ব পড়েছে বলে সে কথার ফাকে জানালো। এর পর একে একে আমার রক্তাক্ত স্থানগুলো প্রথমে পরিস্কার পানি দিয়ে মুছে দিল এবং পরে ক্ষতস্থানগুলোতে তরল ঔষধ লাগিয়ে দিল। ঔষধ এক এক স্থানে দেয় আর সেই স্থানে একেকটা কামড়ের মত যন্ত্রনা অনুভ‚ত হয়! ছোট হলে চিৎকার দিতাম কিন্তু বয়স বিবেচনায় চিৎকার দিতেও পারছি না, পাছে লোকে যদি হাসে। ডাক্তার সুমন পোদ্দার বন্ধু মাহবুবকে জিজ্ঞাস করলো, স্যার ব্যাথা নাশক ইনজেকশন দিয়ে দেব? কথাটা শুনে আমার মনে হলো, যদি দেয় তবে দুর্ঘটনার থেকেও বেশি আহত হব! আমি তাদের কথপোকথন শুনে বললাম, ইনজেকশন নেব না খাওয়ার ঔষধ যা লাগে দিতে পারো! শুনে দুজনেই হাসলো। বন্ধু মাহবুব সুমন পোদ্দারকে বললো, ইনজেকশনকে ভয় পায় এ কারনে আমি হাজার বার বলার পরেও আজ পর্যন্ত সে জন্ডিসের টিকা দিতে পারেনি, বলে দুজনেই হাসলো। বন্ধু মাহবুব আমায় জিজ্ঞাস করলো আর কোথাও ব্যাথা অনুভব হচ্ছে কিনা, কেমন লাগছে, কোন অ¯^াভাবিকতা অনুভব হচ্ছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বললাম একটু জ্বলে! একটু ব্যাথাও করে। শুনে বন্ধু বললো ওটা কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে। কয়েকদিন সময় লাগবে। আমি বাড়িতে ফোন দিয়ে যানাতে যাব তখন বন্ধু বললো ফোন দেয়ার দরকার নাই, তুই যথেষ্ট ভাল আছিস। ফোন দিলে সবাই চিন্তা করবে, শুধু শুধু ফোন দিয়ে তাদের চিন্তা বাড়িয়ে কি লাভ!! ভাল আছি কথাটা শুনে একটু সাহস বাড়লো। ডাক্তার যেহেতু দেখে বলছে ভাল আছিস তাহলে আর খারাপ থাকি ক্যামনে!! পরে বেড থেকে নামিয়ে আমাকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনল। এর পর একটা রিক্সা ডেকে দুজনে গেলাম দুর্ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখি গাড়ি লক করাই আছে। রিক্সা থেকে নেমে আমি গাড়ি চালু করে দেখি গাড়ির কোন ক্ষতি হয়নি, চলছে। বন্ধু বললো চালাতে পারবি? আমি বললাম পারবো। বন্ধু রিক্সাটা না ছেড়ে আমায় বললো তুই আস্তে আস্তে চালিয়ে যা আমি রিক্সা নিয়ে তোর পিছন পিছন আসি। আমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে বন্ধু রিক্সাটা নিয়ে চলে গেল, এই না হলো বন্ধু। এখানে বলে রাখা ভাল, আমার জীবণে দুর্ঘটনা যাতীয় সকল সময় এবং সকল অসুস্থ্যতার সময় আমার বন্ধু আমার পাশে থেকেছে একারনে তার প্রতি কৃতজ্ঞতাটাও আমার আকাশ সীমা পর্যন্ত।
নিজের কথাতো অনেক বললাম! এই ঘটনায় আমার অভিজ্ঞতার কথাটা এবার বলে শেষ করি। সবাই বলে কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, পাগল, শিশু, বৃদ্ধ হতে সাবধান! আমি মনে করি, গরু ছাগলের মত গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান থাকা দরকার। কারন, ফুচকাওয়ালা কুকুর গুলোকে এমন সময় তাড়া না দিলেও পারতো! তার বিবেক বিবেচনা থাকলে বোঝা উচিত ছিল, তাড়া খেয়ে কুকুরগুলো ছুটে গিয়ে আমার মোটর সাইকেলে ধাক্কা খাবে, আমি যদি না থাকতাম, যদি একজন পথচারি থাকতো তবে কুকুর গুলো পথচারীর সাথে ধাক্কা খেয়ে তার পায়ে কামড় বসিয়ে দিতে পারতো। যদি বড় গাড়ি এসে পড়তো তবে কুকুর বড় গাড়ির চাকার নিচে গেলে চাকা পিছলে গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারতো! তাই কুকুর তাড়া দেয়ার সময় তার আশেপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখা উচিত চিল। এখন আমার কাছে কুকুরের বিবেচনা আর ফুচকাওয়ালার বিবেচনা একই মনে হলো। তাই গরুর সাথে গন্ড মূর্খ হতেও সাবধান হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি! সমস্যা হলো দেখেতো আর গন্ড মূর্খ চেনা যায় না!!!
13.07.2016